৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বসাহিত্যে কোরবানি ঈদের প্রভাব


গো নিউজ২৪ | ইসলাম ডেস্ক আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার
বিশ্বসাহিত্যে কোরবানি ঈদের প্রভাব

ঢাকা: হযরত ইবরাহীম (আ.) আল্লাহ তাওয়ালার আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে প্রাণপ্রিয় জ্যেষ্ঠ পুত্র হযরত ইসমাঈলকে (আ.) তার (হযরত ইসমাঈলের) পূর্ণ সম্মতিতে কোরবানি করতে উদ্যত হন (৩৭: ১০২, ১০৭)। মক্কার নিকটে ‘মীনা’ নামক স্থানে ৩৮০০ ( সৌর) বছর আগে এ মহান কোরবানির উদ্যোগ নেয়া হয়। তার ঐকান্তিক নিষ্ঠায় সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ হযরত ইবরাহীমকে (আ.) তার পুত্রের স্থলে একটি পশু কোরবানি করতে আদেশ দেন। 

আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্য ও নজিরবিহীন নিষ্ঠার এ মহান ঘটনা অনুক্রমে আজও মীনায় এবং মুসলিম জগতের সর্বত্র আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে পশু কোরবানির রীতি প্রচলিত রয়েছে।

হযরত ইবরাহীম ও তার পুত্র ইসমাঈলের অতুলনীয় আত্মত্যাগ ও আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অবিচল আনুগত্যের ঘটনাটি বিশ্বসাহিত্যের ওপর বিশাল প্রভাব বিস্তার করে। শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্য, স্পেন, তুরস্কের ন্যায় মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলের সাহিত্যই নয়, ইউরোপের অমুসলিম সাহিত্যেও এর সুস্পষ্ট প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

সুদূর গ্রীসেও মহাকবি হোমারকে এ অসাধারণ আত্মত্যাগের ঘটনা প্রভাবান্বিত করে। বিশ্ববিখ্যাত মহাকাব্য ইলিয়াডে উল্লেখ আছে, আউলিসে অবরুদ্ধ আগামেমনন দেবী ডায়ানাকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে নিজ কন্যা ইফিজেনিয়াকে বলিদানের সিদ্ধান্ত হয়। শেষ মুহূর্তে ইফিজেনিয়ার পরিবর্তে ডায়ানা একটি মেষ স্থাপন করেন। সেই মেষ জবাই করে সন্তুষ্টি লাভ করেন ডায়না।

এসবের মধ্য দিয়ে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, মহাকবি হোমার মীনা প্রান্তরে সংঘটিত, কোরবানির উপ্যাখ্যানে প্রভাবান্বিত হয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যেও ঈদুল আজহার বিপুল প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর রচনা কোরবানি।

গোনিউজ২৪/এন