১১ শ্রাবণ ১৪২৪, বুধবার ২৬ জুলাই ২০১৭ , ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ

মরিশাসে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য ‍দিয়ে পবিত্র শবে কদর পালিত


গো নিউজ২৪ | দ্বীপ শাহাদাত আপডেট: ২২ জুন ২০১৭ বৃহস্পতিবার
মরিশাসে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য ‍দিয়ে পবিত্র শবে কদর পালিত

মরিশাসে থেকে: শবে কদর’ কথাটি ফারসি। যাহা আরবী ভাষায়( لیلة القدر‎) লাইলাতুল কদর। এর অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুল’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। এ ছাড়া এর অন্য অর্থ হলো—ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা।

স্বর্গোদ্যান বলে খ্যাত আফ্রিকার দ্বীপ রাষ্ট্র মরিশাসে বুধবার ছাব্বিশে রমজান দিবাগত রাত্রে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে ‍দিয়ে পবিত্র শবে কদর পালিত হয়েছে। ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এ রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত।

মরিশাসের মসজিদ গুলোতে তারাবীর নামাজের পর কোরআন ও হাদীসের আলোকে শবে কদর বা লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তৎপর্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিটা মসজিদে কানায় কানায় পূর্ণ ছিলো প্রবাসী বাংলাদেশী ও স্থানীয় মুসল্লিরা। কদরের নামাজ শেষে সকল মুসলিম উম্মাহর সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। এতে কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়ে এখান কার স্থানীয় ও প্রবাসী মুসল্লিরা।

মরিশাসের মুসলমানদের সংখ্যা কম হলেও তারা ধর্মীয় রিতি নীতিতে সোচ্চার। রাস্তাঘাটে পরিপূর্ণ ইসলামের আকিদায় চলাফেরাতে খুব সহজে অনুমান করা যায় তাদের কাছে ইসলামের গুরুত্ব কতটুকু।

মরিশাসে শবে কদর নামাজের জন্য মসজিদের আশপাশের রাস্তাঘাটে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মসজিদের পাশের সড়কে অস্থায়ী ট্রাপিক সিগন্যালের মাধ্যেমে যানজট মুক্ত রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাপিক পুলিশ।

এছাড়া মুসল্লিদের নিরাপত্তা জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। যাতে করে মুসলমানদের সারারাত এবাদত মসগুলে কোন প্রকার ব্যঘাত না ঘটে।

মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এই রাত সম্পর্কে হাদিস শরীফে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। এমনকি মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরআনে সূরা ক্বদর নামে একটি পূর্ণ সুরা নাজিল হয়েছে। এই সুরায় শবে কদরের রাত্রিকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলাম ধর্ম মতে, মুহাম্মদ(স:) এর পূর্ববর্তী নবী এবং তাদের উম্মতগণ দীর্ঘায়ু লাভ করার কারনে বহু বছর আল্লাহর ইবাদাত করার সুযোগ পেতেন।

কিন্তু মুহাম্মদ থেকে শুরু করে তার পরবর্তী অনুসারীগণের আয়ু অনেক কম হওয়ায় তাদের পক্ষে স্রষ্টার আরাধনা করে পূর্ববর্তীতের সমকক্ষ হওয়া কিছুতেই সম্ভপর নয় বলে তাদের মাঝে আক্ষেপের সৃষ্টি হয়। তাদের এই আক্ষেপের প্রেক্ষিতে তাদের চিন্তা দুর করার জন্য সুরা ক্বদর নাজিল করা হয় বলে হাদিসের বর্ণনায় জানা যায়।

মহান রাব্বুল আলামিন কোরআনের বর্ণনায় এই রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই একটি মাত্র রজনীর উপাসনা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর মাহে রমজানে এই মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর মুসলিমদের জন্য সৌভাগ্যের বার্তা বয়ে আনে।

গো নিউজ২৪/এনএফ

ইসলাম বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত