১ পৌষ ১৪২৪, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৯:২০ পূর্বাহ্ণ

বাওড় নিয়ে দ্বন্দ্বে মন্দিরের প্রতীমা ভাঙচুর


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেট, যশোর  আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার
বাওড় নিয়ে দ্বন্দ্বে মন্দিরের প্রতীমা ভাঙচুর
ফাইল ছবি

যশোর: বাওড় নিয়ে দ্বন্দ্বে যশোরের মনিরামপুরে মন্দিরের প্রতীমা ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় একটি পক্ষ। শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে মনিরামপুরের মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রাজবাড়ী এলাকার মালোপাড়ার মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। 

শনিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জামাল-আল আবু নাসের, ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মনিরামপুরের মশ্মিমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান আবুল হোসেন স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলেন, ঝাঁপা বাওড় নিয়ে ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও সোনার বাংলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির মধ্যে দীর্ঘদিন দ্বন্দ্ব রয়েছে। ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সচিব এনআই খানের দুই ভাই হাবিবুর রহমান হাবিব খান ও কাবিল খান পক্ষ। আর সোনার বাংলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নেতা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস। 

এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলাও চলছিলো। মামলায় হাবিব-কাবিল পক্ষ বৃহস্পতিবার মামলায় জিতে গেছে এমন প্রচারণা থেকে শুক্রবার বিকাল থেকে বাওড় আয়ত্তে নিতে জড়ো হয়। এ পক্ষটি রাতে সশস্ত্র মহড়া দেয়। এক পর্যায়ে মৎস্যজীবীদের প্রধান এলাকা মালোপাড়ায় হামলা করে। সেখানে থাকা একটি মন্দিরের প্রতীমার হাত, গলা ভাঙ্চুর করা হয়। 

খবর শুনে শনিবার দুপুরের দিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই তথ্য দিয়ে একই ইউনিয়নের তিন ওয়ার্ড মেম্বার মিজানুর রহমান কাজী বলেন, এ ঘটনায় মালোদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরামপুর থানার ওসি মোকারম হোসেন বলেন, এটা কোন সাম্প্রদায়িকতা না। ঝাঁপা বাড় নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রতীমা ভাঙচুর করা হয়েছে। রাতে ভাঙ্চুর করা হয়েছে, তাই কে বা কারা ভাঙ্চুর করেছে সেটা তারা নিশ্চিত নন।

ওসি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষে রায় দেয়। এর আগে সোনার বাংলার সদস্যরা সেটা ভোগ দখল করতো। রায় পেয়ে ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমিতি শুক্রবার বিকালে বাওড়ে না নামতে মাইকিং করে। সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা দাবি করেছে, রাতে নাকি আবারও জড়ো হয় ঝাঁপা মৎস্যজীবী সমিতির লোকজন এবং তারা মন্দির ভাঙচুর করে। আর ঝাঁপা সমিতির লোকজনের ভাষ্য, তাদের ফাঁসানোর জন্য প্রতিপক্ষরা মন্দির ভাঙচুর করেছে। এভাবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঝাঁপা বাওড় সমবায় সমিতির পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া হাবিবুর রহমান খান বলেন, সোনার বাংলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি আদালতে হেরে গিয়ে এসব করছে। সোনার বাংলার পক্ষের ছাত্রলীগ নেতা সুব্রত মন্দির ভাঙচুর করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

গোনিউজ২৪/পিআর