৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


গো নিউজ২৪ | শেরপুর প্রতিনিধি আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

শেরপুরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে মোস্তুফামিয়া (২২) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। 

সোমবার দুপুরে নারী-শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভাপ্রাপ্ত বিচারক (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দিন মামলার একমাত্র আসামীর উপস্থিতিতে ওই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে জরিমানার ওই অর্থ ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর ভরণ পোষণে পরিশোধ করতেও আদেশ দেওয়া হয়। দন্ডিত যুবক মোস্তুফা নকলা উপজেলার কুড়েরকান্দা গ্রামের কৃষক সিরাজ আলীর ছেলে।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে , ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে নকলা উপজেলার কুড়েরকান্দা  গ্রামের লম্পট মোস্তফা মিয়া ওরফে মস্তু প্রতিবেশী দরিদ্র পরিবারের কিশোরীকে তার বসত ঘরে ঢুকে বিয়ের প্রলোভনে ইচ্ছের বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। ওই ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী ৮ মাসের অন্ত:সত্তা হয়ে পড়ে। বিষয়টি মোস্তফার পরিবারের লোকজনকে জানালে তারা আপোষ-মিমাংসার নামে সময়ক্ষেপণ করে এবং মোস্তফাকে অন্যত্র সরিয়ে রাখে।

ওই ঘটনায় একই বছরের ৪ অক্টোবর ধর্ষিতা বাদী হয়ে মোস্তফা, তারপিতা ও ২ ভাইসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে নকলা থানায় একটি মামলা দায়ের করলে ওই দিনই থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় ধর্ষক মোস্তফা। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বন্দে আলী একই বছরের ২৩ নভেম্বর একমাত্র মোস্তুফার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এরইমধ্যে ধর্ষিতা কিশোরীর গর্ভ থেকে জন্ম নেয় এক পুত্র সন্তান এবং তার নাম রাখা হয় সৌরভ। এরপর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি হলে আসামী পক্ষ ওই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় সে ধর্ষক মোস্তুফার সন্তান। বিচারিক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষে বাদী-ভিকটিম. চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার এ রায় ঘোষনা করা হয়।

গো নিউজ২৪/এবি