৮ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

বাবা-ছেলের খালেদার সফরসঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৭ রবিবার
বাবা-ছেলের খালেদার সফরসঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরসঙ্গী কারা হবেন তা নিয়ে এতদিন রাজনৈতিক মহলে নানা কৌতূহল থাকলেও তা এখন স্পষ্ট। এ সফরের কারণ ‘চিকিৎসা’ বলা হলেও রাজনীতিতেও এর অনেক তাৎপর্য রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির বিদেশি মিত্রদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

বিএনপির পররাষ্ট্র উইংয়ে যেসব নেতা কাজ করেন বা সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামসহ অন্যান্য পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কে কে নেত্রীর সফরসঙ্গী হতে পারেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন এতদিন সরগরম ছিল। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে ৫৮৭ ফ্লাইটে করে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন খালেদা জিয়া।

এই সফরে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে বিএনপিতে অর্থদাতা হিসেবে যারা পরিচিত তাদের মধ্যে অন্যতম বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার ছেলে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালের। খালেদা জিয়ার সঙ্গী হিসেবে আরও রয়েছেন একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার ও গৃহকর্মী ফাতেমা আখতার।

এছাড়া শুক্রবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ঢাকা থেকে লন্ডন গেছেন। ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ব্যাংকক থেকে লন্ডন গেছেন। ২০০৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর যুক্তরাজ্যে খালেদার এটি তৃতীয় সফর।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমানসহ তার পরিবার এবং ছোট ছেলে  প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে ঈদ উদযাপন করেন তিনি। ৬৭ দিন পর আবার দেশে ফিরে আসেন খালেদা জিয়া। এর আগে ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে দেশে ফেরার পথে বড় ছেলে তারেককে দেখতে লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

লন্ডনে বর্তমানে তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান ছাড়াও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি, তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানও রয়েছেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায়  (২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা) হুলিয়া নিয়ে গত নয় বছর ধরে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে লন্ডনে রয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল জানান, দুবাইয়ে দুই ঘণ্টার যাত্রা বিরতির পর রোববার সকালে লন্ডন পৌঁছাবেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন ‘ম্যাডামের চোখের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও ঠিক করা হয়ে গেছে।’

সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে ভিআইপি গেট দিয়ে বিমান বন্দরে প্রবেশ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা। খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে বিকেল থেকে বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। টার্মিনালে যেতে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধার মুখে পড়েন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদায় জানান।

ভিআইপি টার্মিনালের বাইরে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, মীর নাসির, আবদুল মান্নান, আবদুস সালাম, শামসুজ্জামান দুদু, আমানউল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, কবির মুরাদ, রুহুল কবির রিজভী, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সানাউল্লাহ মিয়া, নাজিমউদ্দিন আলম, অনিন্দ্র ইসলাম অমিত, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আখতার, কাজী আবুল বাশার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ দলের প্রধানকে বিদায় জানান।

পুলিশ বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নেতা-কর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়নি। খিলক্ষেতের হোটেল লা ম্যারিডিয়ান থেকে শুরু করে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ পর্যন্ত হাজার হাজার নেতা-কর্মী দলের নেত্রীকে হাত নেড়ে বিদায় জানান। নেতাকর্মীদের সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খায়রুল কবির খোকন, হাবিবউন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ইয়াসীন আলী, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আহসানউল্লাহ হাসান, শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদারসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছিলেন।

গো নিউজ২৪