১ পৌষ ১৪২৪, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

যে দেশে বাবা - ছেলে সমান সমান ধর্ষক !


গো নিউজ২৪ | ফারজানা আক্তার আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার
যে দেশে বাবা - ছেলে সমান সমান ধর্ষক !

"আমার ঘরে প্রথমে আসে ছেলে, পরে আসে বাপ...!"

ওপরের লাইনটা দেখেই অনেকে বুঝে নিবে এই কথাটা কোনো নারীর ! তার ঘরে প্রথমে ছেলে, তারপর বাপ ঢুকেছে। কোন উদ্দেশ্যে নিয়ে বাবা, ছেলে ওই মহিলার ঘরে ঢুকেছে তা নিশ্চয় বলার অপেক্ষা রাখে না। 

প্রথমে আমি একটু বাবা ছেলেকে নিয়ে কথা বলি। আহা ! বাবা - ছেলের কি ভয়ানক বন্ধুত্ব! একই মেয়েকে বাবা - ছেলে মিলে ধর্ষণ করছে। ছেলের প্রতি বাবার ভালোবাসা আমাকে আরো অবাক করছে। বাবা ছেলেকে আগে পাঠিয়েছে, নিজে পরে গিয়েছেন। বাবা -ছেলের এমন সম্পর্ক আমাকে যতটা না অবাক করেছে, তার থেকে বেশি অবাক হয়েছি যখন শুনেছি বাবা - ছেলে সৌদি আরব নামে এক দেশের বাসিন্দা !

সব দেশে খারাপ ভালো মানুষ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমি একজন মুসলিম, এবং আমি এটাও জানি যেকোনো মুসলিমের কাছে সৌদি আরব নামটা একটা অন্যরকম অর্থ বহন করে। এই নামটা শুনলে মনে একটা কেমন জানি পবিত্রতা বিরাজ করে। সে দেশের বাবা - ছেলে একই সময় একই নারীকে ধর্ষণ করবে সেটা কল্পনাও করা যায় না। একই পরিবারের দুই-ভাই, বাবা-ছেলে সমানে ধর্ষণ করে যাচ্ছে অথচ এটার দেখারও কেউ নেই, বলারও কেউ নেই। ভাবা যায় এমন একটা দেশের কথা ? ভাবা যায় এমন কোনো পরিবারের কথা ?

বাংলাদেশে বসে সৌদি আরবের মানুষকে নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। নিজের দেশের অবস্থাও তেমন একটা ভালো নেই। সৌদি আরব নিয়ে কথা বলছি কারণ ওরা যাদের যৌনদাসী বানিয়ে ধর্ষণ করে যাচ্ছে তারা আমাদের কারো না কারো মা, কারো বোন, কারো মেয়ে। বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠেছে যখন খবরটা পড়ছিলাম।  আরে, সেই বর্বর আদিমযুগকেও হার মানাচ্ছে বর্তমানের সৌদি আরবের ধর্ষক পরিবারের সদস্যরা। 

সৌদি আরবের মানুষেরা না হয় নিজেদের যৌনদাসী বানানোর জন্য মেয়ে কিনে নিচ্ছে। কিন্ত তাদের কাছে মেয়ে বিক্রি করছে কারা ? অন্য দেশ থেকে মেয়ে পাঠাচ্ছে কারা ? বাবা - ছেলে মিলে ধর্ষণ করছে এটা বেশি খারাপ, নাকি মেয়েদের যৌনদাসী বানাবে সেটা জেনেও যারা মেয়েদের বিক্রি করছে তারা বেশি খারাপ ? আসল ধর্ষক কে ? খাদিজা, আমেনা, সখিনা (ছদ্মনাম) যাদেরকে বলা হয়েছিলো সৌদির হাসপাতালে কাজ দেওয়া হবে, কিন্ত সৌদির হাসপাতাল ওরা দেখতে পায় নি। দেখতে পেয়েছে মানসিক বিকারগ্রস্ত কিছু পশু। 

বাংলাদেশ থেকে দালালের মাধ্যমে, এবং কিছু পাচার হয়ে  এসব নারীরা বিদেশে কাজ করতে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে অভিবাসী নারী শ্রমিকদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই শারীরিক-মানসিক সব ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। ১০০ থেকে যদি ৯৯ শতাংশই নির্যাতনের শিকার হয় তাহলে শান্তিতে থাকে কে ? আমরা জানি যে বিদেশে যেয়ে আমাদের মেয়েরা শারীরিক, মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমাদের সরকার কি পারে না এই মেয়েদের বিদেশ না পাঠিয়ে এই দেশেই তাদের কাজের কোনো ব্যবস্থা করে দিতে ! দালালের মাধ্যমে বিদেশ পাঠানো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে !

সরকারকে একা বলে লাভ নেই।  আমাদেরও নিজেদের সচেতন হতে হবে। দালালের মাধ্যমে কম টাকায় বিদেশ যেয়ে ডলার কমানোর চিন্তা বাদ দিতে হবে। 'কম টাকায় বিদেশ যেয়ে অনেক টাকা ইনকাম করা যাবে 'এই লাইনটাকে পুঁজি করে দালালরা গরীব মানুষদের মন যোগায়। তারপর সময় সুযোগ বুঝে অজানা, অচেনা অথবা আগে থেকে কন্টাক্ট করা জায়গায় এই দেশের মেয়েদের বিক্রি করে দেয়। সবার আগে এই দালালদের চিহ্নিত করতে হবে । সমাজের এই বড় ধর্ষক দালালদের হাত থেকে আমাদের মেয়েদের রক্ষা করতে হবে। এরাই জাতির সবথেকে বড় কলংক যারা নিজেদের মেয়েকে অন্যের হাতে তুলে দেয় ধর্ষিত হবার জন্য।