৯ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৪ আগস্ট ২০১৭ , ৭:২২ পূর্বাহ্ণ

যুদ্ধ বাঁধলে কার পক্ষে থাকবে চীন?


গো নিউজ২৪ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার
যুদ্ধ বাঁধলে কার পক্ষে থাকবে চীন?

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক উত্তেজনা চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এতে এই দুই দেশের পাশাপাশি থেমে নেই প্রতিবেশী দেশ ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো। উত্তর কোরিয়াকে ‘শান্ত করতে’ চীনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে মার্কিন প্রশাসন। তা সত্ত্বেও একের পর এক পরমাণু বোমা আর ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে কিম প্রশাসন।

এর জবাবে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জাতিসংঘ। ফলে আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন কিম। প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুয়ামে চলতি মাসেই হামলা করা হবে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিম জং-উন হামলার পরিকল্পনা পাস করলে হুয়াসং-১২ রকেট জাপানের ওপর দিয়ে গুয়াম থেকে ৩০ কিলোমিটার (১৭ মাইল) দূরে সাগরে গিয়ে পড়বে। এ নিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে এক ধরনের যুদ্ধাবস্থা চলছে। এই পরিস্থিতিতে কী হতে পারে চীনের অবস্থান? উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেশী হিসেবে কোন পক্ষ নেবে দেশটি?

এ ব্যাপারে চীনা প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস। এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রথমে আঘাত হানলে বেইজিংয়ের নিরপেক্ষ থাকবে বলে প্রত্যাশা করে তারা। গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, ‘চীনের স্পষ্ট করা উচিত যে উত্তর কোরিয়া প্রথম হামলা চালালে তারা নিরপেক্ষ থাকবে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্র আগে হামলা চালালে সরকারের কাছে ‘হস্তক্ষেপ’ প্রত্যাশা করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় ওই গণমাধ্যমটিতে।

গ্লোবাল টাইমস চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। এর ভাষ্যকেই সরকারি ভাষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়াকে চীনের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র’ বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। তবে চলমান উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় তারা শান্ত রয়েছে। বারবার পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করেছে তারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, চীনের আরো অনেক কিছু করার ছিলো। গ্লোবাল টাইমসের ভাষ্য মতে, উত্তর কোরিয়া প্রথমে আঘাত করলে চীনের নিরপেক্ষ থাকা উচিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যদি আঘাত আনে এবং সরকার উৎখাতের চেষ্টা করে তবে তাতে চীনের হস্তক্ষেপ করা উচিত।

এদিকে মার্কিন ঘাঁটিতে উত্তর কোরিয়ার হামলার হুমকির জবাবে দেশটিকে ‘ধূলায় মিশিয়ে দেয়া’র হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর উত্তর কোরিয়া ঘোষণা দিয়েছে তারা গুয়ামে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মিসাইল হামলার পরিকল্পনা করছে। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সেনা ও প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার মানুষের বসবাস। উত্তর কোরিয়ার দাবি, তারা আগস্টের মাঝামাঝি সময়েই হামলার সব প্রস্তুতি শেষ করে ফেলবে এবং নেতা কিম জং উনের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবে।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করানোর জন্য মরিয়া হয়ে আছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অবশ্য এখন পর্যন্ত নতুন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, উত্তর কোরিয়াকে চাপ দিতে চীনের ওপর চাপ জোরালো করা এবং হামলা চালানোর হুমকির মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতা সীমাবদ্ধ রয়েছে।

গত ৪ ও ২৮ জুলাই দুটি আইসিবিএমের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব উত্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৫ আগস্ট) সেই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় উত্তর কোরিয়ার রপ্তানি বাণিজ্যের রাশ টেনে ধরা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে উত্তর কোরিয়ার ৩০০ কোটি ডলার রপ্তানির মধ্যে ১০০ কোটি কমে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিষেধাজ্ঞার পর সোমবার (৭ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো কোরীয় উপদ্বীপের বর্তমান অবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় আইসিবিএম পরীক্ষা একটি বৈধ পদক্ষেপ।

গো নিউজ২৪/ আরএস