৫ শ্রাবণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২০ জুলাই ২০১৭ , ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

মামির সঙ্গে পরকীয়া, অবশেষে ঘাতক হয়ে ওঠার কাহিনী


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আপডেট: ১৯ মে ২০১৭ শুক্রবার
মামির সঙ্গে পরকীয়া, অবশেষে ঘাতক হয়ে ওঠার কাহিনী

রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুরে সৌদি প্রবাসী মামা রফিকুল আলমের স্ত্রী মিতুর (২৭) সঙ্গে আট বছর ধরে শাকিলের গভীর সম্পর্ক চলছিল। এরই মধ্যে শাকিল ছাড়াও মিতুর সঙ্গে একাধিক পুরুষের ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে। সম্প্রতি শাকিলকে পাশ কাটিয়ে নিজের ফুফাতো ভাই নজরুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে মিতুর। নজরুল ও মিতুকে এক বিছানায় দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়ে শাকিল। এরপর সে মিতুকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

মঙ্গলবার মাদারীপুর থেকে শাকিলকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল নিজের মামি মিতুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

মাদারীপুর থেকে গ্রেফতার করার পর বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শাকিলের ঘাতক হয়ে উঠার কাহিনী তুলে ধরেন।

ডিবির যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, একাধিক পুরুষের সঙ্গে মিতুর সম্পর্কের বিষয়টি মেনে নিতে না পেরেই শাকিল তাকে খুন করেন। দীর্ঘদিন ধরে মিতুর সঙ্গে শাকিলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও  সম্প্রতি মিতু তাকে এড়িয়ে আরেক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায়।

ঘটনার দিন মিতুর ঘর থেকে একজন পুরুষকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখায় মাথায় রক্ত উঠে যায় শাকিলের। বাজার থেকে ছুরি কিনে ঘরে ঢুকে বাদানুবাদের একপর্যায়ে শাকিল গলায় ছুরি চালায় মিতুর। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মিতু।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, মাদারীপুরের শিবচর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিলের ওই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে শাকিল বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

আবদুল বাতেন জানান, ঘটনার আগের দিন ১৭ এপ্রিল শাকিল তার মামি মিতুর মোবাইল ফোনে কয়েকবার ফোন দেয় ও মেসেজ পাঠায়। কোনো উত্তর না পেয়ে পরদিন ১৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সে মিতুর বাসার পেছনে অবস্থান নেয়। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সে বাসায় কয়েকবার নক করে।

কিন্তু দরজা না খোলায় সে ভেতরে ঢুকতে পারেনি। এরই মধ্যে মিতুর ফুফাতো ভাই নজরুলকে বাসা থেকে বের হতে দেখে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তারপর সে কচুক্ষেত ওয়েস্টার্ন বাজার থেকে ২৭৬ টাকায় একটি চাকু কিনে মিতুর বাসায় আসে।

মিতুর মেয়ে পহেলা ও বাবুনি দরজা খুলে দিতেই সে ভেতরে প্রবেশ করে। ওই সময় মিতু বাথরুমে ছিল। প্রায় দশ মিনিট ধরে বাথরুমের দরজায় নক করার পর মিতু দরজা খোলে। এ সময় শাকিল বাথরুমে ঢুকে দরজা আটকে দেয়। নজরুলের বাসায় প্রবেশ নিয়ে তাদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়।

একপর্যায়ে শাকিল চাকু দিয়ে মিতুর গলায় আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর শাকিল বাথরুম থেকে বের হয়ে পেছনের দরজা খুলে দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটি দেয়ালের পাশে ফেলে যায়।


গো নিউজ২৪/এএইচ