১৬ বৈশাখ ১৪২৪, রবিবার ৩০ এপ্রিল ২০১৭ , ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ

পাপোসেই ভাগ্য খুলেছে ফাতেমার


গো নিউজ২৪ | জেলা প্রতিনিধি
|
পাপোসেই ভাগ্য খুলেছে ফাতেমার

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্ত এলাকার আত্মপ্রত্যয়ী ফাতেমা পাপোস তৈরির কারখানা গড়ে তুলে নিজে হয়েছেন স্বাবলম্বী। অন্যদেরও আয়ের পথ দেখিয়েছেন সংগ্রামী এ নারী। 

জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার গ্রামের দরিদ্র পরিবারে মেয়ে ফাতেমা বেগম। অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা ফাতেমার বিয়ে হয়েছিল কিশোরী বয়সে। রানীশংকৈল উপজেলার কাদিহাট গ্রামে বাবুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ের দু’বছরের মাথায় কোলজুড়ে আসে নতুন মুখ। স্বামীর ঘরেও নেমে আসে অভাব নামে এক দানব।

অভাবের তাড়নায় স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে স্বামী চোরাই পথে পাড়ি দেয় ভারতে। তখন ফাতেমা চোখে অন্ধকার দেখেন। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ফাতেমা চলে যান ঢাকায়। সেখানে পাপোস তৈরির কাজ শিখে স্বামীর বাড়ি ফিরে আসেন। 

২০০৪ সালে ৪টি তাঁত বসিয়ে শুরু জীবনযুদ্ধের পথচলা। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। কয়েক বছরের মাথায় নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে অন্য নারীদেরও দেখিয়েছেন বাঁচার পথ।

ফাতেমার কারখানায় সুলতানা বেগম নামে একজন বলেন, “আগে আমার সংসারে অনেক অভাব ছিল। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারতাম না। কিন্তু ফাতেমার এখানে কাজ করার পর থেকে সংসারের অভাব দুর হওয়ার পাশাপাশি বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাচ্ছি এখন।” 

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মোছা তুলি বলেন, “নিজের পড়ালেখার খরচ এখন নিজেই চালাতে পারি। আবার পাশাপাশি বাবা- মাকে আর্থিক সহযোগিতাও করি আমি। অনেক খুশি এখন আমি সংসারের জন্য আমিও কিছু করতে পারছি ভেবে।” 

খাদিজা বেগম নামে আরেকজন বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পরে সন্তানদের নিয়ে জীবন চলা অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল আমার। মাঠে কাজ করে সন্তানদের দেখাশুনা করতে পারাটা অনেক কষ্টের হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ফাতেমা আপার কারখানায় কাজ হওয়ার পর থেকে সন্তানদের দেখাশুনাও করতে পারতেছি। এখন সন্তানদের নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখি আমি।”

ফাতেমার এ উদ্যোগ দেখে এলাকার অনেকেই গড়ে তুলেছেন এই শিল্প। এখানে উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের পাপোস, ওয়ালম্যাট, কার্পেট, জায়নামাজসহ বিভিন্ন সৌখিন পণ্য। আর এসব পণ্য চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাহিরেও।

ফাতেমা জানান, সুতা ও ঝুটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। তবে কোনো বিড়ম্বনা ছাড়াই স্বল্পসুদে ঋণ পেলে এ শিল্পে যুক্ত হয়ে বেকারত্ব ঘুচবে অনেকের। নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির পাশাপাশি উৎসাহ পাবে তারা।

এ ব্যাপারে ফাতেমা বেগত জানান, স্বামী ভারতে চলে যাওয়ার পরে আমার জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছিল। কিন্তু আমি হার মানি নাই। জীবনযুদ্ধে জয় পাওয়ার আশায় ঢাকায় চলে যাই। কাজ শিখে নিজ এলাকায় এসে নিজের এবং অন্য নারীদের উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করি। এখন আমি আমার জীবন যুদ্ধে সফল হয়েছি। আমি মনে করি নারীরা আর দুর্বল নয়, পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এখন অনেক এগিয়ে গিয়েছে।

কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, “এ খাতের উন্নয়নে সরকারের নজর আর বিপনন ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং প্রশিক্ষণ আর কারিগরি সহায়তা দেয়া হলে এ শিল্পের প্রসার ঘটবে।” 

ঠাকুরগাঁও জেলা নারী বিষয়ক কর্মকর্তা মোর্শেদ আলী খান বলেন, “অবহেলিত নারীদের জন্য ফাতেমা একটি দৃষ্টান্ত। নারীরা আর পিছিয়ে নেই এটা ফাতেমাকে দেখলেই বোঝা যায়। আমরা ফাতেমার পাশে আছি সবসময়। ফাতেমার কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা তাকে সহযোগিতা করবো।”

গোনিউজ২৪/এম