২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৩:১৯ অপরাহ্ণ

পরিত্যক্ত চুলে স্বাবলম্বী হাজারো পরিবার


গো নিউজ২৪ | ইলিয়াস আরাফাত আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৭ রবিবার
পরিত্যক্ত চুলে স্বাবলম্বী হাজারো পরিবার

ফেলে দেয়া চুলে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে হাজারো পরিবার। নারীদের এই উচ্ছিষ্ঠ চুল দিয়ে গড়ে উঠেছে জমজমাট চুলের হাট। রাজশাহী তানোর উপজেলার চৌবাড়িয়ায় এ চুলের হাট। মঙ্গলবার বাদে সপ্তাহে ৬ দিন এখানে চলে চলের বেচা-কেনা। চুলের হাটকে নিয়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ১৫টি প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র। পুরুষদের পাশাপাশি সেখানে কাজ করছেন নারীরাও। যেখানে হাজারো পরিবারের সদস্যরা চুলের কাজ করে সাবলম্বী হচ্ছেন। সব মিলিয়ে এখানে বেচা-কেনা হচ্ছে প্রায় ১ কোটি টাকার চুল।

নওগাঁর নিয়ামতপুর ও মান্দা উপজেলায় প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র থেকে চুল আসে চৌবাড়িয়া হাটে। চুল কিনতে দেশের উত্তর অঞ্চল রংপুর ও দিনাজপুর এলাকা থেকেও পাইকাররা আসেন এ হাটে। হাটে প্রতিদিন অন্তত ২০ কেজি করে করে চুল বিক্রি হয়। মাসে এখানে এক কোটি টাকার চুল বেচা-কেনা হয়। এদিকে চৌবাড়িয়া বাজারে ৪৬ জন চুল ব্যবসায়ীকে নিয়ে গড়ে উঠেছে চুল ব্যবসায়ী সমিতি।

চুল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নারীদের উচ্ছিষ্ঠ চুল ফেরিওয়ালারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে সংগ্রহ করেন। এরপর বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা চুলগুলো চৌবাড়িয়া হাটের ৪৬টি আড়তে বিক্রি করেন। সেখান থেকে চুল ব্যবসায়ীরা চুল কিনে নিয়ে আসেন নিজ কেন্দ্রে। তারপর কয়েকটি ধাপে চুল প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয়।

চুলের কাজে নিয়োজিত মাদারীপুর গ্রমের কাজলী বেগম, চকরহমত গ্রামের নিলুফা ইয়াসমিন, রুমা খাতুন, জাহানারা বেগম জানান, তারা জটবাঁধা ও নোংরা চুল আলাদা করেন। এতে নাকে-মুখে ধূলাবালি ঢুকে শরীরে অসুখ হয়। পরিশ্রমের তুলনায় টাকা কম পান। পেটের দায়েই তারা কাজ করছেন।

তানোর উপজেলার চন্দনকোঠা গ্রামের চুল ব্যবসায়ী মজিদুল ইসলাম ও মাদারীপুর গ্রামের চুল ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন গোনিউজকে জানান, তারা চুল কেনেন ৪ হাজার ৩শ’ টাকা কেজি। প্রক্রিয়াজাতের পর ১ কেজি চুলর ওজন কমে ৬শ’ গ্রাম হয়। সেই চুল প্রতি কেজি সাড়ে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তবে ১২ ইঞ্চির বেশি লম্বা হলে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি বিক্রি হয়।

চৌবাড়িয়া বাজার চুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন গোনিউজকে বলেন, চুল ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারী, পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা এই পেশার সাথে জড়িত। কিন্তু পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক খুব কম পান। যদি সরকারি-বেসরকারি ভাবে প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা করা যেত তাহলে এ ব্যবসায় আরো সুফল বয়ে আনতো।

বাংলাদেশ থেকে চুল রপ্তানি হয় ভারত, শ্রীলংকা, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, জাপান ও কোরিয়ায়। বটিচুল, পরচুলা ও অন্য সৌখিন জিনিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এ চুল। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাজার বাংলাদেশের চুলের চাহিদা বাড়ছে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার বা ১৪০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা ১৫২ কোটি টাকা।

এব্যাপারে তানোর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শওকাত আলী গোনিউজকে বলেন, তানোরের চুল ব্যবসা একটি সম্ভাবনাময় খাত। এতে যুক্ত হয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এখনও চুল ব্যবসা আলাদা শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠেনি। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

গোনিউজ২৪/কেআর