৫ ভাদ্র ১৪২৪, রবিবার ২০ আগস্ট ২০১৭ , ৫:৩৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির (বিইউ) ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত


গো নিউজ২৪ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বৃহস্পতিবার
বাংলাদেশ  ইউনিভার্সিটির (বিইউ) ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বৃহস্পতিবার সকাল ১১.০০ ঘটিকায় রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির (বিইউ) ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী জনাব হাসানুল হক ইনু এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক জনাব মো: শাহ আলমগীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর চেয়ারম্যান জনাব কাজী জামিল আজহার। 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করে দেশে-বিদেশে কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন এমন ৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরা হলেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস্ ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ৮ম ব্যাচের মোঃ আনিসুর রহমান, ইংরেজী বিভাগের ৩২তম ব্যাচের অমৃত মালঙ্গী, আইন বিভাগের ১২তম ব্যাচের মো: মাহবুবুর রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের প্রথম ব্যাচের এসএম রবিউল ইসলাম, বিবিএ ৮ম ব্যাচের আব্দুস সবুর, আর্কিটেকচার ৫ম ব্যাচের মেহেদী হাসান এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ১৫তম ব্যাচের সাইমন আহমেদ।

এছাড়া বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আরবান ল্যাবে ‘জনস্বাস্থ্যের ওপর বায়ূদূষণের প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণা কর্মে অসামান্য অবদান রাখায় ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো: রুহুল আমিন ও কাজী আজহার আলী সার্ক প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এ প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালনের জন্য বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম কায়কোবাদ কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারির মাধ্যমে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরে বলা হয়। সমাপনী বক্তব্যে আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: আনোয়ারুল হক শরীফ। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, যে জাতি ইতিহাসের মর্যাদা দেয় না, সে জাতি ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে না। যে জাতি বীরের মর্যাদা দিতে পারে না, সে জাতি বীরের জন্ম দিতে পারেনা। যখন সকলে শক্তিশালী হয়, তখন শক্তিশালী নেতার দরকার পড়ে না। তিনি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের তাই শক্তিশালী মানুষ হওয়ার আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, পরিচয় সংকট নিয়ে কেউ মাাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনা। এ প্রসঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের পরিচয়- সবার আগে আমরা মানুষ, তারপর বাঙালি এবং তারপর ধর্মের পরিচয়। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কর্মকান্ডের  প্রশংসা করে বলেন, এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি এর সাথে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও তিনি থাকবেন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক শাহ মোঃ আলমগীর বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির গবেষণা কর্মের ভূয়সী প্রশংসা করে গণমানুষের স¦ার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের গবেষণা কর্মকা- অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কর্মে অব্যাহত সাফল্য ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমরা উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে কখনো আপোষ করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি হবে দেশের মডেল ইউনিভার্সিটি। যাতে ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ক্যাম্পাসে বসে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে উচ্চশিক্ষা লাভে ছাত্রছাত্রীরা তথ্য আদান প্রদান করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টিজ বোর্ডের সদস্যগণ, ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন অনুষদ প্রধান, শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অনুমোদন পায় ও আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। মাত্র ৩টি বিষয়ে মাত্র ১৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যে ইউনিভার্সিটি যাত্রা শুরু করেছিল সেখানে বর্তমানে ১০টি বিষয়ে ১৬টি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬ হাজারের অধিক। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি