৫ শ্রাবণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২০ জুলাই ২০১৭ , ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

ফেসবুক প্রেমে একে একে এদেশে ছুটে আসছেন বিদেশি সুন্দরীরা


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আপডেট: ১৮ মে ২০১৭ বৃহস্পতিবার
ফেসবুক প্রেমে একে একে এদেশে ছুটে আসছেন বিদেশি সুন্দরীরা
থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসে অনিক খানকে বিয়ে করেছেন সুপুত্তো ওরফে ওম ওরফে সুফিয়া খাতুন

ভাষা-সংস্কৃতি, ধর্ম-বর্ণসহ নানা সংস্কার ও ভেদাভেদ ত্যাগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রেম করে এদেশে ছুটে আসছেন অনেক বিদেশী সুন্দরী তরুণী।

শুধু তরুণ-তরুণীই নয়, ৪০-৫০ বয়সী নর-নারীও আসক্ত হয়ে পড়েছেন ফেসবুক প্রেমে। তারা প্রিয়জনের জন্য ঘর ছাড়ছেন। হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে উড়ে আসছেন বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে।

সর্বশেষ প্রেমের টানে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন এক থাই-কন্যা। বিয়ে করেছেন ভালোবাসার মানুষটিকে। গতকাল বুধবার নাটোরের আদালতে বিয়ের কাজটি সম্পন্ন করেন তাঁরা। এই দম্পতি হলেন থাইল্যান্ডের সুপুত্তো ওরফে ওম ওরফে সুফিয়া খাতুন এবং বাংলাদেশের অনিক খান।

গতকাল বিকেলে আদালত চত্বরে বসে সুপুত্তো বলছিলেন, ‘থাইল্যান্ডের সমাজে বহু বিবাহ একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি এটা পছন্দ করি না। তাই বিয়ে করছিলাম না। হঠাৎ করে ফেসবুকে বাংলাদেশের অনিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওর সরলতা আমাকে মুগ্ধ করে। ধীরে ধীরে ওর প্রতি আমার আস্থা জন্মেছে। আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। ওকে আপন করে নেওয়ার জন্য বারবার এ দেশে ছুটে এসেছি। এবার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বিয়ে করে আমি এখন দারুণ সুখী।’

ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠা প্রসঙ্গে ৩৬ বছর বয়সী সুপুত্তো বলেন, পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে ব্যাংকে চাকরি করতেন। সেটা ছেড়ে দিয়ে এখন ফাস্ট ফুডের ব্যবসা করেন। দোকানে বসে ফেসবুক ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে বাংলাদেশের ২২ বছরের তরুণ অনিক খানকে বন্ধুত্বের প্রস্তাব (ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট) পাঠান। প্রথমে দুজনের মধ্যে ফেসবুকে কথা হতো। 

পরে ফোনে কথাবার্তা চলতে থাকে। পরস্পরের প্রেমে পড়ে যান তাঁরা। গত ফেব্রুয়ারিতে বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে তিনি প্রেমের টানে বাংলাদেশে ছুটে আসেন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান অনিক। এত দিন যাঁর সঙ্গে পরিচয় ছিল ভার্চ্যুয়াল জগতে, বাস্তবে তাঁকে দেখে আরও ভালো লেগে যায়।

অনিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দেন জানিয়ে এই থাই-কন্যা বলেন, ‘সে যাত্রায় অনিকের পরিবারের লোকজন বিয়ের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। মাত্র পাঁচ দিনের ভিসা নিয়ে আসায় ‘না’ সূচক উত্তর নিয়েই বাড়ি ফিরে যাই।’ 

এ মাসের প্রথম দিকে আবার তিনি ছুটে আসেন, পারিবারিক সম্মতি আদায়ে সফলও হন। তবে বিষয়টা খুব সহজ ছিল না। তাঁর ভাষায়, ‘অনিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে-পায়ে ধরেছি। দিনের পর দিন কান্নাকাটি করেছি। না খেয়ে অনশন করেছি। ১৮ মে পর্যন্ত ভিসার মেয়াদ। এর এক দিন আগে ধর্মীয় ও আইনিভাবে বিয়েটা সম্পন্ন করলাম। নাম নিয়েছি সুফিয়া খাতুন।’

প্রেমের সফল পরিণতিতে খুশি সুফিয়া বললেন, ‘মানুষের জীবন একটা। জীবনের সঙ্গীও একটা হওয়া উচিত। আমার সমাজে সেটা নেই। আমি বিশ্বাস করি, অনিক আমার জীবনে একমাত্র সঙ্গী হয়ে থাকবেন। ওকে পেয়ে আমি দারুণ খুশি।’

এই প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনিক খান বলেন, তাঁর বাড়ি নওগাঁ আত্রাই উপজেলার শাহগোলা গ্রামে। পড়ালেখা তেমন একটা করেননি। তবে ভাঙা ভাঙা ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারেন। সেখানে তাঁর একটা মুঠোফোন মেরামতের দোকান আছে। দোকানে বসে অলস সময় কাটাতে গিয়ে ফেসবুকে থাই-কন্যার সঙ্গে পরিচয়। তাঁরা এক অপরের সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে থাকতে পারেন না। বললেন, ‘ওম আমাকে একটা ভালো মোবাইল ফোন সেট উপহার দিয়েছে। দুজনের ফোনেই সব সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকে। আমরা ভিডিও কল করে দীর্ঘ সময় কথা বলি। এভাবেই পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেছি।’

স্ত্রীকে নিয়ে বলেন, ‘ও আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি ওর সঙ্গে সারা জীবন থাকতে চাই।’

অনিকের বাবা আজাদ হোসেন বলেন, ‘মেয়েটি খুব ভালো। আমাদের আপন করে নিয়েছে। আমরা গরিব, শিক্ষিতও না। কিন্তু এ নিয়ে ওর কোনো কষ্ট নেই।’ পুত্রবধূ তাদের ছেড়ে যাচ্ছে, এ জন্য তাদেরও কষ্ট হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গেল জানুয়ারি মাসেই ব্রাজিল, কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিন নারী প্রেমের টানে উড়ে এসে বিয়ে করেছেন হবিগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও মাগুরার তিন তরুণকে। অনেকের বয়সের বিস্তর ব্যবধান থাকলেও তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

গত ৩ এপ্রিল ফেসবুকে প্রেমের সূত্র ধরে সুদূর ব্রাজিল থেকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর গ্রামের বলাই ঘোষের ছেলে সঞ্জয় ঘোষের (২৮) কাছে ছুটে এসেছেন জেইসা ওলিভেরিয়া সিলভা (২৯)। তারা বিয়ের সিদ্ধান্তও নিতে যাচ্ছেন।

জেইসার কথা, এদেশ তার খুবই ভালো লেগেছে। এ দেশের মানুষ খুবই সৎ। তাই সঞ্জয় যদি তাকে জীবনসঙ্গী করতে চায় তাহলে আপত্তি নেই।

এর আগে গেল বছরের ডিসেম্বর মাসে ব্রাজিলীয়ান নারী সেওমা ভিজেহা (৪৭) প্রেমের টানে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ছুটে আসেন হবিগঞ্জে নবীগঞ্জের ছেলে কলেজছাত্র আবদুর রকিবের (২২) কাছে। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ রকিবকে বিয়ে করেন সেওমা।

একই সময়ে (২ জানুয়ারি) এলিজাবেথ (২১) নামে এক মার্কিন তরুণী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে আসেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি গ্রামের পঞ্চানন্দ বিশ্বাসের ছেলে মিঠুন বিশ্বাসের (২২) কাছে। ফেসবুকে তাদের পরিচয় ও প্রেম। এর সূত্র ধরেই পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন মিঠুন ও এলিজাবেথ।

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সুবাদে মাগুরার ছেলে কাজী মারুফুজ্জামান চন্দনের সঙ্গে প্রেম হয় অস্ট্রেলীয় নারী আসান ক্যাথরিনার। প্রেমের টানেই সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে ক্যাথরিনা ছুটে আসেন চন্দনের মাগুরার বাড়িতে। এসে সংসার পাতেন। ক্যাথরিনা বলেন, ‘এদেশে এসে আমি খুব খুশি। ভাবতেও পারিনি এদেশের মানুষ আমাকে এতটা আপন করে নেবে।’

প্রেমের টানে গেল বছরের ৩০ মার্চ সপরিবারে অস্ট্রেলিয়া থেকে বরিশালে আসেন এমিলি রেবেকা পার নামের এক তরুণী। নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল আলম গুলজারের ভাতিজা সাইদুল আলম রুমানকে বিয়ে করেন।


গো নিউজ২৪/এএইচ