১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, বুধবার ২৪ মে ২০১৭ , ৭:৪৮ অপরাহ্ণ

নবজাতকদের অভিশাপ থেকে আমরা মুক্তি পাবো কেমন করে ?


গো নিউজ২৪ | ফারজানা আক্তার আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৭ বৃহস্পতিবার
নবজাতকদের অভিশাপ থেকে আমরা মুক্তি পাবো কেমন করে ?

 আমার বড় ফুফুর বাচ্চা হয় নাই ৮বছর। একটা বাচ্চার জন্য পাগল হয়ে উঠেছিলেন ফুফু।  আমার ফুফা খুব ভালো মানুষ আর সবথেকে বড় কথা অনেক বেশি ধৈর্যশীল।  তিনি এমন কোনো ছোট বড় ডাক্তার নাই যে দেখান  নাই।  কিন্ত কারো কোনো সমস্যায় বের হচ্ছিলো না।  আল্লাহর খেলা মানুষের কি সাধ্য বুঝার ! ৮বছর পর আল্লাহ মুখ তুলে চাইলেন।  এক ছেলে বাবু হলো তারপর ৫ঘন্টা থাকার পর মারা গেলো।  এই সময়টা কি কষ্টের ছিলো, না ধৈর্যের ছিলো তা বলা মুশকিল ! এক বছর পর আবার ফুফু কনসিভ করলো।  এক ছেলে বাবু হলো।  সেই ছেলের এখন ১০বছর।  ছেলে একটা বোন চাচ্ছে, পাগল হয়ে গেছে একটা বোনের জন্য কিন্ত ফুফু আর কনসিভ করছে না।  

আমি তো আমার ফুফুর কথা বললাম।  আমার এমন আরো কিছু আত্মীয় - স্বজন আছে যাদের একটা বাবু হবার পর আর কোনো বাবু হচ্ছে না, অনেকের আবার একেবারেই হচ্ছে না।  আমার একজন জা আছে তার বিয়ে  হয়েছে আজ ১৮বছর কিন্ত কোনো বাবু নাই।  তাদের দেখলে মনে হয় একজন দুঃখী মানুষ দেখতে বুঝি এমনই হয়।!

এই কথাগুলো এতক্ষন ধরে বললাম এই জন্য যে, এই মানুষগুলো এত চেষ্টা করেও একটা বাবু পাচ্ছে না।  আর কিছু মানুষরূপী জানোয়ার বাচ্চাদের ডাস্টবিনে ফেলে চলে যাচ্ছে।  কেমন করে ? এই বাচ্চাগুলো যে বৈধভাবে দুনিয়াতে আসে নাই বুঝা যাচ্ছে।  কিন্ত বাচ্চার কি দোষ ?সে কি তাদের পেটে সুড়সুড়ি দিচ্ছিলো তাকে দুনিয়াতে নিয়ে আসার জন্য !

একটা বাচ্চা, সে  মানুষের বাচ্চা তাকে ডাস্টবিনে ফেলে রেখে চলে যাচ্ছে ! আরে যদি কোনো পশুপাখির বাচ্চাও একটা মানুষ পায় তাকে সে খুব যত্ন করে।  আসলে বাচ্চার প্রতি সবার একটা টান থাকে।  সে জায়গায় যখন সেটা মানুষের বাচ্চা হয় টানটা হাজারগুন বেড়ে যায়।  আর, একজন মানুষ কিভাবে তার পেটের বাচ্চাকে ডাস্টবিনে ফেলে রেখে চলে যায় যেখানে শিয়াল - কুকুরের আগাগোনা।  আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে এমন মানুষগুলো বাসায় যেয়ে ঠিকমত ঘুমাতে পারে তো ? খেতে পারে ? নিজের পেটের সন্তানকে কিছুক্ষন আগে শিয়াল - কুকুরের খাদ্য করে আসলো এখন নিজে খেতে পারছে তো ?

আমরা মানুষরা মনে হয় পৃথিবীর সবথেকে বেশি স্বার্থপর।  নিজের পাঁচ মিনিটের সুখের জন্য একটা নিষ্পাপ শিশুকে দুনিয়াতে নিয়ে আসি,  তারপর নিজের বাংলার পাঁচ মার্কা চেহারাটায় যেনো কলংক না লাগে তাই আবার বাচ্চাটাকে ডাস্টবিনে ফেলে আসি।  আচ্ছা ডাস্টবিনে ফেলে আসার কি দরকার ? নিজে গলা টিপে মেরে ফেলতে পারে না ? তাহলে তো বাচ্চাটাকে এত কষ্ট পেতে হয় না, এত কষ্ট পেতে পেতে মারাও যেতে হয় না।

আজ একটা শিরোনাম দেখলাম "পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল ডাস্টবিনে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু আনিশা" ।  আনিশার পরিচয় ডাস্টবিনে পাওয়া শিশু কিন্ত আজ যদি ওর পরিবারের পরিচয় থাকতো তাহলে সে উপাধি পেতো "রাজকন্যা আনিশা " অথবা বাবা -মায়ের নাম নিয়ে "ওদের রাজকন্যা " ।  কারো ছোট্ট একটু ভুল বা পাঁচ মিনিটের সুখ অনেকের পরিচয়টাই বদলে দেয়।  

ওরা কি আমাদের ক্ষমা করবে ? কি মনে হয় আমরা কি পারবো ওদের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে ? নিষ্পাপ মানুষদের অভিশাপ কি খুব সহজ হবে ? আমি জানি না, কিছু বুঝিও না।  আমি শুধু ভয়ে থাকি ওদের অভিশাপের।  জানোয়াররা একের পর এক নিষ্পাপ শিশুকে মেরে ফেলছে আর আমরা এখনো এই সমাজকে জানোয়ারমুক্ত করতে পারি নাই, পারি নাই কোনো জানোয়ারকে শাস্তি দিতে।  আমি ভয় পাই আমাদের এই অযোগ্যতাকে, ভয় পাই অযোগ্যতার অভিশাপকে।  

 

মতামত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত