৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ , ৬:৩৯ অপরাহ্ণ

বনানীতে ধর্ষণের ৪৮ মিনিটের সেই ভিডিও জব্দ!


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আপডেট: ২০ মে ২০১৭ শনিবার
বনানীতে ধর্ষণের ৪৮ মিনিটের সেই ভিডিও জব্দ!

রাজধানীর বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণ ঘটনার ৪৮ মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ জব্দ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। 

রিমান্ডে থাকা মামলার আসামি নাঈম আশরাফের মোবাইল থেকে এ ভিডিওটি পাওয়া গেছে বলে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র।

তবে পুলিশের আরেকটি সূত্র বলেছে, ভিডিওটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
 
গত ২৮ মার্চ একই রুমে সাফাত এবং তার বন্ধু নাঈম দুই তরুণীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছিল, আর সেখানেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছিল ড্রাইভার বেল্লাল। টানা ৪৮ মিনিট মোবাইল ক্যামেরায় নির্যাতনের সেই দৃশ্য ধারণ করে বেল্লাল। 

রিমান্ডে বেল্লাল ওই ভিডিও মুছে ফেলার কথা জানালেও একটি সূত্র বলেছে, তার আগেই নাঈম আশরাফ ও সাফাত তাদের মোবাইলে ওই ভিডিও নিয়ে নেয়। 

বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে গত ২৮ মার্চ দুই তরুণীকে ধর্ষণের ভিডিও করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাফাতের এক বন্ধু বলেছে, ওই ভিডিওটি ছিল মোট ৪৮ মিনিটের। সাফাত ওই ভিডিওর কথা তার বন্ধুদের বলেছিলেন। 

তবে ভিডিওতে কী আছে তা দেখেননি বলে জানিয়েছেন ওই তরুণ। তিনি বলেছেন, বন্ধু সার্কেলে বলাবলি হচ্ছিল ভিডিওটি সাফাতের নিজের মোবাইল এবং নাঈমের মোবাইলে রয়েছে।

গত ২৮ মার্চ রাতে রাজধানীর বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করা হয় দুই ছাত্রীকে।  রাতভর ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি দুই ধর্ষক সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম আবদুল হালিম)। ধর্ষণের পর গর্ভধারণ রোধে দুই তরুণীকে সেদিন জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ায় তারা।

ধর্ষিত দুই তরুণীর এক চিকিৎসক বন্ধু সেই বড়ি খাওয়ার জন্য নিষেধ করে। এ কারণে সেই বন্ধুকে মারধর করে ইয়াবা খেতে বলে। পরে সেই ইয়াবা খাওয়ার ভিডিও ধারণ করে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল। তারপর সাফাত ও নাঈম বলে, ‘এই ঘটনা যদি কাউকে বলিস, তবে ইয়াবার মামলা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেব। তোদের ইয়াবাখোর বানিয়ে দেব।’

জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ানোর পরও দুই তরুণীকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। যে দুটি কক্ষে দুই তরুণীকে সাফাত ও নাঈম ধর্ষণ করে তার মাঝখানে একটি ফলস পার্টিশন ছিল। সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে বিল্লাল ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে।

ধর্ষণের স্বীকার একজন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কাজ করতেন। ওই তরুণী গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ এবং সাদমান সাকিফ এবং সাফাতের বডিগার্ড রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদ এবং ড্রাইভার বেল্লালকে আসামি করে একটি মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে পাঁচজনই গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাফাত ও সাকিফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

মামলা দায়েরকারী তরুণী অভিযোগ করেন, সাফাতের ড্রাইভার বেল্লাল ধর্ষণের দৃশ্য তার মোবাইলে ধারণ করেন।

জানা গেছে, হোটেল কক্ষের বাথরুমের পাশের ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য ধারণ করেছিল বেল্লাল। তবে রিমান্ডে বেল্লাল বলেছেন, ঘটনার পর সে ওই ভিডিও ডিলিট করে দিয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের পর তার মোবাইল জব্দ করে ভিডিওটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তার মোবাইলে ওই দিনের কোনো দৃশ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলেছে, সাফাত ও সাদমানের মোবাইলেও ওই ভিডিও পাওয়া যায়নি।

এ দিকে মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও রেইনট্রি হোটেলের অন্যতম পরিচালক মাহির হারুন এখনো বহাল তবিয়তে। অভিযোগ উঠেছে, হোটেলে অবস্থান করতে এবং ধর্ষণের আলামত নষ্ট করায় সহায়তা করেছেন মাহির বিন হারুন। ধর্ষিতা তরুণীদের একজন অভিযোগ করেছেন, ঘটনার রাতে সাফাতের জন্মদিন অনুষ্ঠানে কেক দিয়ে এসেছিলেন মাহির। তবে সেখানে বেশি ক্ষণ থাকেননি। অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যের ছেলে হওয়ায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদেরও প্রয়োজন মনে করছে না। তবে পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, মাহিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই ভিডিও উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় আসামিদের সবাই ওই ভিডিও ডিলিট করে দিয়েছেন। মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেছেন, ভিডিওটি উদ্ধার এখনো সম্ভব হয়নি। তবে মোবাইলে ভিডিও করলে তা ডিলিট করলেও উদ্ধার সম্ভব। তদন্তকারীরা সেই চেষ্টা চালাচ্ছেন।

 

 

গো নিউজ২৪/এএইচ