৬ শ্রাবণ ১৪২৪, শুক্রবার ২১ জুলাই ২০১৭ , ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ

বুদ্ধিমানদের বেশি হাই উঠে!


গো নিউজ২৪ | স্বাস্থ্য ডেস্ক আপডেট: ০২ মে ২০১৭ মঙ্গলবার
বুদ্ধিমানদের বেশি হাই উঠে!

হাই ওঠার আসল রহস্য এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে হাই তোলা স্নায়ু ও মাংসপেশির সমন্বিত উদ্দীপনায় সৃষ্ট এক ধরনের ইচ্ছা নিরপেক্ষ ক্রিয়া, যার উৎপত্তি ঘটে মস্তিষ্ক থেকে। এটি মস্তিষ্ককে শীতল করার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সহজ ভাষায় ঘন ঘন হাই উঠলে বুঝতে হবে, আশপাশের পরিবেশের আবহাওয়ার চেয়ে আপনার মাথা অনেক বেশি গরম হয়ে গেছে। তাই হাই এসে আপনার মস্তিষ্ককে ঠান্ডা করছে।
অপরদিকে, জনবহুল কোনো স্থান বা বাইরে বের হলে হাই উঠলেই আমরা হাত দিয়ে মুখ ঢাকি বা কোনোভাবে আড়াল করার চেষ্টা করি। ঘন ঘন হাই ওঠা বা লম্বা হাই উঠলেও এটিকে সাধারণের দৃষ্টিতে দৃষ্টিকটু ও লজ্জাজনক হিসেবেই মনে করি আমরা। কিন্তু ঘন ঘন হাই বা লম্বা হাই তোলা এখন আর বিব্রতকর বা লজ্জাজনক নয়, এমনটাই জানিয়েছে এক গবেষণা। বরং যারা বেশি বা লম্বা হাই তোলেন তারাই বেশি বুদ্ধিমান। কারণ মানুষের হাই ওঠা থেকে ধারণা পাওয়া সম্ভব তিনি কতটা বুদ্ধিমান।

বিশিষ্ট মার্কিন সাইকোলজিস্ট অ্যান্ড্রু গ্যালাপের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞদলের গবেষণায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জার্নাল বায়োলজি লেটারে এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, হাই তোলার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে মস্তিষ্কের আকারের ওপর। হাই তোলার সময়কে প্রভাবিত করে নিউরন। পাশাপাশি মস্তিষ্ককে ঠাণ্ডা রাখতেও কাজ করে হাই ওঠা। এছাড়া স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে মানুষই সবচেয়ে লম্বা হাই তুলতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এরপরই রয়েছে শিম্পাঞ্জি।

সাধারণত আমরা যখন ক্লান্ত, বিরক্ত কিংবা ক্ষুধার্ত থাকি তখনই হাই তুলি। তার মানে মস্তিষ্কের অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে তার কর্মক্ষমতা কমে তাকে গরম করে তোলে। মস্তিষ্ক হাই তোলার মাধ্যমে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মস্তিষ্ককে ঠান্ডা করে তুলে এর কর্মক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখতে চেষ্টা করে। বিশ্রামের কারণে মস্তিষ্ক শীতল হওয়াার সুযোগ পায় এবং সে খাদ্য থেকে আহরিত ক্যালরিকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে। সে কারণে অভুক্ত ও জেগে থাকার সময়ই কেবল হাই ওঠে, ঘুমিয়ে যাওয়ার পর আর ওঠে না।

গো নিউজ২৪/এনএফ