২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৫:১৮ অপরাহ্ণ

নির্বাচিত হয়েও শপথ অনুষ্ঠানে ডাক পেলেন না মৌসুমী


গো নিউজ২৪ | বিনোদন প্রতিবেদক আপডেট: ১৩ মে ২০১৭ শনিবার
নির্বাচিত হয়েও শপথ অনুষ্ঠানে ডাক পেলেন না মৌসুমী

সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে যেনো বিতর্ক থামছেই না। একের পর এক অভিযোগ আর বিশৃঙ্ক্ষলার অভিযোগ উঠছে এই নির্বাচনকে ঘিরে।  সর্বশেষ গতকাল আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি শপথ নিয়েছেন। 

শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ওই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টায় ওই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

২১ সদস্যের নবনির্বাচিত কমিটির মধ্যে শপথ নিয়েছেন ১১ জন। অন্য ১০ জন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।  এর মধ্যে অন্যতম ছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে সানি-অমিত প্যানেলে নির্বাচন করেও বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন তিনি। অথচ নির্বাচনে জয় লাভ করেও শপথ অনুষ্ঠানে ডাক পাননি জনপ্রিয় এ নায়িকা!

যোগাযোগ করা হলে মৌসুমী বলেন, ‘কাল যে শপথ অনুষ্ঠান হবে তা আমাকে জানানো হয়নি।’ নির্বাচিত হয়েও মিশা-জায়েদ প্যানেলের শপথ অনুষ্ঠানে উপেক্ষিত মৌসুমী। 

কিন্তু কেনো? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যে কারণগুলো সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে তা হলো, মৌসুমীকে শপথ অনুষ্ঠানে ডাকা হয়নি কারণ, তিনি সানি-অমিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত! কারণ, তিনি ওমর সানির স্ত্রী!

যে ওমর সানি শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ছিলেন মিশা-জায়েদের সামনে একমাত্র বাধা। যিনি নির্বাচনের পরেও ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আপিল করেছেন। হয়তো ওমর সানির উপর রাগান্বিত হয়েই, নিজেদের আক্রোশ থেকেই মৌসুমী ডাকেননি শপথ অনুষ্ঠানে। 

এদিকে, নব নির্বাচিত কমিটির সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক জাকির হোসেনকেও আমন্ত্রণ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হয়েছি। শপথের আয়োজন করা হচ্ছে জানলে আমি অবশ্যই যেতাম। কিন্তু আমাকে জানানো হয়নি। বিষয়টি লজ্জাজনক।

উল্লেখ্য, গত ৫ মে এফডিসিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন হয়। এতে ২৫৯টি ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন মিশা সওদাগর। আর নিকটতম প্রার্থী ওমর সানি পান ১৫৩টি ভোট। অন্যদিকে জায়েদ খান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ২৭৯টি ভোট পেয়ে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অমিত হাসান পান ১৪৫টি ভোট।

নির্বাচনের পরদিন সকালে ফল প্রকাশের পর ওমর সানি-অমিত হাসান প্যানেল থেকে কেউ কোনো অভিযোগ না তুললেও ৭ মে ওমর সানি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনেন এবং নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি করেন।

ভোট  পুনর্গণনার পর ক্যালকুলেটরের ভুলে বাদ পড়ে যাওয়া নয়টি ভোট যোগ হওয়ার পর ওমর সানির ভোটের সংখ্যা ১৫৩ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬২-তে। জয়ী সভাপতি মিশা সওদাগর ২৫৯টি ভোট পাওয়ায় নির্বাচনের ফল অপরিবর্তিতই থাকছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ওমর সানি-অমিত হাসান, মিশা সওদাগর-জায়েদ খান ও ড্যানি সিডাক-ইলিয়াস কোবরা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ২১টি পদের বিপরীতে ৫৮ শিল্পী বিভিন্ন পদে প্রার্থী হন।

নির্বাচনে মিশা ও জায়েদা ছাড়াও নির্বাচিত হন রিয়াজ (সহসভাপতি), নাদির খান (সহসভাপতি), আরমান (সহসাধারণ সম্পাদক), সুব্রত (সাংগঠনিক সম্পাদক), মামুনুল ইমন হিরো (আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক), জ্যাকি আলমগীর (দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক), জাকির হোসেন (সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক), কমল (কোষাধ্যক্ষ)।

সদস্যপদে নির্বাচিত হয়েছেন আলীরাজ, অঞ্জনা সুলতানা, রোজিনা, মৌসুমী, পপি, পূর্ণিমা, ফেরদৌস, সাইমন, সুশান্ত, নাসরীন, জেসমিন।


গো নিউজ২৪/এএইচ