৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭ , ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

পুরুষ দেখলেই পোশাক খুলে ফেলতেন তিনি!


গো নিউজ২৪ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৭ বৃহস্পতিবার
পুরুষ দেখলেই পোশাক খুলে ফেলতেন তিনি!

আঁখি৷ ডাক্তারদের দেওয়া নামটিই তাঁর একমাত্র পরিচয়৷ আসল নাম কেউ জানে না৷ বাড়ি ভারতের ওড়িশায়৷ কিন্তু ঠিক কোথায় তা আজও মনে করতে পারেননি ওই যুবতী৷ প্রায় পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি লম্বা৷ পাঞ্জাবি মহিলাদের মতো শরীরের গড়ন৷ ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর বন্দর এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ পাভলভে নিয়ে এসেছিল৷ দীর্ঘদিন সেখানে চিকিৎসা চলেছে৷

রোগের জ্বালায় মাঝমধ্যে খবরের শিরোনামে এসেছেন৷ ডাক্তার-নার্স-সাফাইকর্মী অনেকেই ‘শো-কজ’-এর চিঠি পেয়েছেন তাঁর পোশাক-খোলা উপসর্গের ঠ্যালায়৷ ফিমেল ওয়ার্ডে কোনও পুরুষ এলেই জামাকাপড় খুলে ফেলতেন আঁখি৷ অপ্রস্তুত হয়ে পড়তেন চিকিৎসকরা৷ বাধা দিতে গেলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যেত৷ আঁখির জন্য সাসপেন্ড হতে হয় পাভলভের তৎকালীন সুপার সুবোধরঞ্জন বিশ্বাস-সহ তিন আধিকারিককে৷ কেউ ভাবেনি এই মেয়েই একদিন সুস্থ হয়ে রোজগেরে হবে৷ তৈরি করবে নজির৷ ‘আইওপি’-র অধিকর্তা ডা. প্রদীপ সাহা থেকে ‘সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্ক’ বিভাগের প্রধান ইলোরা পারিখ, পরিতৃপ্তির হাসি সবার মুখে৷ প্রদীপবাবুর কথায়, “পাভলভ থেকে যখন আঁখিকে আইওপি-তে নিয়ে আসা হয়েছিল তখন ভাবিনি যে ওকে সুস্থ করিয়ে কাজ করার উপযুক্ত করে তুলতে পারব৷ সবার চেষ্টায় এই অসাধ্য সাধন হয়েছে৷”

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫-তে৷ আইওপি পরিদর্শনে এসেছিল সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটি৷ যার চেয়ারপার্সন ছিলেন ধরিত্রী পন্ডা৷ পরিদর্শনের সময় আঁখিকে চোখে পড়ে ধরিত্রীদেবীর৷ তখনই আঁখির পুনর্বাসনের জন্য তৎকালীন স্বাস্থ্যসচিব মলয় দে ও স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. বিশ্বরঞ্জন শতপথীকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানান৷ “সেই অনুরোধ মেনেই আঁখির জন্য কাজ খুঁজতে শুরু করি আমরা”,বলেন প্রদীপবাবু৷ কৃষ্ণনগরে ‘পঙ্কজ আচার্য মহিলা নিবাস সমিতি’ নামে একটি হোমের সন্ধান মেলে৷ সম্প্রতি আঁখিকে হোমে পাঠানো হয়৷ তিনি এখন মন দিয়ে কাজ করছেন ওই হোমে৷-সংবাদ প্রতিদিন

গো নিউজ২৪/এএইচ