৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

যে ৬ টি রোগের কথা সব মানুষই গোপন রাখতে চায়


গো নিউজ২৪ | স্বাস্থ্য ডেস্ক: আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার
যে ৬ টি রোগের কথা সব মানুষই গোপন রাখতে চায়

মানুষ যখন কোন জটিল রোগে আক্রান্ত হন তখন সুস্থতার জন্য চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি এটাও চান যে তার রোগটির বিষয়ে যেন অন্যরা না জানতে পারে! হ্যাঁ এটা শুধু ক্যান্সারের ক্ষেত্রেই নয় ডায়াবেটিস, মানসিক অসুস্থতা ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হলেও সাধারণ মানুষ এমনকি বিখ্যাত মানুষেরাও অন্যদের কাছে তা প্রকাশ করতে চান  না। চলুন তাহলে জেনে নিই এমন কিছু রোগের কথা যা মানুষ গোপন রাখতে চান।

১) ক্যান্সার: অ্যাপল এর সিইও স্টিভ জবস এর অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার যখন শনাক্ত হয় তখন তিনি এটি গোপন রেখেছিলেন। এর কারণ হতে পারে দুটি – এই সংবাদটি যেন তার প্রতিষ্ঠানের উপর কোন প্রভাব না ফেলে অথবা তিনি এটাকে একান্ত ব্যাক্তিগত বিষয় হিসেবেই রাখতে চেয়েছেন। কিন্তু অন্যদের এই রোগটি লুকানোর কারণ হচ্ছে অনুশোচনা, দোষারোপ বা লজ্জা। কিন্তু কেন? ৩ বার ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা এবং ক্যান্সার অ্যাডভোকেট ডাগ উলমান সম্প্রতি হাফিংটন পোষ্টকে বলেন, ‘ক্যান্সার নির্ণয় হলে ভয়, লজ্জা ও একঘরে হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়’। তিনি একটি গবেষণার উল্লেখ করে বলেন যে, মেক্সিকোর প্রতি তিন জনে একজন মানুষ বিশ্বাস করেন যে, ‘কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তার মৃত্যু অনেক যন্ত্রণাদায়ক হয়’। এ কারণেই ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষ চান না তার কথা খুব বেশি মানুষ জানুক। কিন্তু এটি আসলে লুকানো উচিত নয়।

২)ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস ইউকে এর করা এক সাম্প্রতিক জরিপে জানা যায় যে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যুক্তরাজ্যের ৩৪ শতাংশ মানুষ এটাকে গোপন রাখতে চান। ৫৯ শতাংশ মানুষ তাদের কর্মক্ষেত্রে এই তথ্যটি গোপন রাখেন এবং ৫৬ শতাংশ মানুষ তাদের বন্ধুদের কাছ থেকেও লুকিয়ে রাখেন এই রোগটির কথা। কিন্তু কেন এমনটা হয়? বেশীরভাগ মানুষই বৈষম্যের ভয় পান এবং কেউ কেউ ভাবেন যে অন্যরা মনে করবে তারা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেন। ডা. হ্যারিসন বলেন, এই রোগটির কথা লুকানো উচিত নয়। কারণ এই রোগের কারণে আপনার জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে যেমন সময় মত অল্প খাবার গ্রহণ করা ও হাঁটাহাঁটি করা বা ইনসুলিন নেয়া। তাই ডায়াবেটিসের কথা আপনি যদি না বলেন তাহলে অন্যরা বরং কৌতূহলী হতে পারে আপনার পরিবর্তন দেখে। বলে দিলে বরং আপনি অন্যদের কাছ থেকে সাহায্য পেতে পারেন।

৩)মানসিক রোগ: ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অফ মেন্টাল ইলনেস (NAMI) এর মতে, আমেরিকার প্রতি ৫ জনে ১ জন মানসিক রোগে আক্রান্ত। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই এই বিষয়ে চুপ করে থাকেন এবং কোন চিকিৎসা গ্রহণ করেন না। হ্যারিসন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত ডিপ্রেশন বা বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগলে আমাদের সমাজে তা ভালোভাবে গ্রহণ করা হয়না। কিন্তু এই মানসিক রোগগুলো জেনেটিক কারণে, পরিবেশগত কারণে, মানসিক ও জৈবরাসায়নিক কারণে হয়ে থাকে। চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই রোগগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই রোগগুলোর কোনটি যদি আপনার থাকে তাহলে সবাইকে না জানালেও আপনার বসকে জানানো উচিত।

৪) ডিমেনশিয়া: এটা মেনে নেয়া খুব কঠিন। কিন্তু এই রোগে অন্য কারো সাহায্য ছাড়া দৈনন্দিন কাজগুলোও করা সম্ভব হয় না। কারণ এই রোগে আক্রান্তদের স্মৃতি নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে। যা মাঝারী থেকে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তাই অন্যদেরকে আপনার সমস্যাটির কথা জানিয়ে রাখলে তারা আপনার অবস্থা বুঝতে পারবেন।

৫)ইটিং ডিজঅর্ডার: অ্যানোরেক্সিয়া বা বুলিমিয়ার মত ইটিং ডিজঅর্ডারে ভুগেন অনেকেই।এসব ক্ষেত্রে মানুষ কম খায় বা ওজনের ক্ষেত্রে খুবই চিন্তিত থাকে। তাদের এই সমস্যার কথা তাদের পরিবার ও পরিচিতদের জানানো উচিত যাতে তারা আপনার সমস্যার ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারেন। আপনার পরিচিত কারো এই সমস্যাটি থাকলে তার সাথে কথা বলুন তাকে এই সমস্যা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য।

৬) এসটিডি: আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (CDC) এর মতে, লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ল্যামাইডিয়া বা অন্য যৌন রোগ যেমন- হারপিস, সিফিলিস, এইচ আই ভি, জেনিটাল ওয়ারটস  বা গনোরিয়ায় আক্রান্ত হন, কিন্তু তারা এটি প্রকাশ করেন না। কিন্তু এই রোগের কথা তাদের সঙ্গীদের কাছ থেকে গোপন করা উচিত নয়। কারণ চিকিৎসার মাধ্যমে এগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায়। সূত্র: এভ্রিডে হেলথ

গো নিউজ২৪/এসএম