১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৫ মে ২০১৭ , ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করছে ভাষা শহীদদের


গো নিউজ২৪ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ মঙ্গলবার
বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করছে ভাষা শহীদদের

আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি আজ স্মরণ করছে ভাষা আন্দোলনের সময় ঘাতকের বুলেটে শহীদ রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারদের।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মতো সারা বিশ্বে কোটি কণ্ঠে আজ উচ্চারিত হচ্ছে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।’ জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ দিনকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পর থেকে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে ঘটেছিল বাঙালির ইতিহাস পাল্টে দেয়ার ঘটনা। ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন রফিক, শফিক, সালাম, বরকত ও জব্বাররা। নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে তারা সমুন্নত রেখেছিলেন বাংলা রাষ্ট্রভাষার সম্মান।

বছর ঘুরে আবারও এসেছে ভাই হারানোর ব্যথা আর মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার গৌরবে অত্যুজ্জ্বল সেই দিন। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি পূরণের ৬৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে এই দিনে।

ইতিহাসবিদদের মতে, ভাষার প্রশ্নে একুশের আন্দোলন হলেও প্রকৃত আন্দোলন হলো শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সম্মিলিত বাঙালির প্রতিবাদ। সেদিন আত্ম-অধিকার, সমতাভিত্তিক সমাজ আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রবিনির্মাণের স্বপ্নে জেগে উঠেছিল তখনকার র্পূব পাকিস্তানের মানুষ। একুশের আন্দোলনেই ঘটে বাঙালরি আত্মবিকাশ, যার ধারাবাহিকতায়  দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে এসেছে ৭১'এর মুক্তিযুদ্ধ। হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে এসেছে অমৃত স্বাধীনতা।

একুশ বাঙালির চেতনার প্রতিক। মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে সারা দেশে অগণিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং বিদেশে যেখানে বাঙালি আছে সেখানেই গড়ে উঠেছে আমাদের অহঙ্কারের প্রতীক শহীদ মিনার। একুশে তাই আত্মত্যাগের অহঙ্কারে ভাস্বর মহান একটি দিন। জেগে উঠার প্রেরণা। দেশমাতৃকার প্রয়োজনে আত্মোৎর্সগ করার শপথ গ্রহণের দিন আজ।

ভাষার অধিকারের পক্ষে লড়ার পাশাপাশি, ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন শোষণের বিরুদ্ধে একুশ ছিল বাঙালীর প্রথম প্রতিরোধ। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালী জাতিসত্তার যে স্ফুরণ ঘটেছিল তা-ই পরবর্তীতে বাঙালীর জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক প্রেরণা যোগায়।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন।

আজ রাষ্ট্রীয় আয়োজনে একুশের অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয় রাত ১২টা ১ মিনিটে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তারা সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় নেপথ্যে বেজে উঠে অমর একুশের কালজয়ী গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...’।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে দলের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর একে একে শহীদ বেদীতে ফুল দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুসহ ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধান, আইজিপি, অ্যাটর্নি জেনারেল, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও ভাষা সৈনিকরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ হলে শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। রাত দেড়টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শহীদ মিনারে আসেন। তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতারা ছিলেন।

বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে খালি পায়ে আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিনটি সরকারি ছুটির দিন। অর্ধনমিত রাখা হয় জাতীয় পতাকা। একইসঙ্গে র্সবত্র ওড়ানো হয় শোকের কালো পতাকা। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে দেশের সরকারী-বেসরকারী টেলিভিশন, রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিও ব্যাপক অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্বীপগুলো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বর্ণমালা সংবলিত ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হবে।

বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করবে ছোট বড় প্রায় সব সংগঠন। এভাবে নানা আয়োজনে সারা দেশেই স্মরণ করা হবে ভাষা শহীদদের। জানানো হবে বিনম্র শ্রদ্ধা।

গো-নিউজ২৪/বিএস

শিল্প-সাহিত্য ও সংষ্কৃতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত