৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৪:১২ অপরাহ্ণ

বিয়ে-বাসর সবই হলো, আর কী চাই লাবনীর?


গো নিউজ২৪ | জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ১০ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার
বিয়ে-বাসর সবই হলো, আর কী চাই লাবনীর?

নীলফামারী: বিয়ে ছাড়া সবই হয়েছিল বড় ভাইয়ের বন্ধু প্রতিবেশী প্রেমিক চন্দ্র কিশোরের সঙ্গে। বাকি ছিল শুধু বিয়ে। সেই বিয়ের দাবিই ছিল প্রেমিকা লাবনীর শেষ চাওয়া। আর সে জন্য নয়দিন ধরে বাড়ির উঠোনে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনশন চালিয়ে গিয়েছেন।

অবশেষে অনেক বৃষ্টি ঝরিয়ে প্রেমিক ও তার পরিবারের মন গলতে বাধ্য হয়। মেনে নিতে বাধ্য হয় ছেলের প্রেমিকাকে স্ত্রী হিসেবে। ঘরেও তুলে নেয়া হয় লাবনীকে। চন্দ্রের সঙ্গে লাবনীর বাসরও হয়ে গেছে। তবে এখন সবার একটাই প্রশ্ন, আর কী চাই লাবনীর?

ঘটনাটা নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব নয়ানী বাকডোকরা গ্রামের।

লাবনী রানী (১৮) ওই গ্রামের বাবু লালের মেয়ে ও নয়ানী বাকডোকরা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করা ছাত্রী। তার প্রেমিকের নাম চন্দ্র কিশোর (২৪)। তিনি একই গ্রামের জ্যোতিষ চন্দ্রের ছেলে ও লাবনীর বড় ভাই মলয়ের বন্ধু।

প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক থাকার পরেও প্রেমিক অন্যত্র বিয়ে করার বিষয় জানার পর প্রেমিকা লাবনী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর স্ত্রী হওয়ার দাবিতে গেল ২৯ জুলাই চন্দ্র কিশোরের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তাকে মেনে না নেয়া ও প্রেমিক পালিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে লাবনী অনশন শুরু করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।

বিয়ের আগের বিষণ্ণতা

নয়দিন অনশন করার পর গেল ৭ আগস্ট চন্দ্রের পরিবার লাবনীকে ছেলের স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছে। হিন্দুশাস্ত্রমতে তিন লাখ ১০ হাজার টাকা মোহরানায় তাদের বিয়েও দেয়া হয়েছে। বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য দিপালী রানী রায়সহ গণমান্য ব্যক্তিরা।

আর কী চাই? এমন প্রশ্নের জবাবে লাবনী বলেছেন, শুধু সুখী হতে চাই। চন্দ্রের সন্তানের মা হতে চাই। আর যেন কেউ আমাদের মধ্যে না দাঁড়ায়।

প্রসঙ্গত, বিয়ের প্রলোভনে দীর্ঘ সাত বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক করে এক পর্যায়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন প্রেমক চন্দ্র কিশোর। এ জন্যই প্রেমিকা লাবনী চন্দ্রের বাড়ির উঠোনে লেপতোষক সঙ্গে নিয়ে অনশনে বসেছিলেন।

ঘটনা বর্ণনা করে লাবনী বলছিলেন, বড় ভাইয়ের ভালো একজন বন্ধু ছিল চন্দ্র কিশোর। তাই বাড়িতে আসা যাওয়ায় কোনো বাধা ছিল না। আমিও তাকে দেখতাম বড় ভাইয়ের মতোই। এক পর্যায়ে ভাই না থাকলেও সে বাড়িতে ঢুকে পড়তো। না করতে পারতাম না। আর এ সুযোগটাই সে কাজে লাগিয়েছে।

একদিন ভাই না থাকার সুযোগ বাড়িতে ঢুকে পড়ে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসে। এরপর আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক করে। ঘটনাটি পরিবারে জানানোর কথা বলতেই সে শিগগিরই বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে চুপ থাকতে বলে।

এরপর থেকে প্রতিদিন রাতেই তার ডাকা পেতাম। বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে দেখা করতে যেতে হতো। এভাবে দুই দুইবার আন্তঃসত্ত্বাও হয়ে পড়ি। প্রতিবারই সে বাজার থেকে ওষুধ এনে গর্ভের শিশু নষ্ট করতে চাপ দেয়।

বিয়ের কথা বললেই সে টালবাহানা করতে থাকে। নানা যুক্তি-তর্ক করে। এভাবেই কেটে গেছে গত সাত বছর। এক পর্যায়ে জানতে পারি সে অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করবে। জানার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ফোন দিই। সে সোজা বলে দেয়, ইচ্ছের বিরুদ্ধে তার বড় ভাই তাকে বিয়ে দিচ্ছে।

পরিবারের অসহায়ত্ব

ঘটনার দিন সে আমাকে তার বাড়ি যেতে বলে। পরিবারকে বুঝিয়ে বিয়ে করার আশ্বাস দেয়। কিন্তু আমাকে বাড়িতে দেখতে পেয়েই সে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে আর তার দেখা নেই।

তবে তাকে পালানোর সুযোগ না দিয়ে গত ২৯ জুলাই রাত থেকে লাবনী জ্যোতিষ চন্দ্রের বাড়িতে তার ছেলের বউ হওয়ার দাবি নিয়ে অনশন শুরু করেন। বাড়ির লোকজন ঘরে ঢুকতে না দেয়ায় উঠোনে লেপতোশক বিছিয়ে নেন। সেখানেই দীর্ঘ নয়দিন ধরে রাতযাপন করেন।

সে সময় লাবনীর বড় ভাই মলয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, বন্ধুত্বের সুযোগে সে আমার বোনের সঙ্গে জঘন্য কাজ করেছে। এখন তাকে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমার বোন চন্দ্রের বাড়ির উঠোনে ঝড়-বৃষ্টির রাত উপেক্ষা করে রাতযাপন করে যাচ্ছে দিনের পর দিন।

বিয়ে ছাড়া সবই করেছে! চাই শুধু স্ত্রী হতে

গোনিউজ/পিআর