১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, বুধবার ২৪ মে ২০১৭ , ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে ‘গণগ্রেফতার’ বন্ধের দাবি এইচআরডব্লিউ’র


গো নিউজ২৪ | ডেস্ক রিপোর্ট আপডেট: ১৭ জুন ২০১৬ শুক্রবার
বাংলাদেশে ‘গণগ্রেফতার’ বন্ধের দাবি এইচআরডব্লিউ’র

‘অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়াই’ বাংলাদেশে নির্বিচারে ‘গণগ্রেফতার’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গত কয়েকদিনে দেশে চলমান বিশেষ অভিযানে হাজার হাজার মানুষের গ্রেফতারের ঘটনার প্রতিবাদে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা এই আহ্বান জানায়। গণগ্রেফতারের পরিবর্তে বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক লেখক, সমকামী অধিকারকর্মী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের সুষ্ঠু তদন্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছে এই সংগঠনটি।

 

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানায় এইচআরডব্লিউ।

 

দেশজুড়ে চলমান গণগ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে এইচআরডব্লিউ বলে, ১০ জুন থেকে ১৬ জুনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অসাম্প্রদায়িক বা নাস্তিক ব্লগার, অমুসলিম, সমকামী সমর্থকদের হত্যার ঘটনায় প্রায় ১১ হাজারেরও বেশি গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু এই গ্রেফতারের কোনও বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি নেই, গ্রেফতারকৃতদের বিচার ছাড়াই অপরাধী বলা হচ্ছে অথবা ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ‘লেখক-প্রকাশক-ব্লগার হত্যার পরপরই বিশেষ কিছু না করে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই পুরনো পথেই ফিরে গেছে। তারা প্রকৃত তদন্ত বাদ দিয়ে এখন সন্দেহভাজনদের নাম করে দেশজুড়ে গণগ্রেফতার চালাচ্ছে।’

 

বাংলাদেশে ২০১৩ সাল থেকে লেখক-প্রকাশক ও ব্লগার হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া গুপ্তহত্যায় এখন পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আইএস, আনসার-আল-ইসলাম, আল কায়েদার সঙ্গে জড়িত সংগঠন বিবৃতি দিলেও বিষয়টিতে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সরকারও এদের যোগসূত্রের বিষয়টি বারবার অস্বীকার করেছে। এসব খুনের ঘটনায় সরকারও তেমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। কয়েকটি খুনের পর কয়েকজনকে গ্রেফতার করা ছাড়া তাদের উল্লেখ্যযোগ্য কোনও সাফল্য নেই। এরমধ্যে দুজন সমকামী অধিকার কর্মী, একজন পুলিশ সুপারের স্ত্রীর মতো হাই প্রোফাইলদের হত্যাকাণ্ডের পর সরকারের পক্ষ থেকে জঙ্গিদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এই ‘গণগ্রেফতারের বিশেষ অভিযান’ হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে পারেনি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

 

গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গ্রেফতারের নামে পুলিশ সাধারণ লোকদের কাছ থেকে ‘বাণিজ্য’ করছে। গ্রেফতারের পর হাজতখানায় নিয়ে মারধরের পর প্রত্যেকের মুক্তির জন্য দাবি করা হচ্ছে ১ লাখ টাকা। অন্যদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে গ্রেফতারের নাম করে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এইরকম ‘পরিচিত দৃশ্য’ এর বিষয়ে এইচআরডব্লিউর কাছে অভিযোগ আছে বলেও জানায় তারা।

 

কয়েকদিনের মধ্যে কয়েক হাজার গ্রেফতার বাংলাদেশের একটি পরিচিত দৃশ্য উল্লেখ করে বিবৃতি এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক অ্যাডামস বলেন, ‘তারপরও সরকারের এই অভিযান আমাদের আশা দেয় যে, চলমান গুপ্তহত্যা বন্ধে সরকার আস্থা তৈরি করতে পারবে বা গুপ্তহত্যা বন্ধে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে।’

 

গো নিউজ২৪/জা আ