১০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১:২৯ অপরাহ্ণ

মিঠাপুকুরে ফসকে যেতে পারে আওয়ামী লীগ


গো নিউজ২৪ | ফরহাদুজ্জামান ফারুক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর আপডেট: ১৩ জুলাই ২০১৭ বৃহস্পতিবার
মিঠাপুকুরে ফসকে যেতে পারে আওয়ামী লীগ

রংপুর মহানগরী থেকে মাত্র আঠারো কিলোমিটার দূরে মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্মস্থানখ্যাত মিঠাপুকুর উপজেলা। দূরত্ব অনুযায়ী মিঠাপুকুরে তেমন বলিষ্ঠ হয়নি উন্নয়ন। 

দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে এইচ এন আশিকুর রহমান মিঠাপুকুর এলাকা শাসন করলেও দূর করতে পারেননি চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা হতাশা। সন্তুষ্টি আসেনি বেকার সমস্যার সমাধানে। ব্যর্থতা জোরালো হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মিঠাপুকুর মহাবিদ্যালয় ও শঠিবাড়ী কলেজকে জাতীয়করণ না করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দেয়ায়। নেই স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান। ছোট ছোট ব্যর্থতাগুলোকেই এখন বড় করে দেখছে এখানকার সাধারণ ভোটাররা।

অভিযোগ রয়েছে দলের স্পষ্টভাষী নেতাদেরও। দলের হয়েও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর কোন্দল বিভক্তিতে নেতাকর্মীরা ব্যস্ত হয়ে পড়ায় ভোটাররা বলছেন, এমনটা চলতে থাকলে মিঠাপুকুরে আওয়ামী লীগের সিটটাই ফসকে যাবে।  

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে হেট্রিক করা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এমপি এইচ এন আশিকুর রহমানকে নিয়ে বির্তক চলছে স্থানীয় ভোটারসহ দলের নেতাদের মধ্যে। রয়েছে ক্ষমতাসীন এমপিকে ঘিরে দলীয় গ্রুপিং-দ্বন্দ্ব ও টেন্ডারবাজিতে উন্নয়ন থমকে যাওয়ায় অভিযোগ। আশিকুর রহমানের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। দলের হয়েও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর কোন্দলের কারণে বিভক্তি বাড়ছে এখানকার নেতা-কর্মীদের মধ্যে। 

তৃণমূলের নেতারা বলছেন, এমপি আশিকুর রহমান দলের নেতা-কর্মীদের ভালো করে চিনেন না, এমনকি নামও জানেন না। দলের ইমেজ বাড়ানোর চেয়ে নিজের ছেলে রাশেদ রহমানের পরিচিত বাড়াতেই ঢাকা থেকে এসে ব্যস্ত হয়ে পরেন তিনি। বয়সের কারণে এবার আশিকুর রহমান প্রার্থী না হলে তার ছেলে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রাশেক রহমানকেই প্রার্থী করতে এমন তৎপরতা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ তৃণমূলের।  

এদিকে অগোছালো সাংগঠনিক কার্যক্রম আর এলোমেলো সিদ্ধান্তে নিজ দুর্গে বেহাল দশায় থাকা জাতীয় পার্টিকে আরও কোনঠাসা করতে এই আসনটিতে অন্য সময়ের চেয়ে এখন বেশি তৎপর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। কিন্তু দলীয় নেতাদের বিভক্তির কারণে এখানে পাল্টে যেতে পারে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের হিসাব নিকাশ। 

বড় হযরতপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থক আবু বকর সিদ্দিক জানান, এখানে আওয়ামী লীগের দু’টি গ্রুপ। একটি এমপি আশিকুর রহমানের। অপরটি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের। দলীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত সবাই। যেন কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না। 

মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেনও চান নির্বাচনে অংশ নিতে। তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের জন্য প্রস্তুত। জনগণ চাইলে নির্বাচন করবো। তাছাড়া এখানকার ৮০ শতাংশ মানুষ আমাকেই সমর্থন করে।’ 

জাকির হোসেনের মতো নৌকার বৈঠা ধরতে আগ্রহ প্রকাশ করেন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোতাহার হোসেন মওলা। এজন্য তিনিও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

এদিকে দলীয় নেতাদের এমন বিষাদাগারে ক্ষুদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা এইচ এন আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দলে কোনো বিভক্তি নেই। যদি বিভক্তি থাকতো তাহলে আওয়ামী লীগের এতো ভালো অবস্থান এখানে কোনো দিনই সৃষ্টি হতো না। এখানকার ১৭টি ইউনিয়নেই নৌকার প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। উল্টো তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দলে বিভক্তি থাকলে এটা সম্ভব হতো?’ 

এসময় জাকির হোসেনকে ‘ফাঁসা জাকির’ বলে সম্মোধন করে আশিকুর রহমান বলেন, ‘জাকিরের বিরোধিতা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সে জামায়াত-শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করতে চায়।’

এদিকে পায়রাবন্দ মাঠেরহাট ভাংনি এলাকার অটোচালক জালাল ও বেলাল জানান, নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি। এই সময়ের মধ্যে নিজেদের শুধরে নিয়ে দল গোছাতে না পারলে আওয়ামী লীগের ভোট ভাগ হয়ে যাবে। এতে করে জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত মিঠাপুকুরে জাতীয় পার্টি বা বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যাবে না।  

এই আসনে লাঙ্গল প্রতীক পেতে চেষ্টা করছেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা সভাপতি শিল্পপতি এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর। এছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খাজা নূর খাজা ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। 

অন্যদিকে জামায়াত অধ্যুষিত মিঠাপুকুরে উপজেলা জামায়াতের আমির ও বরখাস্ত হওয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে পারেন। নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সদস্য মোফাখখারুল ইসলাম নবাবও প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে। 

গো নিউজ২৪/এমবি