১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, শনিবার ২৭ মে ২০১৭ , ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রে নয়, জার্মানিতেই বেশি রপ্তানি করছে বাংলাদেশ


গো নিউজ২৪ | অনলাইন ডেস্ক আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০১৭ সোমবার
যুক্তরাষ্ট্রে নয়, জার্মানিতেই বেশি রপ্তানি করছে বাংলাদেশ

পোশাক রপ্তানিতে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ৮ শতাংশ অর্থাৎ ২৯২ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ জার্মানির বাজারে পোশাক রপ্তানি করেছে ৩ হাজার ৫শ’ ৫১ মিলিয়ন ডলারের। সে তুলনায় চলতি বছরে রপ্তানি আয়ের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ১২৭ মিলিয়ন ডলারে এগিয়ে জার্মানি।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, একদিকে বাংলাদেশি মুদ্রার বিনিময় হার শক্তিশালী হয়ে উঠছে অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ার পরেও ক্রেতাদের দাম কমিয়েছেন। যার প্রভাব পড়েছে রপ্তানিতে।

পোশাক রপ্তানিতে এককভাবে গত অর্থ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার ছিলো যুক্তরাষ্ট। এবার স্থানটি দখল করেছে জার্মানি। তারপরেও যুক্তরাষ্টের বাজার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রপ্তানির ৫ ভাগের একভাগ পুরোটাই যায় যুক্তরাষ্ট্রে। রপ্তানি ইউনিয়ন ব্যুরোর সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, গত অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি হয়েছিলো ৩ হাজার ৭শ’ ১৫ মিলিয়ন। এবার ৩ হাজার ৪শ’ ২৪ মিলিয়ন। তবে রপ্তানি কামার জন্য নিজেদের কোন ব্যর্থতা দেখছেন না পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমই।

বিজিএমই এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসান খাঁন বাবু বলেন, ‘অ্যাকর্ড এ্যালায়েন্সের কারণে আমাদের রপ্তানি সীমিত হয়েছে। কারণ, অনেকগুলো কারখানা শিফট করছে। আবার অনেকের নিজেস্ব কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার কারণে আমাদের রপ্তানি আয় কমেছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে এমন হয়েছে।’

আকার বিবেচনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। এই দেশটির বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। আগে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও এখন তা চতুর্থে। বাংলাদেশ এক্সপোর্টারস এসোসিয়েশনের দাবি, ডলার মান দুর্বল হয়ে যাওয়ায় প্রতিযোগী দেশগুলো তাদের মুদ্রার মান সমন্বয় করেছে। বাংলাদেশ তা না করায় এদেশের রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগী সক্ষমতা হারাচ্ছে।

বাংলাদেশ এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘আমাদের সব ধরণের খরচ বৃদ্ধি পেলেও সবমিলিয়ে পণ্যের দাম কমেছে এবং ধারাবাহিকভাবে কমছেই। আন্তর্জাতিকভাবে যে পলিসির কারণে প্রতিযোগী দেশগুলো বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। সেই সুবিধার সাথে মিলিয়ে সরকার যদি আমাদেরকে নীতি সহয়তা দেন তাহলে বিশ্ব বাজারে আমাদের যে অংশীদারিত্ব সেই অংশীদারিত্ব ধরে রাখতে পারবো।’ 

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর সিনিয়র ইকোনোমিস্ট ড. আশিকুর রহমান বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর জঙ্গিদের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো বাংলাদেশকে আবারো সংকটে ফেলছে। তার মতে, চলমান সংকট কাটাতে প্রয়োজন বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং। তিনি বলেন, ৩ বছর আগে রানা প্লাজা এবং সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনাগুলো ঘটছে। এমন উদ্বেগজনক ঘটনা বাংলাদেশেই ঘটেছে। এরকম কোন ঘটনা প্রতিযোগী দেশে যেহেতু ঘটেনি ফলে বাংলাদেশের বাজারে এর একটা প্রভাব পড়েছে।

 

গো নিউজ২৪/জা আ