৯ চৈত্র ১৪২৩, শুক্রবার ২৪ মার্চ ২০১৭ , ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ

মুমিন হৃদয়ে রবিউল আউয়াল


গো নিউজ২৪ | অনলাইন ডেস্ক আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৬ সোমবার
মুমিন হৃদয়ে রবিউল আউয়াল

প্রায় দেড় হাজার বছর আগে রবিউল আউয়ালে আরব মরুর মক্কা উপত্যকায় উদিত হয়েছিল আলোকদীপ্ত এক নতুন সূর্য, যার আলোকরশ্মি বিদীর্ণ করেছিল গোমরাহি ও মূর্খতার সব পর্দা। প্রিয়নবী মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের শুভক্ষণটি গোটা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য স্মরণীয়। তার জন্ম-মৃত্যুর স্মৃতি জড়িয়ে রবিউল আউয়াল এক বিশেষ বার্তা নিয়ে আসে। কারণ তিনি ছিলেন মানবতার আলোকবর্তিকা। এখনো দুনিয়ার প্রতিটি স্থানে প্রতি মুহূর্তে শ্রদ্ধাভরে উচ্চারিত হচ্ছে তার বরকতময় নাম। নাতিদীর্ঘ কর্মময় জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ইতিহাসের পাতায় রক্ষিত আছে সযতনে।

তার সর্বপ্লাবী ব্যক্তিত্বের কাছে দুনিয়ার তাবৎ কৃতিত্ব ধূসরিত। ঘোর শত্রুর কাছেও তিনি কীর্তিমান, অদ্বিতীয় এক মহাপুরুষ। চরিত্রে তার নেই বিন্দু পরিমাণ কালিমার আচড়। চারিত্রিক সনদে স্বয়ং রাব্বুল আলামিন তাকে সর্বযুগের রেকর্ডসংখ্যক নম্বর দিয়েছেন। কৃতিত্ব, অবদান এবং মানবিক যোগ্যতার আকর্ষণীয় দিকগুলোর সম্মিলনের কারণে প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে নবী করিম (সা.)-এর প্রতি সহজাত টান রয়েছে। সর্বোপরি মহব্বতে রাসুলের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন ইমানের অনিবার্য দাবি। সে দাবি পূরণার্থে মুসলমান হিসেবে রবিউল আউয়ালে সবাই আন্দোলিত হই। প্রিয় নবীর প্রতি আমাদের ব্যাকুল অন্তরের আকুল অনুভূতির প্রকাশ ঘটে। মহব্বতে রাসুলের নতুন হাওয়া বইতে থাকে চারদিকে। তবে আমাদের মহব্বতের প্রকাশ ভঙ্গিটা যথার্থ কি-না তা বিবেচনার দাবি রাখে। অনুষ্ঠানের হিড়িক, চোখ ধাঁধানো চাকচিক্য এবং মহব্বতে রাসুলের সস্তা প্রয়োগের কারণে মাহে রবিউল আউয়াল আমাদের জীবনধারায় কোনোই পরিবর্তন আনতে পারে না। গতানুগতিক বহমান স্রোতে পণ্ড হয়ে যায় রবিউল আউয়ালের প্রকৃত চেতনা ও দাবি। রবিউল আউয়ালের পয়গাম ও দাবি কী সেগুলোও আমাদের কাছে আজ স্পষ্ট নয়।

প্রিয়নবীর জন্ম-মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাস হিসেবে এ মাসে নতুন প্রাণে উজ্জীবিত হওয়া সবার কর্তব্য। মুমিনের সামনে স্বচ্ছ আয়নার মতো নবী আদর্শের বাস্তব চিত্র স্থির হয়ে আছে। আদর্শিক বিচারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পথ ও পদ্ধতি অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সিরাতুন্নবীর মধ্যে রয়েছে অনন্ত পাথেয়। অন্ধকারে আলোকদিশা পাওয়ার প্রৌজ্জ্বল জ্যোতি একমাত্র সিরাতে রাসুলের (সা.) মধ্যেই বিরাজমান। জীবনের সব ঝঞ্ঝাট, সংকট ও সমস্যাকে জয় করতে হলে সিরাতুন্নবীর ডাকে সাড়া দিতে হবে। কারণ সীরাতুন্নবীই হলো মানবতার মুক্তির সোপান।

 

গো নিউজ২৪/জা আ