৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৪:১৯ অপরাহ্ণ

‘তোর মৃত্যু আমাকে অনেক কিছুই শিখিয়ে দিল’


গো নিউজ২৪ | আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৭ বুধবার
‘তোর মৃত্যু আমাকে অনেক কিছুই শিখিয়ে দিল’

“তোর মৃত্যু জন্য কাকে দায়ী করব ? তোর ভাগ্য, টাকা, ক্ষমতা, নাকি মনুষ্যত্ব? হাতীবান্ধার সব বিবেক টাকার কাছে পরাজিত ! তোর মৃত্যু জন্য বিচার চাইব কার কাছে, সবাই বিক্রিত মাল! তোর মৃত্যু আমাকে অনেক কিছুই শিখিয়ে দিল”। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেববুক স্টাটাসে এ কথাগুলো লিখেছেন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় বিদ্যুৎ অফিসের অবহেলার কারণে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নিহত কলেজ ছাত্র মিল্টনের চাচাতো ভাই হাসান রাজিব। তার মতো অনেকেই বিভিন্ন মত প্রকাশ করে এ মৃত্যু গুলোর জন্য দায়ী করেছেন হাতীবান্ধা বিদ্যুৎ’র আবাসিক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলামসহ বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনদের।

হাসান রাজিবের ফেসবুক স্টাটাস যা ছিল-

""মিল্টন""'......

ভাই তোর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি,!!! না ফেরার দেশে কেমন আছিস জানি না। তবে তোর এই শহীদি মৃত্যু বলছে তুই ভাল আছিস। জানিস তুই ছাড়া আমাদের যেন সব কিছুই থেমে গেছে। মা এখনো তোর কথা ভেবে জ্ঞান হারায়। আব্বু কান্না করে, মামুন ভাই আড়ালে চোখ লুকায়, জবা আপার করুণ চাহনি, বড় আব্বুর আহজারী, আমরা কেউই ভাল নেই। আকাশের ঐ তারার মাঝে তোকে খুঁজে ফিরি, কোন তারাটা তুই। আমি মানসিক ভাবে খুবই শক্ত ছিলাম। কিন্তু তোর মৃত্যু আমি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। তোর মৃত্যু জন্য কাকে দায়ী করব ? তোর ভাগ্য, টাকা ক্ষমতা, নাকি মনুষ্যত্ব ? হাতীবান্ধার সব বিবেক টাকার কাছে পরাজিত ! তোর মৃত্যু জন্য বিচার চাইব কার কাছে, সবাই বিক্রিত মাল! তোর মৃত্যু আমাকে অনেক কিছুই শিখিয়ে দিল। আল্লাহর দরবারে মোনাজাত থাকলো। আল্লাহ আমার ভাইটিকে জান্নাত নসীব করো। ইতি-তোর পরিবারবর্গ।

প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের কাছিম বাজার এলাকায় বিদ্যুৎতের তার সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে হয়ে ৪ জন বিদ্যুৎ শ্রমিক মারা যান। এ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড দাবী করে এবং হাতীবান্ধা বিদ্যুৎ’র আবাসিক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলামের শাস্তির দাবীতে আন্দোলন করে আসছে স্থানীয় বিদ্যুৎ শ্রমিকরা।

গো নিউজ২৪/এএইচ