৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ , ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নববধূকে ধর্ষণের দায় স্বীকার সেই ছাত্রলীগ নেতার


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৭ সোমবার
নববধূকে ধর্ষণের দায় স্বীকার সেই ছাত্রলীগ নেতার

বরিশাল: স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে ধর্ষণ করার ঘটনার দায় স্বীকার করলেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লা। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।

সোমবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ছাত্রলীগ নেতা সুমন মোল্লাকে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের সামনে হাজির করা হয়। বিচারক মো. শিহাবুল ইসলামের কাছে সুমন নববধূকে ধর্ষণের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে অটোরিকশা চালাতে গিয়ে পরিচয় হয় সেলিম মিয়ার সাথে ওই নববধূর। আট থেকে নয় মাস আগে দু’জনার বিয়ে হয়। দিন কয়েক আগে সেলিম তার স্ত্রীকে নিয়ে নানা বাড়ি সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের বেতাল গ্রামে বেড়াতে আসেন। ওসময় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন মোল্লা দলবল নিয়ে চাঁদা দাবি করেন।

এক পর্যায়ে শনিবার সন্ধ্যায় সেলিম তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে বের হলে ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন মোল্লা ও তার সহযোগীরা দু’জনকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর স্বামীকে আটকে রেখে তাদের কাছে বিয়ের কাবিননামা দেখতে চান। এই অজুহাতে পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগ নেতা সুমন মোল্লা। 

স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ গিয়ে পরদিন রোববার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টার সময় তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওইদিন বিকেলে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রোববার রাতে সুমন মোল্লাকে বরিশাল নগরী থেকে আটক করে। 

সুমন

উজিরপুর থানার সার্কেল এএসপি মো. শাহাবুদ্দিন গো নিউজকে জানিয়েছেন, মামলা দায়েরের পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তারে সফলতা পেয়েছেন।

এদিকে গৃহবধূ ধর্ষণের মামলা দায়ের হওয়ার পর সুমন মোল্লাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যে বিষয়টি বরিশাল জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক গো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন গো নিউজকে বলেন, আদালতের বিচারক মো. শিহাবুল ইসলামের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন সুমন মোল্লা। পরবর্তীতে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। 

এসময় ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেয়া নেন বিচারক। পরে ওই গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

গো নিউজ২৪/এন