৪ কার্তিক ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৭ , ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

ধর্ষণের ঘটনায় আটক হচ্ছেন পিয়াসা-মাহির!


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আপডেট: ১৫ মে ২০১৭ সোমবার
ধর্ষণের ঘটনায় আটক হচ্ছেন পিয়াসা-মাহির!

বনানীর দ্য রেইন ট্রি হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং সাফাতের বন্ধু ও ওই হোটেলের মালিক সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের ছেলে মাহির হারুন।

ধর্ষণের ঘটনায় ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ ভূমিকার কারণে দু-একদিনের মধ্যে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তদন্ত কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, মামলার এজাহারে ধর্ষিতা তরুণীর ‘খালাতো বোন’ দাবি করা হয় ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাকে। ধর্ষণের ঘটনার ৪০ দিন পর ৬ মে সন্ধ্যায় ভিকটিম দুই তরুণীসহ পিয়াসা বনানী থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ দাখিল করেন। পরবর্তীতে মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন বর্ণনায় পিয়াসার নাম উঠে আসে। এ কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অন্যদিকে অবৈধ পন্থায় রুম বুকিং দিয়ে ধর্ষণের ‘প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করে দেয়ায় সাফাতের বন্ধু ও হোটেলের মালিক সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের ছেলে মাহির হারুনকেও আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্বচ্ছভাবে মামলার তদন্ত করতে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন।

মামলার অন্যতম আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদের স্ত্রী দাবি করা ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এক সাক্ষাৎকারে ভিকটিম দুই তরুণীর সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। ওই মেয়েদের সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় নেই।

একবার এক রেস্টুরেন্টে আমি আর সাফাত একসঙ্গে ছিলাম। তখন সাফাতের বন্ধু এ মামলার আরেক আসামি সাদমান ওই দুই মেয়েকে নিয়ে আসে। সে তার দুই বান্ধবীকে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর আর কখনও ওই দুই মেয়েকে আমি দেখিনি।’

পিয়াসার দাবি, ‘ধর্ষণের এক সপ্তাহ পর দুই মেয়ে আমাকে কল দিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। তারা জানায়, আমার স্বামী সাফাত বন্ধুদের নিয়ে তাদের ধর্ষণ করেছে। এর আগে আমার নামে বাজে বাজে সব কথা বলে ওদের মন গলানোর চেষ্টা করে সাফাত। কাঁদতে কাঁদতে দাম্পত্য জীবনে সে (সাফাত) আমার জন্য সুখী নয় বলে গল্প শোনাতে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা তো ভিন্ন। আমিই ওকে নিয়ে সুখী হতে পারছিলাম না। ওকে শোধরানোর চেষ্টা করেছি, পারিনি। কিন্তু পাপ তাকে গ্রাস করে নিল।’

পিয়াসা বলেন, ‘এ মামলায় আমার কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি বরং দুটি মেয়েকে ধন্যবাদ দেব, তারা সাহস দেখিয়েছে ভদ্রবেশী শয়তানদের মুখোশ খুলে দিতে। ছেলের বিরুদ্ধে যখন ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, বনানী থানার ওসিকে দিয়ে ওর বাবা কৌশলে আমার নামটা বসিয়ে দিয়েছেন। যখন আমার পাওনা (বিচ্ছেদ সংক্রান্ত) নিয়ে কথা বলার কথা, তখন আমার অন্যের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে হচ্ছে। আমার পরিবার ও আমি খুবই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে আছি। আমিও গণমাধ্যমের মেয়ে। এখানে আমার পরিচিত অনেক মানুষ আছেন, স্বজনও আছেন। সবার কাছে আমাকে ছোট করা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, সাফাতের বাবা এর আগে দাবি করে বলেন, ধর্ষণ মামলার সঙ্গে সাফাতের ডিভোর্সপ্রাপ্ত স্ত্রী জড়িত। তার ষড়যন্ত্রের কারণে ওই দুই তরুণী তার ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে। তিনি আরও জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে তার ছেলের সঙ্গে এমন কাজ করেছে ছেলের সাবেক স্ত্রী।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার শুরু থেকে ধর্ষণ ঘটনার পেছনে পিয়াসাকে ‘নাটের গুরু’ হিসেবে উল্লেখ করছেন প্রধান আসামি সাফাতের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ। একই দাবি অপর আসামিদের পরিবারেরও। যেদিন ধর্ষণ মামলাটি দায়ের করা হয়, সেদিন পিয়াসা থানায় উপস্থিত ছিলেন। 

সেদিন নিজেকে ‘খালাতো বোন’ দাবি করলেও দুই তরুণীর সঙ্গে পিয়াসার পারিবারিক কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ভিকটিম দুই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকবার বিষয়টি উঠে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে দুই তরুণী পিয়াসাকে ‘পূর্ব পরিচিত’ হিসেবে দাবি করেছেন।

মাহির হারুনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, মাহির সাফাতের বন্ধু। সেদিন রেইন ট্রি হোটেলে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া তিনি সাফাতকে দুটি কক্ষ ভাড়া করে দেন। ধর্ষণের জন্যই কক্ষ দুটি ভাড়া করা হয়েছিল কিনা- তা নিশ্চিত হতে মাহিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ধর্ষণের ঘটনায় মাহিরের পরোক্ষ কোনো মদদ থাকলে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।


গো নিউজ২৪/এএইচ