১০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ৬:৫৬ অপরাহ্ণ

নাক ডাকা সমস্যার সমাধানে ৭টি টিপস


গো নিউজ২৪ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০১৭ শনিবার
নাক ডাকা সমস্যার সমাধানে ৭টি টিপস

ঘুমের ঘরে নাক ডাকার সমস্যাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত না। এই সমস্যাটা হালকাভাবে নেওয়ার মতো সমস্যা না। এটা মোটেও স্বাভাবিক কোনো ঘটনা না। নাক ডাকার অর্থ হল ঘুমনোর সময় নাসারন্ধ্র দিয়ে বায়ু চলাচল ঠিক মতো হচ্ছে না। এই কারণে শরীরের উপর মারাত্মক প্রভাব পরে। নাক ডাকার সমস্যা কমাতে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।  তা না হলে পরে মারাত্মক বিপদে পড়তে হবে। 

একটি গবেষণায় দেখা গেছে,  ছোট থেকে বড় বয়সভেদে যারাই নাক ডাকে, তাদের মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমতে শুরু করে। আইকিউ তো কমেই, সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তিও ঝাপসা হতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, অন্য বেশ কিছু গবেষণা অনুসারে দীর্ঘ সময় ধরে নাকা ডাকার প্রবণতা থাকলে স্ট্রোক, হার্ট ডিজিজ, অ্যারিথমিয়া, জি ই আর ডি, ক্রনিক মাথা যন্ত্রণা এবং ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যাও বেড়ে যায় । ফলে স্বাভাবিকভাবেই আয়ু কমতে শুরু করে। তবে চিন্তার কিছু নেই, কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চললেই এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। 

১. পিপারমেন্ট তেল: এই  প্রাকৃতিক উপাদানটির শরীরে রয়েছে ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা মেমব্রেনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। স্বাভাবিকভাবেই ঘুমনোর সময় শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক মতো হওয়ার কারণে নাক ডাকার প্রবণতা কমতে শুরু করে। শোবার আগে এক গ্লাস জলে ২ ফোঁটা পিপারমেন্ট তেল ফেলে সেই জল দিয়ে গার্গেল করতে হবে। খুব শিগ্রই উপকার পাবেন। 

২. অলিভ অয়েল: রাতে শোবার আগে দু চামচ অলিভ অয়েল খেলে শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে রেসপিরেটরি প্যাসেজ খুলতে শুরু করে এবং একবার এমনটা হয়ে গেলে বাতাস চলাচলে কোনও বাঁধার সৃষ্টি হয় না, ফলে নাক ডাকার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

৩. গরম স্টিম: অনেক সময় সর্দি-কাশির কারণেও নাক দিয়ে বায়ু চলাচল ঠিক মতো হতে পারে না। এর ফলে ঘুমানোর সময় নাক দিয়ে ওয়াজ বের হয়।  এক্ষেত্রে কিছু সময় অন্তর অন্তর গরম ভাব নিলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। তাই এবার থেকে সর্দি-কাশি হলেই এই ঘরোয়া পদ্ধতিটির সাহায্য নেবেন। দেখবেন ঘুমনোর সময় কোনও সমস্যাই হবে না।

৪. এলাচ:  নাকের অন্দরে কোনও বাঁধা থাকার কারণেও নাক ডাকার মতো সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত ঘুমনোর আগে এলাচ চা খেলে কিন্তু দারুণ উপকার পাওয়া যাবে। প্রকৃতির এই উপাদানটি অন্দরে উপস্থিত একাধিক উপাকারী উপাদান নাকের ভিতরের বাঁধা সরিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। আর একবার শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক মতো হতে থাকলে নাক ডাকার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

৫. হলুদ: অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিবায়োটিক উপাদানে পরিপূর্ণ প্রকৃতির এই   উপাদানটি  গ্রহণ করলে শরীরের অন্দরে ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে কমে নাক ডাকার প্রবণতাও। এক্ষেত্রে প্রতিদিন শোবার ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস গরম দুধে ২ চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করার অভ্যাস করতে হবে। এমনটা করলেই দেখবেন রাতের ঘুমে কেউ ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না।

৬. রসুন: রসুন কের অন্দরে মিউকাস জমতে বাঁধা দেয় এবং সেই সঙ্গে রেসপিরেটারি সিস্টেমের উন্নতি ঘটায়।সেই সঙ্গে রেসপিরেটারি সিস্টেমের উন্নতি ঘটায়। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে শুরু করে, কমতে শুরু করে নাক ডাকার সমস্যা। এক্ষেত্রে নিয়মিত ১-২ টো রসুনের কোয়া চিবিয়ে, এক গ্লাস জল খেয়ে শুতে যেতে হবে। 

৭. মধু: রাতে ঘুমানোর আগে নিয়মিত এক গ্লাস গরম জলে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন, তাহলে নাকা ডাকার সমস্যা অনেক কমে আসবে।  মধুর অন্দরে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদান গলার প্রদাহ কমায়। সেই সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করে তোলে।