১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৭:২৫ অপরাহ্ণ

নগরপিতার কাছে ছারপোকা কন্যার খোলাচিঠি!


গো নিউজ২৪ | ফারজানা আক্তার আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৭ রবিবার
নগরপিতার কাছে ছারপোকা কন্যার খোলাচিঠি!

প্রিয় শ্রদ্ধাভাজন নগরপিতা,

প্রথমেই অনেক অনেক ভালোবাসা আর সালাম গ্রহণ করবেন। আমার এই লেখা আপনার চোখে পড়ার সম্ভবনা খুবই কম। তাও আশায় আশায় লিখলাম; যদি মিরাকেল কিছু ঘটে আমার কপালে! জানেন তো, আমাদের মতো ছারপোকা টাইপের মানুষেরা আশা নিয়েই বাঁচে!

প্রিয় নগরপিতা, সন্তানের বিপদ-আপদ নাকি পিতা-মাতাই আগে টের পায়! সন্তানের বিপদে-আপদে পিতা-মাতাই মাথার ছাদ হয়ে থাকে। ভরসার একমাত্র জায়গা হলো পিতা-মাতা। তাই আমার এ চিঠি আজ আপনার কাছেই নিবেদন করছি। শুরুতেই বলতে চাই, নগরের পিতা হিসেবে আপনি আপনার দায়িত্ব কতটুকু পালন করলেন?

সংবাদ সম্মেলনে আপনি বলেছেন মশা নিধনের জন্য আগে থেকে জানানো হয় নি! গণমাধ্যম গত কয়েক মাস ধরেই মশাবাহী রোগের আশঙ্কা, প্রতিকার, উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন- এমন সব সংবাদ পরিবেশন করে আসছে। আপনি কি এমন কোনো সংবাদ দেখতেই পান নাই? আপনার কাছে এমন কোনো খবরই যায় নি? একটা রোগ মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে আর আপনি কিছুই টের পেলেন না! নগরপিতা ও নগরপিতা, আপনার কাছ থেকে এমন একটা কথা শুনবো স্বপ্নেও ভাবি নি আমরা!

আপনি কি সুন্দর করে বলেছিলেন ঢাকাকে সবুজে ঢেকে দিবেন। আপনি এটাও বলেছিলেন প্রথম তিনমাসে না, পরবর্তী ছয় মাসে আপনি ঢাকাকে সবুজ ঢাকা করতে চান। আমরাও স্বপ্নে বিভোর আমাদের দূষিত ঢাকা সবুজে সবুজে বিশুদ্ধ হয়ে যাবে।  আপনি আরো বলেছিলেন আপনার প্রধান কাজ হবে মশা নিধন।  কিন্ত কী থেকে কী হয়ে গেলো! আপনার এক কথায় যেমন আমরা স্বপ্নে দেখতে শুরু করেছিলাম, তেমনি আপনার এক কথায় এখন আমরা ভয়ে আতঙ্কিত।

আপনি বললেন, মানুষের ঘরের ভেতর গিয়ে মশারি খাটাতে পারবেন না। ছাদের চৌবাচ্চায় ওষুধ দিতেও পারবেন না। পারবেন না মশা মারতে। ঠিকই বলছেন। এটা কি সম্ভব এতো মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনা তৈরি করা? কিন্ত নগরপিতা ভোটের সময় কি আপনি আমাদের ঘরে ঘরে এসেছিলেন? ভোট চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে? আপনি ক্ষমা চেয়েছেন আপনার কথার জন্য। বলেছেন আপনি কথাটা ঠিকভাবে বুঝাতে পারেন নাই। কেউ আপনার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে আপনি ক্ষমাপ্রার্থী। হে নগরপিতা, আমরা ক্ষমাপ্রার্থী, আমরা আপনার ওপর অনেক অনেক বেশি ভরসা করে ফেলেছি।

এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। বাড্ডা থেকে সরাসরি মহাখালী যাওয়ার রাস্তা দিয়ে কি মানুষ চলাচল করে না? না অন্য কিছু? কী মনে হয় আপনার? আপনারা পিতা-মাতা ধরণের মানুষ। আপনাদের জন্য আমরা সবসময় রাস্তা ছেড়ে দেই। তাই আপনাদের ভিআইপি রাস্তাগুলোতে কখনোই কোনো জ্যাম থাকে না। 

এই যেমন ধরুন, গুলশান-১ এ যে চার রাস্তার মোড় আছে, সেখানে আপনাদের ভিআইপি রাস্তা সবসময় খোলাই থাকে। তা নয় থাকুক, হাজার হলেও আপনারা নগর পিতা-মাতা মানুষ।

তবে দয়া করে একটু মাথায় রাখুন, আপনাদের ভিআইপি রাস্তা ছাড়া বাকি যে রাস্তাটা আছে সেটা দিয়েও তো কিছু মানুষ চলাচল করে। তারা তো কাজ করেই খায়। এদেরই নাগরিক। অবশ্য নগন্য! তারা তো এসি বাসে চলাচল করে না। তাদেরও পরিবার আছে। দু’তিনটা বাস না ছেড়ে অন্তত দু’তিন মিনিট ধরে বাস ছাড়ার অনুমতি দিবেন আপনার যোগ্য ট্রাফিক পুলিশদের! আপনাদের ১০-১৫মিনিট থেকে আমাদের ২-৩মিনিট দিতে নিশ্চয় তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। ক্ষমা করবেন, ছারপোকা মানুষ হয়েও অনেক কথা লিখলাম।  

ইতি 
আপনার ছারপোকা ধরণের মানুষ কন্যা

লেখক: ওয়েব ডেভেলপার