১০ শ্রাবণ ১৪২৪, মঙ্গলবার ২৫ জুলাই ২০১৭ , ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ

প্রেমিকের ‘সম্মানে’ স্বামীর গোপনাঙ্গ কাটলেন নববধূ!


গো নিউজ২৪ | লালমনিরহাট প্রতিনিধি আপডেট: ১৩ জুলাই ২০১৭ বৃহস্পতিবার
প্রেমিকের ‘সম্মানে’ স্বামীর গোপনাঙ্গ কাটলেন নববধূ!

লালমনিরহাট: আদিতমারীতে বিয়ের ৩ দিনের মাথায় দিনের বেলায় নববধূ তার স্বামী নুর কুতুব সুজনের (২২) গোপনাঙ্গ কেটে দিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১১ জুলাই) দুপুরে আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামে। তাৎক্ষণিক মুমূর্ষ অবস্থায় সুজনকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (১২ জুলাই) রাতে সুজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের লোকজন বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। গণমাধ্যমকর্মীরা রাতেই ঘটনা জানতে পারেন।

সুজন আদিতমারীর পলাশী ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। তার নববধূ আরফিনা আকতার হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের ভ্যানচালক আশরাফুল ইসলামের মেয়ে। তিনি হাতীবান্ধা দইখাওয়া আদর্শ ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

সুজনের চাচা মদনপুর গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়া জানান, তার ভাতিজার পুরুষাঙ্গের রগ কেটে যাওয়ায় ২৪টি সেলাই দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

গ্রামবাসী জানান, কলেজছাত্রী আরফিনাকে গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে সুজনের (২২) সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। রাতেই নববধূকে নিয়ে সুজন তার বাড়িতে চলে আসেন। দুদিন পর মঙ্গলবার দুপুরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে নববধূ আরফিনা দা দিয়ে স্বামী সুজনের পুরুষাঙ্গে কেটে দেন।

এসময় সুজনের চিৎকারে ঘরের দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর ভর্তি করানো হয়। পরদিন রংপুর মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

নববধূ আরফিনা জানান, বছয় দুয়েক আগে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন থেকে একই উপজেলার কেটকিবাড়ি গ্রামের সহপাঠী রুবেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর তারা কলেজে ভর্তি হন। তবে হঠাৎ করে তার বাবা আশরাফুল গত রোববার তার বিয়ের আয়োজন করে। এতো দ্রুত বিয়ে ঠিক করায় প্রেমিক রুবেলের কথা পরিবারকে জানাতে ব্যর্থ হন আরফিনা।

তবে বিয়ের দিন ঘটনাটা প্রেমিক রুবেলকে মোবাইল ফোনে জানান আরফিনা। কিন্তু রুবেলের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে নববধূ সেজে স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হন। মঙ্গলবার দুপুরে তার স্বামী জোর করে দৈহিক সম্পর্ক করতে চাইলে বাধা দেন আরফিনা। এক পর্যায়ে নিরূপায় হয়ে নববধূ আরফিনা দা দিয়ে তার স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেন।

এদিকে ঘটনার পর থেকে নববধূ আরফিনাকে দেখতে স্বামী সুজনের বাড়িতে ভিড় করছেন অসংখ্য নারী-পুরুষ। ভিড় সামলাতে তাকে পাশের বাড়ির রাখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার জন্য মদনপুর গ্রামে ছুটে এসেছেন পলাশী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী ও ইউপি সদস্য মহুবর রহমান।

সুজনের জ্যাঠা বদিয়ার রহমান জানান, প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে ভাতিজার। গোপনাঙ্গের মাঝামাঝি রগ কেটে যাওয়ায় সেড়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আদিতমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কোন পক্ষেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেশ্বর রায় খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

গো নিউজ২৪/এএইচ