৫ মাঘ ১৪২৩, বুধবার ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ , ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরো ২৫ বছর আগেই উন্নত হতো দেশ


গো নিউজ২৪ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৭ মঙ্গলবার
বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আরো ২৫ বছর আগেই উন্নত হতো দেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে আরো ২৫/৩০ বছর আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হতো ।

আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত আওয়ামী লীগের জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ৭৫ এর পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই  জাতিকে মাথা উঁচু করতে দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আন্দোলনের নামে মানুষ খুন, অগ্নিসংযোগ এবং তাণ্ডব চালানোর অপরাধে বিএনপি ও তার দোসরদের একদিন গণআদালতে বিচার হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার ডাকে সারা দিয়ে দেশের মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়ে নয় মাস যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছিল। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল এ দেশের জনগণ। ৩২ নম্বরের বাসা থেকে বঙ্গবন্ধু যেসব নির্দেশ দিতেন, তা জনগণ মেনে নিতো।'

তিনি বলেন, '১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী এদেশে গণহত্যা শুরু করে। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করে দেশকে শত্রুমুক্ত করার আহ্বান জানান। তার ডাকেই সাড়া দিয়ে যুদ্ধ করে এদেশের মানুষ দেশকে স্বাধীন করে। ইয়াহিয়া খান ফাঁসি দিয়ে জাতির পিতাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। বিশ্বজনমতের চাপে শাসকরা তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। পরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মুক্তি পেয়ে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসেছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ জানুয়ারি বাঙালির জীবনে একটি ঐতিহাসিক দিন। দেশে ফিরে এসে একটি বিধ্বস্ত দেশকে জাতির পিতা গড়ে ত‍ুলতে চেয়েছিলেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে উঠে যখন মানুষ জাতির পিতার নেতৃত্বে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তখন জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর সহচর ছিল, যারা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে ছারখার করেছিলে, সেই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৫ আগস্টে তাকে হত্যার পর যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে দেয় জিয়াউর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেছেন, 'এতিমের টাকা চুরি করে খেয়েছেন। এতিমের নামে টাকা এসেছে। মামলায় হাজিরা দিতে যান। একদিন যান তো ১০ দিন যান না, পালিয়ে বেড়ান, ব্যাপারটা কী? এতেই তো ধরা পড়ে যায় যে চোরের মন পুলিশ পুলিশ।'

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘তাঁর কাছ থেকে রাজনীতি শিখতে হবে, গণতন্ত্র শিখতে হবে—সেটা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবে মেনে নেবে না। আজকে দেশের মানুষ শান্তিতে আছে, স্বস্তিতে আছে। দেশের মানুষ সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখে। মানুষ যখন ভালো থাকে, তখন তাঁর অন্তরজ্বালা সৃষ্টি হয়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্যের।’

জনসভায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মানুষ হত্যা করে, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায়, তাদের হাতে-মুখে গণতন্ত্র সুরক্ষার কথা মানায় না। তারা জঙ্গি, তারা সন্ত্রাসী। বাংলার মানুষ তাদের বিচার করবে। গণআদালতে একদিন এদের বিচার হবে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তার আমলে ১৯টি ক্যু হয়েছিল। কারফিউ দিয়ে দেশ চালান তিনি। ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন। তারা একদিকে হত্যা করে, আর একদিকে আওয়ামী লীগের লোকজনকে ধরে নিয়ে যায়।'

সরকারের লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। বাংলাদেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত। ২০২১ সালে আমরা সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমাব। সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করব। প্রত্যেকটি ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শিখবে। বাংলাদেশের মানুষ খাদ্যনিরাপত্তা পাবে, পুষ্টি পাবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা—সব ক্ষেত্রে যাতে ডিজিটাল হয়, তার ব্যবস্থা করে দেব।’

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন প্রমুখ।

গো-নিউজ২৪।/বিএস