২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

মিলনের ডাক, অবশেষে সঙ্গির দেখা


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রাজশাহী আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার
মিলনের ডাক, অবশেষে সঙ্গির দেখা

রাজশাহী: বাংলাদেশে বিপন্ন প্রাণিদের তালিকায় ঘড়িয়াল অন্যতম। দিনে দিনে এদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে ঘড়িয়ালের দেখা মেলা ভার। তবে কয়েক বছর আগে পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে আটকা পড়েছিলো দুটি ঘড়িয়াল। জেলেরা সেগুলো ধরে রাজশাহী শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রিয় উদ্যোন ও চিড়িয়াখানায় দিয়েছিলো।

তবে রাজশাহী চিড়িয়াখার দুটি ঘড়িয়ালই স্ত্রী। এদের বয়স এখন ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে এদের বংশ বিস্তারের জন্য পুরুষ হড়িয়াল প্রয়োজন। তবে এ ব্যাপারে সম্ভাবনা দেখা দেয় যখন জানা যায় ঢাকা চিড়িয়াখানায় যে কয়টি ঘড়িয়াল আছে তার সবগুলোই পুরুষ।

দুটি চিড়িয়াখানাতেই দেখা দিয়েছিল ঘড়িয়ালদের প্রজনন সমস্যা। তবে সম্প্রতি দুই চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ বিপন্ন প্রাণিটির প্রজনন বৃদ্ধি করতে তাদের সঙ্গীর কাছে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। যাতে বংশ বিস্তার করতে পারে প্রাণিরা।

রাজশাহীর দুটি স্ত্রী ঘড়িয়ালের মধ্যে একটিকে ইতোমধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে ঢাকায়। অপরদিকে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে একটি পুরুষ ঘড়িয়ালকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাজশাহীতে। বিপন্ন প্রাণিগুলোর বংশ বিস্তারে এ উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গেল শুক্রবার (১১ আগস্ট) রাতে রাজশাহী চিড়িয়াখানার পুকুর থেকে স্ত্রী ঘড়িয়ালটিকে ধরা হয়। শনিবার (১২ আগস্ট) সেটিকে ঢাকায় আনা হয়। অপরদিকে ঢাকা থেকে পুরুষ ঘড়িয়ালকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাজশাহীতে। আগামীকাল রোববার (১৩ আগস্ট) রাজশাহীর চিড়িয়াখানার পুকুরে এটিকে স্ত্রী অবমুক্ত করা হবে।

রাজশাহী শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রিয় উদ্যোন ও চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. ফারহাদ জানান, ঘড়িয়াল বাংলাদেশে একটি বিপন্ন প্রাণি। দিনে দিনে এদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বর্তমান সময়ে দেশে ঘড়িয়াল দেখা ভার।

প্রাণি চিকিৎসক ডা. ফারহাদ বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ঘড়িয়ালদের প্রজনন মৌসুম। একবারে প্রজননে ৩৫ থেকে ৪০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে তারা। সাধারণত মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে তারা ডিম পাড়ে। ডিম পড়ার পরে তারা গর্ত খুঁড়ে ডিম ঢেকে রাখে। সেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হতে সময় নেয় ৭০ থেকে ৯০ দিন।

রাজশাহী চিড়িয়াখানার যে পুকুরে ঘড়িয়াল থাকে সেখানে ডিম পাড়ার পরে গর্ত করে রাখার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। সে কারণে বর্ষা শেষ হয়ে গেলে পদ্মা নদী থেকে মোটা বালি পুকুরটির একাংশে ফেলা হবে। যেখানে ঘড়িয়াল ডিম পাড়তে পারবে।

ডা. ফরহাদ আরো জানান, ঘড়িয়াল বিনিময়ের পাশাপাশি ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে ৪টি রঙিন ময়ূর নিয়ে আসা হবে। এদের দুইটি পুরুষ ও দুইটি নারী। ময়ূরগুলোর এখানে প্রজনন করে বংশ বিস্তার করানো হবে।

গোনিউজ/এন