১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৭:২৭ অপরাহ্ণ

নারীরাই প্রধান যে সমাজে 


গো নিউজ২৪ | গো নিউজ ডেস্ক আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৭ রবিবার
নারীরাই প্রধান যে সমাজে 

ডেস্ক: যদিও এশিয়া মহাদেশে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা বাড়াবাড়িভাবেই সক্রিয় বলে অনেক মনে করেন, তবে কিছুক্ষেত্রে মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধার উদাহরণও রয়েছে। কয়েকটি সম্প্রদায়ে নারীরাই পরিবার প্রধানের ভূমিকায়।

সমান অধিকার
মাতৃতান্ত্রিক সমাজ বলতে বোঝায় যেখানে পরিবারের দায়িত্ব থাকে একজন নারীর উপর এবং বংশের ধারাও নির্ধারিত হয় নারীর দিক থেকে। মোটের ওপর সম্পদের দায়িত্বও মা থেকে মেয়ের ওপর বর্তায় এবং বিয়ের পর পুরুষ নারীর ঘরে চলে যান। তবে রাজনৈতিক এবং সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব থাকে পুরুষের কাঁধে। আর তারা এটাকে বিবেচনা করে ক্ষমতার সুষম বণ্টন হিসেবে।

মিনানকাবাও (ইন্দোনেশিয়া)
চার মিলিয়ন মানুষের সম্প্রদায় মিনানকাবাও দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মাতৃতান্ত্রিক সমাজ। প্রথাগতভাবে এনিমিস্ট হলেও একসময় হিন্দুধর্ম এবং বৌদ্ধধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এই সম্প্রদায়। বর্তমানে তাদের অনেকে আবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এই সম্প্রদায় মনে করে, কোরআন মেনেই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ চালু রেখেছেন তারা, কেননা কোরআনে নারীর সম্পদের মালিক হতে বা কমিউনিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

মোসুও (চীন)
মায়ের নেতৃত্বে বড় পরিবারে থাকতে অভ্যস্ত ম্যোসু সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তাদের মধ্যে ‘স্বামী’ বা ‘পিতা’ বলে কিছু আসলে নেই। এই সম্প্রদায় ‘ওয়াকিং ম্যারেজে’ বিশ্বাসী, অর্থাৎ একজন পুরুষ চাইলে একজন নারীর বাড়িতে যেতে পারেন এবং রাতটি তার সঙ্গে কাটাতে পারেন। তবে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসবাসের বিধান নেই এই সম্প্রদায়ে।

খাসি (ভারত)
খাসি সম্প্রদায়ের কাছে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়া মানেই উৎসবের উপলক্ষ্য। আর ছেলে সন্তান এক সাধারণ ব্যাপার। সাধারণত পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে সব সম্পদের উত্তরাধিকারী হন। কোনো দম্পতির যদি মেয়ে না থাকে, তাহলে তারা একটি কন্যা দত্তক নেয় এবং সব সম্পদ তাকে দিয়ে দেয়। মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে অনেক খাসি পুরুষ নিজেদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলনেও নামেন।

গারো (ভারত, বাংলাদেশ)
গারো সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের মায়ের পদবী গ্রহণ করে আর পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে মায়ের সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। অতীতে ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হলে তাদের পরিবার থেকে আলাদা করে গ্রামের ব্যাচেলর ডর্মেটরিতে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। কিন্তু খ্রিষ্টধর্মের প্রভাবের কারণে পরবর্তীতে এই চর্চা বাতিল হয়ে গেছে। বর্তমানে গারো বাবা-মায়েরা সব সন্তানকে সমানভাবে দেখার চেষ্টা করেন।

চাম (দক্ষিণপূর্ব এশিয়া)
কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডে বিস্তৃত চাম সম্প্রদায়ের মানুষরাও মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করেন। তারা মায়ের পদবি নেন এবং সম্পদের উত্তরাধিকারী হন মা থেকে মেয়ে সবাই। আর স্বামী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সেই সম্প্রদায়ের মেয়েদের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।

ধারা বদলে যাচ্ছে?
তবে সময়ের সাথে সাথে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসছে। জীবনধারণের অন্যান্য সুযোগের চাপ ছাড়াও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পুরুষদের বাঁধার মুখে মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা গুরুত্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: ডিডব্লিউ

গোনিউজ২৪/এম

ওমেন`স কর্নার বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত