১৩ আষাঢ় ১৪২৪, মঙ্গলবার ২৭ জুন ২০১৭ , ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

ভালো সাহিত্যমানকেই অগ্রাধিকার দেই আমরা: প্রকাশক শব্দশৈলী


গো নিউজ২৪ | গো নিউজ ডেস্ক আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ মঙ্গলবার
ভালো সাহিত্যমানকেই অগ্রাধিকার দেই আমরা: প্রকাশক শব্দশৈলী

চলছে অমর একুশে বইমেলা। নতুন বইয়ের গন্ধ-ও ছন্দে মুখরিত বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দীর প্রাঙ্গণ। আজ একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন শব্দশৈলীর প্রকাশক ইফতেখার আমিন।

প্রশ্ন-১. প্রকাশনার ক্ষেত্রে কোন ধরনের বইকে গুরুত্ব দিচ্ছেন?

উত্তর : শব্দশৈলী প্রকাশনার ক্ষেত্রে যে নীতি মানে তা হলো-‘লেখক নয়, লেখা ছাপি আমরা’। সুতরাং নবীন কী প্রবীণ, লেখায় বিষয়ের বৈচিত্র্যকেই প্রাধান্য দেয় শব্দশৈলী। তাই নির্দিষ্ট ধরনের প্রকাশনার কথা বলা মুশকিল। যে কোন শাখার ভালো সাহিত্যমানকেই অগ্রাধিকার দেই আমরা।

প্রশ্ন-২. ছাত্রলীগ সভাপতির বই প্রকাশ করছেন। সে বই সম্পর্কে কি কিছু বলেন?

উত্তর : বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতির বই করছি তার চেয়ে এভাবে ভাবতে পছন্দ করি যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস প্রকাশ করছি আমরা। এবং আমার মনে হয় এটা আরো অনেক আগেই করা উচিত ছিলো। বাঙালি ও বাংলাদেশের চেতনার মিছিল যে ছাত্রলীগের হাত ধরে সেই সংগঠনের কোন পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচিত হয়নি ৬৯ বছরেও, সেই ভাবনা থেকেই আসলে এই উদ্যোগ। আর শব্দশৈলীর অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ভাইয়ের প্রতি যে তিনি নানাবিধ সাংগঠনিক ব্যস্ততার মাঝেও এই কঠিন ও পরিশ্রমী ইতিহাস রচনায় ব্রত হয়েছেন বলে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাসে সাইফুর রহমান সোহাগ- প্রথম দায়িত্ব চলাকালীন সভাপতি যিনি তাঁর সংগঠনে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে মলাটবন্দি করলেন।

প্রশ্ন-৩. নতুন কতগুলো বই বের হচ্ছে আপনার?

উত্তর : শব্দশৈলী থেকে এবছর ৩০টি নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে। যা পুরো বইমেলা জুড়ে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে।

প্রশ্ন-৪. মেলার পরিবেশ আপনার কাছে কেমন মনে হয়েছে?

উত্তর : বইমেলার পরিবেশের প্রথম প্রতিবন্ধকতা মেলাকে বাংলা একাডেমি আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দ্বিখণ্ডিতকরণ। বাস্তবতাকে মেনে পুরো মেলাটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আনা বোধহয় সময়েরই চাহিদা এখন। বাংলা একাডেমি বরাবরই বইমেলা নিয়ে নানা ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করে। বিশেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের স্টল বিন্যাসের বিষয়ে। আমার মনে হয় এর একটি নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক বিন্যাস কাঠামো স্থির করা জরুরি। এ বছর মেলাকে আরো বিস্তৃত করতে গিয়ে বিক্ষিপ্ত করে ফেলা হয়েছে বলেই মনে হয় আমার। এই বিস্তৃতির অন্যতম কারণ বলা হয়, স্টলের চাহিদাকে। সেক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন- এই যে শ’য়ে শ’য়ে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, এরা সবাই কি আসলেই নিয়মিত প্রকাশক? মেলাকে শুধুমাত্র প্রকাশকদের মেলায় এখনি পরিণত করতে না পারলে, ভবিষ্যতে অমর একুশে গ্রন্থমেলা তার বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্যহীন হয়ে পড়বে বলে মনে হয়।

শেষ প্রশ্ন. এবার বইমেলার ভিন্নতা কি?

উত্তর : অন্যবারের চেয়ে অনেক বিষয়েই এবার ভিন্নতা রয়েছে। আগেই বলেছি প্রথমত স্টল বিন্যাসে ভিন্নতা। এছাড়া নিরাপত্তা, মুক্তচিন্তা বিষয়ক বই প্রকাশে একাডেমির কঠোর নজরদারী, ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্টল নির্ধারণ, একাধিক প্রবেশপথসহ অনেক বিষয়েই ভিন্নতা রয়েছে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক ভিন্নতা হলো- নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে বইপ্রতি ১০০ টাকা ফি ধার্য করা! এটি নতুন বইয়ের প্রচার ও প্রচারকে নিরুৎসাহিত করবে বলেই মনে হয়। 

গো নিউজ২৪/এম

শিল্প-সাহিত্য ও সংষ্কৃতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত