২ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৭ আগস্ট ২০১৭ , ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ

মুক্তার হাত কাটা ছাড়াই সফল অস্ত্রোপচার, জ্ঞান ফিরেছে


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার
মুক্তার হাত কাটা ছাড়াই সফল অস্ত্রোপচার, জ্ঞান ফিরেছে

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারপাশা গ্রামের মো. ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে মুক্তামণির (১২)  ডান হাতের রক্তনালীর টিউমারের সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। এতে তার হাত কেটে ফেলার প্রয়োজন হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর মুক্তার জ্ঞান ফিরেছে এবং সে চিকিৎসকদের কথায় সাড়া দিচ্ছে।

শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ড. সামন্ত লাল সেন।

ডা. সামন্ত লাল সেন এক ব্রিফিং-এ জানান, মুক্তামণির সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। তার হাত কাটার প্রয়োজন হয়নি। তাকে এখন কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। আর অপারেশন কাজে যুক্ত ছিলেন ২০ সদস্যের বেশি চিকিৎসকদের একটি দল।

তিনি আরও জানান, অপারেশনে সফলতা দেখানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী খুব খুশি হয়েছেন। ডাক্তারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি।

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা সফলভাবে অস্ত্রোপচার শেষ করেছি। তবে মুক্তামণির অপারেশন এবারই শেষ নয়। আরও ৫ থেকে ৬ বার অপারেশন করতে হবে। আর এ জন্য মুক্তামণির রক্তক্ষরণ হতে পারে। সাত থেকে আট ব্যাগ রক্ত লাগতে পারে। রক্ত সংগ্রহে আছে। সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অপারেশন থেকে পোস্ট অপারেটিভ (অপারেশন পরবর্তী) অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি মুক্তার প্রথম অপারেশন ছিল, তার আরও বেশ কয়েকটি অপারেশন লাগবে। প্রতি সপ্তাহে ১টা করে অপারেশন করা হবে। আপাতত তার হাতের টিউমারের সবটুকু মাংস কাটা হয়েছে। বুক ও ঘাড়ে এখনও রোগটি আছে। সেগুলো আস্তে আস্তে চিকিৎসা করা হবে।’

এর আগে সকাল সোয়া ৮টার দিকে মুক্তাকে হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। পৌনে ৯টার দিকে তার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপারেশন শেষে তাকে বেলা সোয়া ১১টার দিকে থিয়েটার থেকে বের করে কেবিনে পাঠানো হয়। অপারেশনের সময় মুক্তার হাত কেটে ফেলার আশঙ্কা করেছিল চিকিৎসকরা। কিন্তু হাত কেটে ফেলা ছাড়াই সফলভাবে অস্ত্রোপচার করতে পারে তারা। 

এদিকে মক্তামণির বাবা মো. ইব্রাহিম হোসেন ও আসমা খাতুন বলেন, ‘মুক্তার চিকিৎসা নিয়ে আমরা খুব সন্তুষ্ট। এখানে অনেক বেশি যত্ন নেয়া হচ্ছে। ওর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইছি।’ 

উল্লেখ্য, জন্মের দেড় বছর বয়স থেকে মুক্তামণির ডান হাতের সমস্যার শুরু। প্রথমে হাতে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তার ডান হাতটি ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়। সে বিছানাবন্দী হয়ে পড়ে। মুক্তামণির রোগ নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। গত ১১ জুলাই মুক্তামণিকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামণির চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন। মুক্তার অস্ত্রোপচারের সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক জুলফিকার লেলিন।

গো নিউজ২৪/এমবি