১০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১:১৫ অপরাহ্ণ

ঢাকায় সৎমেয়েকে ধর্ষণ, সেই বাবা গ্রেপ্তার


গো নিউজ২৪ | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আপডেট: ১৩ জুলাই ২০১৭ বৃহস্পতিবার
ঢাকায় সৎমেয়েকে ধর্ষণ, সেই বাবা গ্রেপ্তার

ঢাকা: রাজধানীতে আট বছর ধরে সৎমেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন আরমান হোসেন ওরফে সুমন (৩৮) নামের ওই সৎবাবা।

বুধবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার আগে ঘটনার শিকার তরুণী রমনা থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার আরমান বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ২৪-এর শব্দ প্রকৌশলী।

মামলায় ঘটনার শিকার তরুণী অভিযোগ করেছেন, প্রায় এক যুগ আগে তার বাবার সঙ্গে তার মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর তার মা ২০০৫ সালে আরমান হোসেনকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের বছর খানেক পর থেকে মায়ের সঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নুরজাহান রোডের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন মেয়েটি। তখন সে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। চাকরির কারণে তার মা বাড়ি থেকে সকালে কর্মস্থলে চলে যেতেন।

২০০৮ সালে মেয়েটি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক দুপুরে সৎবাবা আরমান প্রথম তাকে ধর্ষণ করেন। সে সময় আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও মোবাইলে তুলে রাখেন। এরপর থেকে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সৎবাবা আরমান প্রায়ই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে আসছিলেন।

মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়, ২০১৫ সালে মেয়েটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকা অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আরমান তার গর্ভপাত ঘটান। এরপরও থেমে থাকেনি তার ওপর নির্যাতন। এক পর্যায়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়েটি তার এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে চলে যান। তবে সেখানে গিয়েও রেহাই পাননি। আরমান তাকে কুপ্রস্তাব পাঠাতে থাকেন। রাজি না হওয়ায় তরুণীর এক বন্ধুকে ভিডিও ও অডিও ক্লিপ পাঠান আরমান। শুধু তাই নয়, ফেসবুকে দুটি নকল আইডি খুলে মেয়েটির ছবি যুক্ত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তরুণীটি।

নিরূপায় হয়ে বর্তমানে ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ওই তরুণীটি মঙ্গলবার (১১ জুলাই) রাতে রমনা থানায় আরমানের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্ত করে সত্যতা খুঁজে পায় পুলিশ।

সাইবার ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল ইসলাম সুমন বলেছেন, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে।

গো নিউজ২৪