২ কার্তিক ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৭ অক্টোবর ২০১৭ , ৯:১৭ অপরাহ্ণ

‘যুক্তরাষ্ট্রের কিছু হলে খবর আছে’


গো নিউজ২৪ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ১১ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার
‘যুক্তরাষ্ট্রের কিছু হলে খবর আছে’

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চলামান উত্তেজনার মধ্যে দেশটিকে আবারো হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু করার আগে উত্তর কোরিয়ার ভয় পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়া আরো বেশি দমে যাওয়া উচিত। তারা যদি বুঝেশুনে না না চলে, তাহলে ‘কিছু জাতি যে শিক্ষাটা পেয়েছে, তারাও একই সমস্যায় পড়বে’। ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে আবারো সতর্ক করে তিনি আরো বলেন, এর আগে উত্তর কোরিয়াকে হুঁশিয়ার করাটা যথেষ্ট হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু হলে খবর আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি গুয়ামের কাছে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কিম প্রশাসন। ওই ঘোষণার পরই এই হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসও দেশটিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষ ‘দুর্যোগ’ ডেকে আনতে পারে। কূটনৈতিক সমাধানই ফলপ্রসূ হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিয়ে মুখ খুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে হলে তার দেশ তাতে যোগ দিতে প্রস্তুত। অস্ট্রেলীয় এই প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে আনজুস চুক্তি (অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং নিউজিল্যান্ডের নিরাপত্তা চুক্তি) কার্যকর হবে। মার্কিনিদের সমর্থনে অস্ট্রেলিয়া সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। অস্ট্রেলিয়ার ওপর হামলা হলে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে, সেভাবে আমরাও তাদের পাশে দাঁড়াবো।’

এর আগে উত্তর কোরীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ভূখণ্ড গুয়ামে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। চলতি মাসেই ওই হামলা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। কিম জং-উন হামলার পরিকল্পনা পাস করলে হুয়াসং-১২ রকেট জাপানের ওপর দিয়ে গুয়াম থেকে ৩০ কিলোমিটার (১৭ মাইল) দূরে সাগরে গিয়ে পড়বে।

গত ৪ ও ২৮ জুলাই দুটি আইসিবিএমের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব উত্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৫ আগস্ট) সেই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় উত্তর কোরিয়ার রপ্তানি বাণিজ্যের রাশ টেনে ধরা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে উত্তর কোরিয়ার ৩০০ কোটি ডলার রপ্তানির মধ্যে ১০০ কোটি কমে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিষেধাজ্ঞার পর সোমবার (৭ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো কোরীয় উপদ্বীপের বর্তমান অবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় আইসিবিএম পরীক্ষা একটি বৈধ পদক্ষেপ।

গো নিউজ২৪/ আরএস