৯ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৪ আগস্ট ২০১৭ , ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ

দেহরক্ষীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ব্রিটিশ রাজবধূ ডায়ানার


গো নিউজ২৪ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০১৭ বুধবার
দেহরক্ষীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ব্রিটিশ রাজবধূ ডায়ানার

ব্রিটিশ রাজপুত্র প্রিন্স চার্লসের প্রথম স্ত্রী প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু হয়েছিল ২০ বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায়। দিনটা ছিল ৩১ আগস্ট। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই ব্রিটিশ রাজবধূকে নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই মানুষের মধ্যে। এই কৌতূহলটাই একসময় অসহ্য হয়ে উঠেছিল তার কাছে।

বিশেষ করে তখন, যখন প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিয়ের আর কিছুই বাকি ছিল না। সেই সময়টায় ডায়নার জীবনে হঠাৎ করেই প্রবেশ করেন তার দেহরক্ষী বেরি ম্যানাকি। বেরির সঙ্গে তার যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তা নিজেই স্বীকার করেছিলেন। সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম চ্যানেল ফোরের প্রকাশিত ভিডিও থেকে জানা গেছে এই তথ্য।

প্রিন্স হ্যারির জন্মের পর চার্লসের সঙ্গে একেবারেই ছিঁড়ে গিয়েছিল ডায়ানার সম্পর্কের বাঁধনটা। স্ত্রীর কাছে প্রিন্স চার্লসের চাহিদা বলতে ছিল তিন সপ্তাহে একবার যৌনতা। ঠিক যেমন বিয়ের আগে তিন সপ্তাহে একবার ক্যামিলার কাছে যেতেন। স্বামীর সঙ্গে জোড়াতালি দিয়ে টিকিয়ে রাখা বিয়ে, ক্যামিলার সঙ্গে প্রিন্স চার্লসের সম্পর্ক এসব ডায়না নিজেই জানিয়েছিলেন তার পাবলিক স্পিকিং কোচ পিটার সেটেলনকে। এই ভিডিও টেপের শুটও  তিনিই করেছিলেন।

সময়টা ছিল ১৯৯৩ সালের জানুয়ারি মাস। তার মাস খানেক আগেই ডায়না আর চার্লসের বিচ্ছেদ হয়েছিল। কোনো কিছু লুকিয়ে রাখার আর প্রয়োজন মনে করেননি তিনি। তাই গর্ব করেই বলেছিলেন, দেহরক্ষী বেরির সঙ্গে প্রেমের কথা। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ওই দেহরক্ষীই ছিলেন ডায়ানার মনের মানুষ। সবকিছু ছেড়ে তার সঙ্গে তিনি পালাতেও রাজি ছিলেন। আর ডায়নার এই ইচ্ছায় শতভাগ রাজি ছিলেন বেরি।

ভিডিও টেপটিতে ডায়না বলেছেন, ‘সবাইকে বলতে চেয়েছিলাম, আমি ওর সঙ্গে ভালো আছি। আমি যে মানসিক স্থিতিতে আটকে ছিলাম ও আমাকে সেখান থেকে টেনে বের করে এনেছিল। সেই সবকিছু করার সুযোগ করে দিয়েছিল যা করার জন্য আমি অনেক চেঁচিয়েছি। কিন্তু তা রাজবাড়ির ঘরেই আটকে থেকেছে।’

বেরি ডায়নাকে সাহস দিয়েছিলেন তাদের সম্পর্কের কথা রাজবাড়িতে জানানোর। নিজের প্রেমের কথা বলার সময় প্রিন্সের কাছে ক্যামিলার প্রসঙ্গও তুলেছিলেন। সব শুনে চার্লসের উত্তর ছিল, ‘আমি ওয়েলসের একমাত্র প্রিন্স নই, যার উপপত্নী আছে।’

প্রিন্সের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য বাধ্য হয়েই নিজের সম্পর্কের কথা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে জানান ডায়ানা। রানীর উত্তর ছিল, ‘আমি জানি না, তোমার কী করা উচিত। চার্লস নিরাশ।’ তবে রাজপ্রাসাদে ডায়নার সঙ্গে সম্পর্ক জানাজানি হওয়ার পরই বেরিকে কাজ থেকে বরখাস্ত করে দেয়া হয়। তার কিছুদিন পরই একটি বাইক দুর্ঘটনায় বেরির মৃত্যু হয়। ডায়না বলেন, ‘বেরির মৃত্যু আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল।’

১৯৯২ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে ঐতিহাসিক কেনসিংটন রাজপ্রাসাদে যাওয়ার অনুমতি ছিল চ্যানেল ফোরের। সেখানেই তারা ওইসব ভিডিও ধারণ করেছে। তাতে রয়েছে ডায়ানার কণ্ঠ বিষয়ক কোচ ও ব্রিটেনে থাকা মার্কিন অভিনেতা পিটার সেটেলেনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অন্তরঙ্গ আলোচনা।

সেখানে তাকে যুবরাজ চার্লসের সঙ্গে তার বিয়ে, তাদের যৌনজীবন এবং ক্যামিলা পার্কার বোলসের সঙ্গে তার স্বামীর সম্পর্ক নিয়ে কীভাবে তিনি চার্লসের কৈফিয়ত দাবি করেছিলেন- সেসব বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন ডায়ানা।

২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল এনবিসি এ সংক্রান্ত কিছু অংশ প্রচার করে। তাতে প্রিন্সেস ডায়ানাকে প্রিন্স চার্লস সম্পর্কে বলতে শোনা যায়, ‘ও ছিল বাজে। খুব বাজে। তবুও শারীরিক সম্পর্ক ছিল। এটা ছিল। তা সাত বছর আগে থেকে যেন সরে গিয়েছিল। বিবেক আমাকে বললো- এটা শুধুই একটা বাজে ব্যাপার। তার কাছ থেকে এমনটা কখনো চাওয়ার নয়। প্রতি তিন সপ্তাহে একবার...। আমি ভাবতে থাকলাম এবং তারপর আমি একটি কৌশল শুরু করলাম। আমাদের বিয়ে হওয়ার আগে প্রতি তিন সপ্তাহে একবার সে তার প্রিয়তমার (ক্যামিলা, বর্তমানে ডাচেস অব কর্নওয়াল ও প্রিন্স চার্লসের দ্বিতীয় স্ত্রী) কাছে যেতো। সে (প্রিন্স চার্লস) তো আমাকে প্রতি সপ্তাহে প্রতিদিন ফোন করতো। তারপর সে তিন সপ্তাহ আমার সঙ্গে কথাই বলতো না। এটা খুব বাজে ব্যাপার। আমাকে তা মেনে নিতে হতো। আমি মনে করতাম, ঠিক আছে। আমি আমার স্বামীকে বলতাম, কেন তোমার জীবনে এই নারী? জবাবে সে আমাকে বলেছিল, আমি এমন প্রিন্স অব ওয়েলস হতে চাই না, যার একজন মিস্ট্রেস থাকবে না।’

গো নিউজ২৪/ আরএস