৩ কার্তিক ১৪২৪, বুধবার ১৮ অক্টোবর ২০১৭ , ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার


গো নিউজ২৪ | ডেস্ক রিপোর্ট আপডেট: ২০ মে ২০১৭ শনিবার
ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার

বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের মোবাইল ফোন থেকে ওই ভিডিও চিত্র পেয়ে তা যাচাই-বাছাই চলছে। সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালের মোবাইল ফোন থেকে দুই শিক্ষার্থীর ধর্ষণের চিত্র নিজের মোবাইলে নিয়েছিল সাফাত। এ ঘটনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করার চিন্তাভাবনা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।   

এদিকে মামলার অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রিমান্ডের প্রথম দিনেই নাঈম এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। গত শনিবার রাতে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মুখোমুখি করা হয় বিল্লাল ও সাফাতের দেহরক্ষী আজাদকে। তিনজনকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।  

মামলার তদারক কর্মকর্তা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের উপকমিশনার (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন,  আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে থাকা আসামি নাঈম, বিল্লাল ও রহমত আলীকে (আজাদ) জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। নাঈম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছে।

সূত্র জানায়, নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানতে পেরেছেন, সাফাতের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল নাঈম। নাঈমের পরামর্শমতোই চলত সাফাত। তবে সাফাতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগে থেকেই তার বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার হোসেনের সঙ্গে নাঈমের ঘনিষ্ঠতা ছিল। প্রায় ছয় মাস ধরে সাফাতের সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল নাঈম।  

তদন্তসংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা বলেন, মামলার প্রধান দুই আসামি সাফাত ও সাদমান ইতিমধ্যে ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বিল্লালের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ফুটেজের কিছু তথ্য উদ্ঘাটন করা গেছে। রেইনট্রি হোটেল থেকে উদ্ধার করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে সিআইডি। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় সেখানে উপস্থিত ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, বিল্লাল আগেই ধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে। নাঈমের সামনে ফের একই ধরনের বক্তব্য দেয় সে। এ সময় নাঈমের কাছে জানতে চাওয়া হয় বিল্লাল যা বলছে তা ঠিক কি না। তখন নাঈম ঠিক বলে সম্মতি দেয়। সেই সঙ্গে নাঈম এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের কথাও স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় নাঈমের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সাফাতের সঙ্গে তার কিভাবে পরিচয়, দুই শিক্ষার্থী ছাড়াও সে আর কাউকে ধর্ষণ করেছে কি না, গুলশান এলাকার ইয়াবা, সিসা বারগুলোতে কিভাবে অনৈতিক কাজ করত তারা, সাফাত, সাদমান ছাড়াও তার সঙ্গে আর কার কার সঙ্গে পরিচয় আছে ইত্যাদি।  

আজ শনিবার আজাদের তিন দিনের রিমান্ড শেষ হচ্ছে। বিল্লালের রিমান্ড শেষ হবে রবিবার। অভিযোগ রয়েছে, আজাদ ধর্ষণের ঘটনার আগে সাফাতের নির্দেশে দুই শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রেখেছিল। ধর্ষণের ভিডিও করেছিল বিল্লাল।   

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পারিবারিক সূত্র বলছে, ভিডিওর কথা জানার পর তা মুছে ফেলার জন্য সৌরভ ও পাপ্পু নামে দুই তরুণীর বন্ধুকে সাফাত, সাদমান ও নাঈমের কাছে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে ভুক্তভোগী এক তরুণীর ছবিও আপলোড করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ডিসি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা কতগুলো অ্যাকাউন্ট ডিলিট করব? ছবিগুলো অন্যের কাছে যায় কিভাবে? আমরা আমাদের মতো কাজ করছি। ’কালের কণ্ঠ