১১ আষাঢ় ১৪২৪, রবিবার ২৫ জুন ২০১৭ , ৮:০৪ অপরাহ্ণ

বেহেশতী নারীর গুনাবলী সম্পর্কিত ২০টি হাদীস


গো নিউজ২৪ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৬ মঙ্গলবার
বেহেশতী নারীর গুনাবলী সম্পর্কিত ২০টি হাদীস

বিভিন্ন হাদীসে জান্নাতী বা বেহেশতী নারীর বিভিন্ন গুনাগুন সম্পর্কে বর্ণিত আছে। তন্মধ্যে ২০টি হাদীস নিম্নে বর্ণনা করা হলোঃ

[১] হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- যে মহিলা (১) পাচঁ ওয়াক্ত নামায (নিয়মমত) আদায় করবে, (২) রমযানের রোযা (ঠিকমত) রাখবে, (৩) লজ্জাস্থান হেফাযত করবে এবং (৪) স্বামীকে মান্য করবে, তাকে (কিয়ামতের দিন) বলা হবে, যে দরজা দিয়ে মন চায় সে দরজা দিয়ে তুমি বেহেশতে প্রবেশ কর। [মিশকাত]

[২] হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে নারী তার স্বামীকে সন্তুষ্ট রেখে মৃত্যুবরণ করবে সে বেহেশতী হবে (অবশ্য স্বামীর শরীয়ত বিরোধী কাজে নয়)। [তিরমিযী]

[৩] হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার কয়েকজন মহিলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! জিহাদের মাধ্যমে পুরুষরা মহিলাদের চেয়ে সওয়াবের দিক দিয়ে অনেক অগ্রসর হয়ে গেছে। সুতরাং আমাদের জন্য এমন কোন আমল আছে কি? যা আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদদের আমলের বরাবর হতে পারে? তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মহিলারা নিজের ঘরে দৈনন্দিন কাজকর্ম করলে তা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের সমান সওয়াব হবে। [দুররে মনসূর]

[৪] হযরত হাব্বান বিন হাবলা (রাঃ) থেকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণিত আছে যে, দুনিয়ার নেককার মহিলারা যখন বেহেশতে প্রবেশ করবে, তখন দুনিয়ার নেক আমলের বিনিময়ে তারা বেহেশতী হূরদের চেয়ে অধিক মর্যাদাশীল হবে। [তাযকেরা]

[৫] হযরত উবাদাহ বিন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে মহিলা গর্ভাবস্থায় বা বাচ্চা প্রসবকালে মারা যায়, সে শহীদের মর্যাদা পাবে। [কানযুল উম্মাল]

[৬] হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঐ মহিলা সর্বশ্রেষ্ঠ যে পুতঃপবিত্র থাকে এবং মহব্বত রাখে অর্থাৎ সতীত্ব বজায় রাখে এবং স্বামীর প্রতি সর্বাধিক ভালবাসা রাখে। [কানযুল উম্মাল]

[৭] হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, (একবার) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মহিলাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কে? প্রতি উত্তরে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঐ মহিলা, যার দিকে তাকালে স্বামীকে সন্তুষ্ট করে দেয় আর কোন কাজ করতে বললে (তাকে) মান্য করে। স্বামীর অপছন্দনীয় কাজে নিজেকে ব্যবহার করে না এবং তার অর্থ-সম্পদ অপচয় বা অপব্যবহার করে না। [মিশকাত]

[৮] হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণনা করেন যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম বেহেশতে গমনকারী ঐ সমস্ত মহিলারা হবে যারা দ্বীনের ব্যাপারে, ধর্মের ব্যাপারে সাহসী অগ্রণী। [মুসনাদে আহমদ]

[৯] হযরত আনাস (রাঃ) রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, যে মহিলা বিধবা অবস্থায় বাচ্চা প্রতিপালনের জন্য ঘরে আবদ্ধ থাকবে, সে বেহেশতে আমার সাথে থাকবে। [কানযুল উম্মাল]

[১০] হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, যে মহিলাকে তার স্বামী দুঃখ-কষ্ট দেয় আর সে বিরক্ত বা অসহ্যবোধ না করে স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে, তা হলে আল্লাহ্‌ তায়ালা একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন যে আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করবে এবং এর সমস্ত সওয়াব ঐ মহিলার আমলনামায় লিখে দেয়া হবে। [ফিরদাউস]

[১১] হযরত সাওবান (রাঃ) বলেন যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সর্বোৎকৃষ্ট উপকারী বস্তু হলো (১)যিকিরকারী জিহবা, (২) কৃতজ্ঞতাপরায়ণ অন্তর, এবং (৩) এমন ঈমানদার স্ত্রী যে তার দ্বীনের ব্যাপারে (স্বামীকে) সাহায্যকারিনী। [তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ]

[১২] হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার এক গ্রাম্য মহিলা আমার কাছে এসেছিল। তার সাথে দুটি কন্যা সন্তান ছিল। আমি খাওয়ার জন্য তাকে তিনটি খেজুর দেই। সে দুই মেয়েকে দুটি দেয় এবং নিজে একটি নেয়। তার খেজুরটি যখন সে খাওয়ার জন্য মুখের কাছে নেয়, তখন মেয়ে দুটি ঐ খেজুরটিও চায়। ফলে সে তার খেজুরটি দু’ভাগ করে দুই মেয়েকে দিয়ে দেয়। (হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) বলেন যে,) পরে যখন এই ঘটনা আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শোনালাম। তখন তিনি ইরশাদ করেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌ পাক তার উপর বেহেশত ওয়াজিব করেছেন এবং দোযখ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। [কানযুল উম্মাল]

[১৩] হযরত আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মহিলারা মনে রেখো, তোমাদের মধ্যে যে নেককার হবে, সে নেককার পুরুষদের (স্বামীর) পূর্বে বেহেশতে প্রবেশ করবে। পরে তাদেরকে গোসল দিয়ে খুশবু লাগিয়ে নিজ নিজ স্বামীদের নিকট হস্তান্তর করা হবে। তখন তারা লাল ও হলুদ রঙের বাহনের উপর উপবিষ্ট থাকবে। সেখানে স্বামীর সাথে বিক্ষিপ্ত মোতির মত বেঁচে থাকবে। [কানযুল উম্মাল]

[১৪] হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মহিলাদের সৌভাগ্যের দলীল হল, তার প্রথম সন্তান কন্যা হওয়া। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ মহিলা স্বামীর জন্য বেশী বরকতপূর্ণ যার (বিবাহের) মোহর অতি কম এবং প্রথম সন্তান কন্যা। [দুররে মনসূর]

[১৫] হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে মহিলা স্বামীর অনুমতি ব্যতীত ঘর থেকে বের হয়, সে আল্লাহর রোষানলে নিপতিত থাকে। যে পর্যন্ত না সে ঘরে ফিরে আসে কিংবা স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়। [কানযুল উম্মাল]

[১৬] হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে মহিলা রাতে জাগ্রত হয়ে নামায আদায় করে এবং স্বীয় স্বামীকে জাগিয়ে দেয়, যাতে সেও নামায আদায় করতে পারে, সে যদি না জাগে তাহলে জাগানোর জন্য মুখের উপর পানির ছিটা মারে। এ ধরনের মহিলার উপর আল্লাহর রহমত। [আবুদাউদ]

[১৭] হযরত হুসাইন ইবনে মিহসান (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার তার ফুফু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে হাজির হলে নবীজি তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমার কি স্বামী আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ আছে। তখন নবীজি জানতে চাইলেন, তুমি তার সাথে কিরূপ আচার ব্যবহার কর? তিনি বললেন, সাধ্যমত সকল পন্থায় তার সেবা করি এবং আমার সাধ্যমত তার সাথে ভালো আচরণ করি। এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মনে রেখো, সেই তোমার বেহেশত দোযখ। [তারগীব]

[১৮] হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কোন নারী অপব্যয় না করে স্বীয় স্বামীর ঘর থেকে কোন পানাহারের বস্তু (দান) খরচ করল, এতে স্বামীরও সওয়াব হবে। উভয়ের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা। [বুখারী]

[১৯] হযরত আবু উমামা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে একটি শিশু সন্তান কোলে নিয়ে জনৈক মহিলা উপস্থিত হল। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মহিলারা প্রথমে পেটে বাচ্চা ধারন করে পরে সন্তান প্রসব করে অতপর তার (নবজাতকের) সাথে কতই না উত্তম আচরন করে এবং মায়া-মহব্বত, আদর-সোহাগ করে থাকে। সুতরাং স্বামীর সাথে তার আচরন যদি খারাপ না হয়, আর নামায রীতিমত আদায় করে, তাহলে সে বেহেশতে যাবে। [দুররে মনসূর]

[২০] হযরত আবদুর রহমান বিন আউফ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, গর্ভকালে মহিলারা এমন উত্তম বিনিময় পায়, যেমন পায় দিনভর রোযাদার ব্যক্তি, তাহাজ্জুদ আদায়কারী ব্যক্তি, অনুনয়-বিনয়কারী ব্যক্তি এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী ব্যক্তি। প্রসব বেদনার বিনিময় সমস্ত সৃষ্টিজগৎ থেকে গোপন রাখা হয়েছে। সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর বাচ্চাকে দুধ পান করানোর সময় প্রতি চুমুকের বিনিময়ে প্রানীকে জীবন দান করার পরিমাণ সওয়াব পাবে। দুধ ছাড়াবার সময় একজন ফেরেশতা এসে মুবারকবাদ জানায় এবং বলে এসব কষ্টের বিনিময়ে তোমার অতীতের গুনাহ মাফ হয়ে গিয়েছে। আজ থেকে নতুনভাবে আমল কর। [কানযুল উম্মাল]

গো-নিউজ২৪/বিএস