২ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৭ আগস্ট ২০১৭ , ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ

দু’মাস পরেই পরীক্ষা, এখনও বই পায়নি কেউ


গো নিউজ২৪ | নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০১৭ বুধবার
দু’মাস পরেই পরীক্ষা, এখনও বই পায়নি কেউ

সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের কাছে এখনো বই পৌঁছায়নি। বছরের অর্ধেকের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদন ‘বই’ এখনো তারা পায়নি। তাছাড়া বিগত বছরগুলোর পরীক্ষার হিসেব অনুযায়ী পরীক্ষার আর মাত্র ২-৩ মাস বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এতে শিক্ষার্থীরা চরম হতাশার মধ্য দিয়ে কোন রকমে তাদের পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার ০৯ আগষ্ট সকালে শহরের বিভিন্ন স্কুলের অধূনে পরিচালিত উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল শাখার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল।

পড়াশুনায় দূর্বল, স্ট্যাডি গ্যাপ, কর্মব্যস্ততা সহ নানা কারণে স্বাভাবিকভাবে যেসব শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা করা সম্ভব হচ্ছে না, সেসব শিক্ষার্থীদের আবারো পড়াশুনার সুযোগ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সহজে পাশের ব্যবস্থা করে নানা প্রোগ্রামে পড়াশুনা চালু করেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নামক সংস্থাটি। শিক্ষার্থীরা যেন কোন অবস্থাতে ঝড়ে না পড়ে সে বিষয়কে মাথায় রেখে সহজ আঙ্গিকে উন্মুক্তের সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও অনেকটা সহজ হয়ে থাকে। কিন্তু এসব উদ্দেশ্য এখন আর শিক্ষার্থীদের কাছে আসছেনা। কেননা শিক্ষার্থীদের পাশের জন্য সিলেবাস ও প্রশ্নপত্র সহজ করে দেয়া হলেও পড়াশুনার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ‘বই’ এখনো দেয়া হয়নি। তাই এসব সহজতর প্রক্রিয়া এখন অনেকটা অকেযো হয়ে পড়ছে। কারণ বই না পেলে তো পড়াশুনা করাই সম্ভব নয় তাহলে পাশ করবে কি করে।

এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে। কেননা এতগুলো মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তাদের হাতে বই এসে পৌঁছায়নি। তবে স্কুলা শাখার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হাতে মাস খানেক আগে ৫টি বই পৌঁছেছে, কিন্তু এখনো আরো ২টি বই বাকি আছে। আর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কোন বই দেয়া হয়নি। তাই তাদের পড়াশুনার অবস্থা খুবই নাজুক বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

এ সময় দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘আমিতো এমনিতে দূর্বল ছাত্র, তার উপরে বই নেই। এখন পাশ করব কি করে কিছুইতো বুঝতে পারছি না। স্কুলে ক্লাসতো অনেকগুলো করেছি কিন্তু এখনো বই পাইনি। এতো দেরি করে বই দিলে পড়াশুনা কবে শুরু করব, আর সিলেবাস কবে শেষ করব। এবারো মনে হয় গত বছরের মত ফেল করতে হবে। গত বছর এমনিতে গনিত বিষয়ে ফেল করেছি, তার উপরে এ বছর যদি ২য় বর্ষের বই এখনো না পাই তাহলে তো সেরেছে। কি যে করব, ঠিক বুঝতে পারছিনা। তাছাড়া এতো দেরি করে যদি এখন বই দেয়ও, তাহলেও কয়েক বিষয়ে ফেল করব। আর এবার যদি ফেল করি তাহলে পড়াশুনাটা আর করা হবে না। আমি পড়তে চাই, কিন্তু বারবার ফেল করলে পড়াশুনা বাদ দেয়া ছাড়াতো কোন উপায় থাকবে না।’

শিক্ষার্থীদের বই না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্নের মধ্যে রয়েছে অভিবাবকেরা। এ বিষয়ে কথা হল এক অভিবাবকের সাথে। উন্তুক্তের ২য় বর্ষের ছাত্রী রিনার মা বলেন, ‘আমার মেয়ে পড়াশোনায় এমনিতে একটু দুর্বল। তার ওপরে যদি বই না দেয়া হয়, তাহলে তো বেশ চিন্তুার ব্যাপার। বছরের শুরুতে ভর্তির ফি এর সাথে বইয়ের টাকা নেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বই দেয়া হয়নি। পরীক্ষার আর মাত্র ২-৩ মাস বাকি আছে, অথচ বই এখনো দেয়নি। স্কুলের শিক্ষকদের কাছে বইয়ের কথা বললে, তারা উন্মুক্তের উপ-আঞ্চলিক অফিসের উপর অভিযোগ চাপিয়ে দেয়। এখন যে কি করব ঠিক বুঝতে পারছিনা।

এ বিষয়ে স্কুলের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার কাজ ঠিকমত করতে পারছিনা, কারণ আমাদের হাতে এখনো বই এসে পৌঁছায়নি। তাই আমারাও বেশ বিপাকে আছি। তবে আমাদের কিছুই করার নেই। বই নিয়ে এই সমস্যা প্রায় ২-৩ বছর ধরে চলে আসছে, এ আর নতুন কি। উন্মুক্তের উপ-আঞ্চলিক অফিস আছে, তারা যখন আমাদের কাছে বই দিবে আমার তখন বই দিতে পারব। তারা বই দিচ্ছে না তাই আমরাও বই সরবরাহ করতে পারছিনা।’

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নারায়ণগঞ্জ জেলার উপ-আঞ্চলিক অফিসের কো-অরডিনেটর (সমন্বয়ক) অফিসার মো. সোহেল আলম জানান, ‘আর কিছু দিনের মধ্যে বই চলে আসবে, বই প্যাকেটিং করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বই দেয়ার পর আমরা সিলেবাস শেষ করেই পরীক্ষা নিব। এতো দেরিতে শিক্ষার্থীদের বই দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ এ বিষয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বই বিতরণের সাথে সড়িত কর্মকর্তারা বলতে পারবে।

অথচ আঞ্চলিক অফিসের এই কর্মকর্তা মো. সোহেল আলম গত ১৭ এপ্রিলে নেয়া এক বক্তব্যে বলেছিলেন, শিক্ষার্থীরা এখনো বই পায়নি, এ কথা সত্য। তবে আগামী ১ মাসের মধ্যে বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে। এসব কথা তিনি বললেও এখন পর্যন্ত  আড়াই মাস অতিক্রম হলেও বই কিন্তু ছাত্ররা পায়নি। 

গোনিউজ২৪/পিআর