৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৩:৪৮ অপরাহ্ণ

বোরকার আড়ালে চলছে বাংলাদেশি অভিনেত্রীর জীবন 


গো নিউজ২৪ | বিনোদন ডেস্ক আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৭ সোমবার
বোরকার আড়ালে চলছে বাংলাদেশি অভিনেত্রীর জীবন 
বোরকায় ঢাকা হ্যাপি। ছবি: সংগৃহীত।

একটা সময় রূপালি পর্দার আলোর ঝলকানিতে কাটতো তার রঙিন সময়। লাইট, ক্যামেরা, ট্রলি, ক্রেন এসবে ঘেরা থাকতো চারপাশ। আনন্দ-উল্লাসে গ্ল্যামার দুনিয়া তিনি মাত করতেন রূপের জাদুতে। আর সেই তিনি এখন নিজের রূপ দেখাতে চান না কাউকে! সত্যিই সময় মানুষকে বদলে দেয়।  

একটা  সময় পরতে পছন্দ করতেন বোল্ড আর হট লুকের ড্রেস, তিনিই এখন বোরকার আড়ালে নিজেকে ঢেকে রাখেন সারাক্ষণ। পাঠক হয়তো ভাবতে পারেন কোনো গল্পের চরিত্র এটি। মোটেও তা না। এ গল্প বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এক উঠতি নায়িকার গল্প। লাইট, ক্যামেরা, ট্রলি, ক্রেন এসবে ঘেরা থাকতো যার চারপাশ। তিনি আর অভিনেত্রী নন।  চলচ্চিত্র পাড়া থেকে অনেক আগেই বিদায় নিয়েছেন। বদলে ফেলেছেন নিজের নাম-ধামও। 

হ্যাঁ, সেই আলোচিত নাজনীন আক্তার হ্যাপির কথা বলছি। ঢাকাই চলচ্চিত্রে তার অভিনয় জীবন, ক্রিকেটার রুবেল হোসেনকে ঘিরে বিতর্ক—সবই ছিল এ দেশের সংবাদমাধ্যমে বহুল আলোচিত। কিন্তু সবাইকে অবাক করে চলচ্চিত্রের রঙিন দুনিয়া ছেড়ে বোরখায় ঢেকে ফেলেছেন নিজের জীবন। হয়ে গেছেন পুরোদস্তুর ধার্মিক।

হয়েছেন হ্যাপী থেকে আমাতুল্লাহ। আরবি এ নামটির বাংলা অর্থ আল্লাহর দাসী। সম্প্রতি নিজের জীবনের এ পরিবর্তন নিয়ে বিস্তৃত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন হ্যাপী। আর ওই সাক্ষাৎকার বই হিসেবে বাজারে এনেছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'মাকতাবাতুল আজহার'। আর 'হ্যাপী থেকে আমাতুল্লাহ' নামে বইটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

প্রতিবেদনে 'হ্যাপী থেকে আমাতুল্লাহ' বইটি সম্পর্কে নাজনীন আক্তার হ্যাপী, বইয়ের লেখিকা সাদেকা সুলতানা সাকি, বইটির সহলেখক সাকির স্বামী আবদুল্লাহ আল ফারুক ও 'মাকতাবাতুল আজহার'র মালিক মোহাম্মদ ওবায়েদুল্লার বক্তব্য প্রকাশিত হয়।

বইয়ে নাজনীন আক্তার হ্যাপী বলেছেন, আগের জীবনের নাম-পরিচয় মুছে ফেলার পর নিজেকে সদ্যজাত শিশুর মতো মনে হচ্ছে, এখন আগের জীবনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। সেটা এক ভিন্ন মানুষের গল্প ছিল।

হ্যাপির এই ছবির সঙ্গে তার বর্তমান লাইফ স্টাইল ও পোশাকের আসমান-জমিনের পার্থক্য। ছবি: সংগৃহীত।  

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ, যেখানে নৈতিকতার গল্পগুলোই সর্বাধিক জনপ্রিয়তার তালিকায় থাকে, সেই রক্ষণশীল সমাজে সাবেক চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপীর পরিবর্তনের গল্প রোমাঞ্চকরই বটে। একসময় একটি স্ক্যান্ডালের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল হ্যাপীর নাম। সেখান থেকে বেরিয়ে বোরখা পরে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার কাজের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার গল্পটি অনেককেই নাড়া দিয়েছে।

ঢালিউড তারকা হ্যাপীর বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ২০১৩ সালে। সে বছর 'কিছু আশা কিছু ভালোবাসা' নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এরপর খুব দ্রুতই তিনি ভক্তদের মনে জায়গা করে নিচ্ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। কিন্তু ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেটের তারকা ফাস্ট বোলার রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন হ্যাপী। এরপরই ক্রিকেটপাগল বাঙালির মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে তার নাম। 

রুবেলের ঘটনার পর অনেক দিন লোকচক্ষুর বাইরে ছিলেন হ্যাপী। এরপর যখন সামনে এলেন, সবার চক্ষু চড়কগাছ। চলচ্চিত্র জগতের পোশাকের গণ্ডি ছাড়িয়ে হ্যাপী যে একেবারে বোরখায় আবৃত! এরপরই তার জীবন সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়ে পাঠকের। 

রুবেলের সঙ্গে স্ক্যান্ডালের পর হ্যাপী বদলে গেছেন পুরোপুরিই। অর্ধেক কাজ করার পর ছেড়ে দিয়েছেন চলচ্চিত্র। হাজারো ভক্ত আর চলচ্চিত্রের দুনিয়াকে পেছনে ফেলে হ্যাপী চলে এসেছেন কঠোর সংযমের জীবনে। একটি মাদ্রাসায় কোরআন পড়তে শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, এখন কেউ আমার আঙুলের নখটি পর্যন্ত দেখতে পাবে না। আমি অতীত মুছে ফেলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। 

হ্যাপী অভিনীত শেষ ছবির নাম 'সত্যিকারের মানুষ'। ছবিটি মুক্তির কদিন আগেই তিনি ঘোষণা দেন চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন চিরতরে। 

গো নিউজ২৪/পিআর