৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, রবিবার ১৯ নভেম্বর ২০১৭ , ১০:১৫ অপরাহ্ণ

মা ও মেয়ের লাশের উপর দিয়েই চলে গেল ট্রেন!


গো নিউজ২৪ | পঞ্চগড় প্রতিনিধি আপডেট: ১৩ মে ২০১৭ শনিবার
মা ও মেয়ের লাশের উপর দিয়েই চলে গেল ট্রেন!

দুপুর সোয়া ১২ টা। ঠাকুরগাঁও থেকে ট্রেন আসছে। ঠিক এ সময় এক নারী তাঁর কোলের শিশুটিকে রেললাইনে শুইয়ে দিয়ে নিজে ঝাঁপ দিলেন। মুহূর্তেই ট্রেন ওপর দিয়ে চলে গেল। ছিন্নভিন্ন হয়ে হয়ে গেল মা-মেয়ে। 

আজ শনিবার পঞ্চগড় সদর উপজেলার বকুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এলাকার রশিদুল ইসলাম (৪৪) এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দেন।

উত্তরা নামের এই লোকাল ট্রেনটি পার্বতীপুর থেকে পঞ্চগড়ে আসছিল। নিহত মা-মেয়ে আটোয়ারী উপজেলার বারো আউলিয়া গ্রামের শ্যামলী বসাক (২২) ও তাঁর দুই বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু পবিত্রা সেন মায়া।

নিহত শ্যামলী বসাকের বাবা অরুণ বসাক বলেন, তিন বছর আগে ঠাকুরগাঁও জেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের রুহিয়া আসানপুর এলাকার প্রদীপ সেনের সঙ্গে শ্যামলীর বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতে নির্যাতনের শিকার হয়ে গর্ভাবস্থায় বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন শ্যামলী। এর পর সন্তানের জন্ম দেন তিনি। কিন্তু শিশুটি প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাঁকে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। 

এ নিয়ে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সন্তানের চিকিৎসার জন্য প্রতি সপ্তাহে শ্যামলী জেলা শহরের প্রতিবন্ধী হাসপাতালে যান। আজও চিকিৎসার কথা বলেই বের হন।

ট্রেন লাইনের পাশে পড়ে থাকা শ্যামলী বসাকের ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগের ভেতর রাখা পরিচয়পত্র ও সন্তানের টিকা কার্ড, মোবাইল ফোন সেট পাওয়া গেছে। গত দুই বছর থেকে তিনি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকার রশিদুল ইসলাম (৪৪) বলেন, ‘আমরা কয়েক জন রেললাইনের ধারে বাঁশবাগানের ভেতর তাস খেলছিলাম। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও থেকে ট্রেন আসছে। এমন সময় এক নারী কোলের এক শিশুকে রেললাইনের ওপর শুইয়ে দিয়ে নিজেও ঝাঁপ দেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যায়। ঘটনাটি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়। আমাদের করার কিছুই ছিল না।’

এডিদকে, রেল লাইনে পড়ে থাকা আত্মহত্যা কারিনী মা ও শিশুর  লাসের  উপড় দিয়ে ট্রেন চালিয়ে দেয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই হাজার হাজার এলাকাবাসি ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এসময় মা ও শিশুটির লাশ রেল লাইনেই পড়ে ছিল।

ঘটনার এক ঘন্টা পর ট্রেনটি আবার পার্বতিপুর ফিরে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা হাত তুলে ট্রেনটিকে থামানোর জন্য হাত উপড়ে তুলে চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু ট্রেনটি না থামিয়ে লাশের উপড় দিয়েই চালিয়ে দেন চালক। এতে  পড়ে থাকা লাশ দুটি ছিন্ন বিছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে ।

এলাকাবাসী জানান, ট্রেনটি  ৫’শ গজ দুরে থাকতেই শত শত মানুষ হাত উচু করে চিৎকার করে থামতে বলে । কিন্তু তারা বিকট হর্ন বাজিয়ে লাশ দুটির উপড় দিয়েই ট্রেনটি চালিয়ে দেয়।

এই এলাকার জামেদুল  ইসলাম জানান, ঘটনা স্থল থেকে পঞ্চগড় রেল ষ্টেশনের দুরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার। ট্রেনটি পঞ্চগড় যাবার সময়ই আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। স্টেশন মাষ্টার  এবং ঐ ট্রেনের চালক ঘটনাটি জানেন। জেনে শুনে তারা ট্রেন ছাড়া ঠিক করেননি।

তিনি বলেন, অনেকের ক্যামেরায় দৃশ্যটি ধারন করা আছে। ঘটনাটি তদন্ত করে এই চালক এবং সংশ্লিষ্টদের বিচার হওয়া উচিৎ।

এদিকে পঞ্চগড় রেল ষ্টেশনের ষ্টেশন মাষ্টার বজলুর রহমান জানান, আত্মহত্যা এবং রেল লাইনে পড়ে থাকা লাশের খবর তিনি জানেন না। এই ট্রেনটির গার্ড  আব্দুর রহিমের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লোকজন হাত উঁচিয়ে ট্রেনটি থামতে বলছিল। কিন্তু তাদের হাতে লাল পতাকা ছিলনা। তারপরও তাৎক্ষনিক লালমনির হাট বিভাগীয় রেলওয়ে অফিসে যোগাযোগ করা হলে কতৃপক্ষ আস্তে আস্তে ট্রেন চালিয়ে চলে আসতে বলেন।


গো নিউজ২৪/এএইচ