১৬ বৈশাখ ১৪২৪, শনিবার ২৯ এপ্রিল ২০১৭ , ১১:২৫ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুন: ২৬ জনের ফাঁসির আদেশ


গো নিউজ২৪
|
নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুন: ২৬ জনের ফাঁসির আদেশ

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার রায় ঘোষনা করেছে আদালত। আজ সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মামলার রায়ে সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাবের প্রাক্তন তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, লে. কমান্ডার এম এম রানা ও মেজর আরিফসহ ২৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি নয় আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বাদী পক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে আদালত চত্বরে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। আদালতে প্রবেশের প্রতিটি গেটে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। তল্লাশি করে  সবাইকে আদালত এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সাদা পোশাকের পুলিশও নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল।

এদিকে আলোচিত এ ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা উপলক্ষে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে সকালেই নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হয় মামলার প্রধান চার আসামিকে। এরা হলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট (চাকরিচ্যুত) কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, চাকরিচ্যুত কমান্ডার এম এম রানা ও চাকরিচ্যুত মেজর আরিফ। মামলায় গ্রেফতারকৃত বাকি ১৯ আসামি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারেই ছিলেন।

ঘটনার বিবরনে জানা যায় ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করে।  তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ, পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। পরে জানা যায় হত্যাকান্ডের সাথে র‍্যাব-১১-এর অধিনায়কসহ তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জড়িত থাকার কথা।

ওই ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার চার সহকর্মী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি এবং  আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে একই থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় মোট অভিযুক্ত ৩৫ আসামির মধ্যে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৭ জনই হলেন র‍্যাবের সদস্য। তাঁরা হলেন চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা, হাবিলদার এমদাদুল হক, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দ বালা, করপোরাল রুহুল আমিন, এএসআই বজলুর রহমান, হাবিলদার নাসির উদ্দিন, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, সৈনিক নুরুজ্জামান, কনস্টেবল বাবুল হাসান ও সৈনিক আসাদুজ্জামান নূর। কারাবন্দী বাকি আসামিরা হলেন সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, তাঁর সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী, আবুল বাশার ও মোর্তুজা জামান (চার্চিল)।

র‍্যাব-১১-এর সাবেক ৮ সদস্যসহ মামলার ১২ আসামি পলাতক আছেন। তাঁরা হলেন করপোরাল মোখলেছুর রহমান, সৈনিক আবদুল আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবীর, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান এবং নূর হোসেনের সহযোগী সেলিম, সানাউল্লাহ ছানা, ম্যানেজার শাহজাহান ও ম্যানেজার জামাল উদ্দিন।

গো-নিউজ২৪/বিএস