২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৩:১৪ অপরাহ্ণ

পিলখানা ট্র্যাজেডি: অসমাপ্ত রায় পড়া শুরু


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার
পিলখানা ট্র্যাজেডি: অসমাপ্ত রায় পড়া শুরু

ঢাকা: বহুল আলোচিত পিলখানার বিডিআর ট্র্যাজেডিতে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের আপিলের রায়ের অসমাপ্ত অংশ পড়া শুরু হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন হাইকোর্টের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

এদিকে মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী ছাড়া আদালতে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।এমনকি স্বজনদের কাউকে রায় শোনার জন্য ভেতরে ঢোকানো হয়নি। তবে পরিচয়পত্র দেখে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়া হয়েছে।

এর আগে গতকাল রোববার সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে আসামি সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ মামলার রায় পড়া শুরু হয়।  প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, রায়ে এক হাজার পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

দুপুর ১টায় আদালত বিরতিতে যাওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের পর কালকেও বিচারকরা আবার পর্যবেক্ষণ পড়বেন। আজকে অর্ডারিং পোরশন (সাজার অংশ) তারা দেবেন বলে মনে হয় না।’

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআরের সদর দপ্তরে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। বিচার হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন আলিয়া মাদ্রাসা মাঠসংলগ্ন অস্থায়ী এজলাসে। বিচার শেষে ঢাকা মহানগর তৃতীয় বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বিডিআরের প্রাক্তন ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া বিএনপি দলীয় প্রাক্তন সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু (প্রয়াত) ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২৭৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। রায়ের পর বিভিন্ন সময়ে আসামিরা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করেন। এর মধ্যে ৬৯ জনকে খালাস দেওয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেন। গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ উদ্যোগ নেন। বিশেষ ব্যবস্থায় এই মামলার পেপারবুক তৈরি করা হয়।

গোনিউজ/এমবি