৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ , ১০:৩২ অপরাহ্ণ

ব্যবসার লোভ দেখিয়ে ‘ভয়ঙ্কর’ প্রতারণা


গো নিউজ২৪ আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৭ শুক্রবার
ব্যবসার লোভ দেখিয়ে ‘ভয়ঙ্কর’ প্রতারণা

অভিনব পন্থায় সম্পর্ক স্থাপন করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক এক প্রতারক চক্র। ওই চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। তবে তাদের মধ্যে কেউ বাংলাদেশী নাগরিক নয়। তারা সবাই বিদেশি নাগরিক। তাদের ভয়ঙ্কর প্রতারণার শিকার হয়েছে বাংলাদেশী এক ব্যাংকার।

শুক্রবার র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, জিয়া নামে একজন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ফুতসুসহ ওই প্রতারক চক্রের ক্যামেরুনের তিন নাগরিককে আটক করেছে র্যাব-১। আটকরা হলেন- ক্যামেরুনের নাগরিক কুয়াতে ফুতসু, আমেলিন মাওয়াবো ও এমবিদা একানি। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ ইউরো এবং বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত এক মাস আগে রোজার্স নামে একজন নিজেকে জার্মানির নাগরিক দাবি করে জিয়াকে ফোন করে ১১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কথা বলেন। এ জন্য একজন খুব শিগগিরই বাংলাদেশে তার সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানান। এর কয়েকদিন পর বোস্তাভো স্টিভস নামে জিয়াকে ফোন করে গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে দেখা করতে বলেন ফুতসু। পরে তাদের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হয় এবং কিভাবে টাকা দেশে আনবে, কোন খাতে বিনিয়োগ করবে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

কয়েকদিন পর ফুতসু ইউরোপে পাঠানোর জন্য আড়াই লাখ ইউরো চান জিয়ার কাছে। ডলারের বিনিময়ে ইউরো দেবেন এবং ২০ লাখ টাকা বেশি দেবেন বললে সে ইউরো জোগাড় করেন।

৩১ অক্টোবর রাতে ফুতসুকে নিজ বাসায় দাওয়াত দেন জিয়া। ফুতসু ও তার আরেক সহযোগীকে নিয়ে বাসায় যান এবং খাওয়া শেষে ইউরোগুলো দেখতে চাইলে কাগজের প্যাকেটে মোড়ানো ইউরো দেখান জিয়া। এ সময় তাদের মধ্যে একজন একটা তরল পদার্থের বোতল বের করেন এবং জিয়ার সামেন সেটি ফেলে দেন। এতে জিয়ার গায়ে তরল পদার্থ লাগে এবং ঝাঁঝালো একটা গ্যাস বের হয়। এটা বিষাক্ত উল্লেখ করে জিয়াকে ফ্রেস হয়ে আসতে বলেন তারা।

জিয়া ফ্রেস হতে গেলে কাগজের প্যাকেট থেকে ইউরো নিয়ে সেখানে সাদা কাগজ রেখে দেন ফুতসু। জিয়া বের হয়ে এলে তারা বলেন, আজ ডলার আনেনি পরের দিন এসে ডলার দিয়ে ইউরো নিয়ে যাবেন। ওইদিনের মত তাদেরকে বিদায় জানান জিয়া।

পরের দিন ফুতসুকে জিয়া ফোন করলে কোনো সাড়া না পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখেন ইউরো নেই, সাদা কাগজের বান্ডেল। তখন বুঝতে পারেন লোভে পড়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকার প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনি।

র্যাব এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতারণার দায়ে ২ শতাধিক বিদেশিকে গ্রেফতার করেছে জানিয়ে মুফতি মাহমুদ বলেন, এ অপরাধে অনেক সময় বিদেশিদের সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশিরাও জড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার চক্রটির সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি জড়িত আছে কি না, বা আর কে জড়িত আছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

গোনিউজ২৪/কেআর