৫ মাঘ ১৪২৩, বুধবার ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ , ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ

‘আমার কথা’

পর্যটন ও ভ্রমন


গো নিউজ২৪ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৭ বুধবার
পর্যটন ও ভ্রমন

সৈয়দ আবুল হোসেন বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘আমার কথা’। এই বইয়ে তিনি নিজের চিন্তা, কর্মকাণ্ড, মূল্যবোধ, নানা অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে লিখেছেন। এটি পড়লে তাকে যারা পুরোপুরি চিনেন না তাদের সুবিধা হবে। বইটি Gonews24.com ধারাবাহিকভাবে ছাপছে। বইটির আজকের পর্বে থাকছে- ‘​পর্যটন ও ভ্রমণ’ পর্যটন ও ভ্রমণ জ্ঞান অর্জনের একটি অতি কার্যকর মাধ্যম। আনন্দের সঙ্গে জ্ঞান অর্জনের এমন মাধ্যম পৃথিবীতে আর নেই। প্রতিবছর বাংলাদেশে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আড়াই লাখের বেশি ভ্রমণপিপাসু মানুষ বেড়াতে আসে। আমাদের সফল পর্যটনকেন্দ্র প্রাকৃতিকভাবে বিশাল, সুন্দর, আকর্ষণীয় এবং নিরাপদ; কিন্তু পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে যা করা প্রয়োজন, তা পুরোপুরি এখনও করা সম্ভব হয়নি। তবে উদ্যোগ থেমে নেই। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে আরও বহুগুণ গতিশীল করে তুলতে পারি। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের যোগাযোগ ও পর্যটন খাত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল। আমি যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে সড়ক ও জনপথ, রেল ও সেতু বিভাগ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে পৃথক একটি মন্ত্রণালয় হিসাবে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা হয়। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে এটি পুনরায় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিভাগে পরিণত হয়। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে পৃথকভাবে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় খোলা হয়। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মার্চ এ মন্ত্রণালয়কে বিলুপ্ত করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। তবে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে এ মন্ত্রণালয়কে পৃথক মন্ত্রণালয় হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। কোরিয়াতে সড়ক, রেল, সেতু, বেসামরিক বিমান ও নৌপরিবহন একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত। তাই এসব বিভাগের কার্যক্রম একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে সুচারুভাবে চমৎকার সমন্বয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে পরিচালনা করা সম্ভব হয়। সমন্বয়ের সুবিধার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী চীনে রেল মন্ত্রণালয়ের বিলুপ্তি ঘটিয়ে ট্রান্সপোর্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে। তুরস্কে এসব কার্যক্রম ট্রান্সপোর্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালনা করা হয়। অথচ বাংলাদেশের মতো ছোট একটা দেশে রেল মন্ত্রণালয়কে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক করে ফেলা হয়েছে। এতে সময়মতো সুচারুভাবে কার্য সম্পাদনের অসুবিধা হতে পারে। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেও এদেশের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা। মানুষের সঙ্গে মানুষের একে অপরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ১২ মাস জুড়ে উৎসব পালিত হয়। প্রবাদ আছে, বারো মাসে তেরো পার্বণ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশ একটি আদর্শ দেশ হিসাবে পরিচিত। এখানে প্রাকৃতিক সম্পদ, তেল, গ্যাস ছাড়াও প্রকৃতি ও মানুষের সমন্বয়ে বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত মানুষের আন্তরিকতা যা বিদেশিদের কাছে অতি পরিচিত। এখানে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে আম-কাঁঠালের অতুলনীয় স্বাদ, শীত ও গ্রীষ্মকালে অপূর্ব স্বাদের শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ও সামুদ্রিক মাছ, ১২ মাস জুড়ে বিভিন্ন ফলের রস এবং পর্যটনের জন্য দেশব্যাপী অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। বিশ্ববিখ্যাত উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যেÑ কক্সবাজার ও সুন্দরবনের কথা উল্লেখ করা যায়। কক্সবাজার বিশ্ববিখ্যাত অবিভক্ত সমুদ্রসৈকত। সুন্দরবন হচ্ছে অসম্ভব সুন্দরভাবে সাজানো সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনের জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। পাহাড়ে, পর্বতে, বন-জঙ্গলে, সড়ক, রেল ও নৌপথের দুধারে ফল ও ফুলের গাছ পর্যটকদের নিকট বিমল আকর্ষণ সৃষ্টি করে। এছাড়া বিভিন্ন ফল, ফুল, মধু, নদী, মাছ, মাংস, চর, ছোট ছোট সৈকত, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অভূতপূর্ব স্থান রয়েছে বাংলাদেশে। সেন্ট মার্টিন অসম্ভব সুন্দর একটি কোরাল দ্বীপ। এটি প্রবাল ও অন্যান্য সামুদ্রিক সৌন্দর্য নিয়ে স্বচ্ছ পানির মাঝে যুগ যুগ ধরে বিদ্যমান। কুতুবদিয়া দ্বীপ- বাতিঘরের জন্য বিখ্যাত। দিন দিন এটি পর্যটকদের বিনোদন। কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। মহেশখালী দ্বীপ আর এক সৌন্দর্যের মহিমা। পারকী সৈকত, পতেঙ্গা সৈকত, ফয়’স্ লেক এবং পাহাড় পরিবেষ্টিত বন্দর-নগরী চট্টগ্রামকে মুগ্ধ করে তুলেছে অপূর্ব লালিত্যে। একই স্থানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জন্য কুয়াকাটা বিশ্ববিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠেছে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ অন্যান্য নদী বাংলাদেশকে করেছে শস্যশ্যামল ও সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি। এ নদীর ভেটকি, চিংড়ি, পাঙ্গাশ, রুই, কাতলা ইত্যাদি ছাড়া শুধু ইলিশ মাছের স্বাদে বিশ্বে পরিচিত বাংলাদেশ। ইলিশ মাছের স্বাদ নেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ৪০ বছর পর নিরামিষভোজী থেকে ইলিশ মাছ খেয়ে আমিষভোজীতে পরিণত হয়েছিলেন। কাপ্তাই লেক এশিয়া মহাদেশে মানুষের তৈরি একটি সর্ববৃহৎ হ্রদ যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লেকের সৌন্দর্যে পর্যটকের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হালদা নদী প্রাকৃতিকভাবে মাছ উৎপাদনকেন্দ্র হিসাবে খ্যাত। এটি জাতীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। মহাস্থানগড়, কান্তজীর মন্দির, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি বিশ্ব-হেরিটেজ হিসাবে হাজার বছরের ইতিহাস ধারণ করে রয়েছে পর্যটকদের মনে। এছাড়া পাহাড়পুর, লালমাই, ময়নামতি, খুলনার ফুলতলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ি, কুষ্টিয়ায় লালন ফকির এবং শিলাইদহে রবিঠাকুরের বিখ্যাত কুঠিবাড়িসহ অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাত্র কয়েক বছর আগেই আমরা বাংলাদেশে বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় ঘটনা দেখেছি- যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ। অতঃপর বাংলাদেশে সারা বছরই পারিবারিক পর্যটনের জন্য একটি স্থান হিসাবে ভ্রমণপিপাসুদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। তবে এটা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। আমাদের পর্যটনশিল্পে সম্ভাবনা আছে অনেক বেশি। কিন্তু সেটা কাজে লাগাতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক মানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ অনিবার্য পূর্বশর্ত। আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার মাহথির মোহাম্মদের ভাষায় বলা যায়, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার প্ল্যানারি সেশনে বক্তৃতায় তিনি আরও বলেছেন, বিমানবন্দর বর্তমানে একটি দেশের বিশ্বায়নের দ্বার। এ দ্বার যত আধুনিক, সহজ ও সাবলীল হবেÑ সে দেশের বিশ্বায়নের গতিও তত বৃদ্ধি পাবে। আমাদের দেশেও একটি অত্যাধুনিক মানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রয়োজন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা অনুধাবন করতে পেরেছেন। এটি বাস্তবায়নের জন্য তিনি যথেষ্ট আন্তরিকও। তবে তিনি জনগণসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দফতর থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে মনে হয় না। যে কারণে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। আমাদের নগরীতে পশ্চিমা দেশের পর্যটকদের পদযাত্রা দেখে আনন্দ পাই। তা বাড়লে আরও ভালো হবে। পর্যটকদের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তার সম্পর্কটি একরকম পারিবারিক বন্ধনের মতোই। সবকিছুর পরও আমরা কোনো ভাই, বোন কিংবা কোনো ব্যক্তিকেও নানা কারণে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করতে পারি না। তবুও মানুষকে তার প্রিয়জনের পাশে দেখে আমরা বেশ আনন্দ পাই। বলা বাহুল্য যে, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের আগত দর্শনার্থী আমাদের পরম বন্ধু ও অতিথি। প্রত্যেক দেশেরই একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা বা বিশেষত্ব এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য রয়েছে। এ দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির ছায়ায় অনবদ্য একটি দেশ। উপযুক্ত ব্যবহারে আমরা পর্যটনশিল্পের। প্রসারের মাধ্যমে অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের দেশকে একটি মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। এমন বিনিময়ের মাধ্যমে আমরা প্রত্যেকের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতেও পারি। দক্ষিণ এশিয়া পৃথিবীর অন্যতম একটি সুন্দর প্রাকৃতিক ভূমি। ঋতুগত বিবেচনাতেও এমন বৈচিত্র্যময় অঞ্চল পৃথিবীতে খুব একটা বেশি নেই। আমাদের এ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো পর্যটনশিল্পের উন্নতির জন্য সম্ভাব্য অনেক কিছু করতে পারে। এটি আমাদের অঞ্চলকে আরও অনেক বেশি সমৃদ্ধ করতে পারে। সার্ক-এর মাধ্যমে আমরা আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ করতে পারি। অথবা নতুন কোনো আঞ্চলিক জোট গঠন করে পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে পারি। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে পর্যটনশিল্পের অনন্য সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য সারা বছরই অটুট থাকে, যা পৃথিবীর অনেক দেশে নেই। বাংলাদেশ নাতিশীতোষ্ণ- শীত যেমন প্রখর নয়, তেমনি প্রখর নয় গ্রীষ্মও। বৃষ্টিরও রয়েছে অপার সৌন্দর্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকাগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য আমাদের সম্পদে এ মুহূর্তে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এ সীমিত সুবিধা ও সেবাসমূহের মধ্যে পর্যটকদের আরও কী কী সুবিধা দেওয়া যায়- তা আমাদের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন। পর্যটন শুধু অর্থনীতি নয়, সম্পর্কনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এটি মানুষের প্রতি মানুষের এবং এক দেশের প্রতি অন্য দেশের সম্পর্ককে জোরালো করে। ব্যবসায়-বাণিজ্যেও উৎসাহ দেয় এবং সুযোগ বৃদ্ধি করে। যেকোনো উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীলতা আবশ্যক। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন- এ অঞ্চলের মানুষের জন্যই। শুধু পর্যটনশিল্পের উন্নতির জন্য নয় বরং কলকারখানা, কৃষি, জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সবকিছুর ক্ষেত্রেই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা আবশ্যক। তাই আমাদের সবার উচিত স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য একযোগে কাজ করা। এজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা টেকসই হয়ে উঠবে। পর্যটন ও ভ্রমণের সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিবিড়ভাবে জড়িত। আমাদের দেশে প্রাকৃতিক পরিবেশ, বিদ্যমান যোগাযোগব্যবস্থা, জনসংখ্যার আধিক্য, ট্রাফিক আইনের প্রতি অবহেলা, গাড়ি চালকগণের বেপরোয়া মনোভাব প্রভৃতি কারণে দুর্ঘটনার হার অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা বেশি। আমি যোগাযোগমন্ত্রী থাকার সময় সড়কপথে দুর্ঘটনা হ্রাসের আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম। সড়ক দুর্ঘটনার হার যত কমানো যাবে- দেশের সার্বিক উন্নয়নের মানও তত বৃদ্ধি পাবে। এক হিসাবে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২ হাজার সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ হাজার লোক আহত হন।১০৮ ২০১১ খ্রিস্টাব্দে সারা দেশে ১২,২২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২,৪৪৭ জন লোক ইন্তেকাল করেন। প্রতিদিন দেশে ৪০০টি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। তার অধিকাংশই চালকের অদক্ষতা, বেপরোয়া গতি ও খারাপ সড়ক-ব্যবস্থার কারণে সংঘটিত হয়।১০৯ বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, প্রতি ১০ হাজার গাড়ির মধ্যে ৮৫.৬টি গাড়ি মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়। একই সময় পরিচালিত আর-একটি গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতিদিন ২০ জন এবং বছরে ৮ হাজার লোক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন। বর্তমানে প্রতিদিন ৩০ জন লোক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করছেন।

লেখকঃ সৈয়দ আবুল হোসেন