৮ কার্তিক ১৪২৪, মঙ্গলবার ২৪ অক্টোবর ২০১৭ , ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

টাটকা ইলিশের স্বাদ পেতে পদ্মার পাড়ে একদিন


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ০২ আগস্ট ২০১৬ মঙ্গলবার
টাটকা ইলিশের স্বাদ পেতে পদ্মার পাড়ে একদিন

 

অনেকদিন ধরে জল্পনা চলছিল এবারের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী ঢাকার আশেপাশে কোথাও করার। আমাদের এই ইচ্ছাকে বাস্তব রূপ দিতে এগিয়ে আসলো বন্ধু শহিদুল, উজ্জল ও মুক্তার। তাদের সকলের কর্মস্থল মুন্সীগঞ্জে হওয়ায় প্রস্তাব আসলো পদ্মার পাড়ে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা রিসোর্টে ইলিশের স্বাদে হবে এবারের ঈদ পরবর্তী আড্ডা। পুরো আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া হল বন্ধু শহিদুল, উজ্জল ও মুক্তারকে। যাত্রার সময় ঠিক করা হল ২৯ জুলাই ঠিক সকাল ৮টায়।

 

 

কাঁটাবনস্থিত বন্ধু সোহেল তানভীরের ওয়েস্টার্ণ কলেজ ক্যাম্পাস থেকে সকাল ৮টায় যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও সকাল ৯টার আগে কেউই আসতে পারেনি। তাই বিলম্বে সকাল ৯টা ১৫তে যাত্রা শুরু করলাম ঢাকা কলেজের ৯৪ ব্যাচের আমরা প্রায় ৬০ জন বন্ধু। সহজ রাস্তা পোস্তগোলা ব্রিজ বাদ দিয়ে একটু ঘুরপথে বছিলা ব্রিজ দিয়ে যেতে হল আমাদের। কারন একই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কয়েদী স্থানান্তরের জন্য হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে যাতায়াত সাময়িক বন্ধ ছিল।

 

 

পথিমধ্যে কেরানীগঞ্জের আটিপাড়া থেকে ১৫ মিনিটের দূরত্বে পড়ল বন্ধু সালাউদ্দিনের ছোট কিন্তু ছিমছাম সুন্দর দোতলা বাগান বাড়ি। সকালের নাস্তার আয়োজন করা হল সেখানেই। ডাল-মাংসের সাথে গরম পরোটা এবং কলা ছিল নাস্তার মেন্যু। আর বাগানের গাছের সুস্বাদু পেয়ারা ছিল আমাদের বাড়তি পাওনা। সালাউদ্দিনের আতিথীয়তায় আমরা সকলেই মুগ্ধ হলাম। সকালের নাস্তা সেরে সেখান থেকে আমরা সবাই রওনা হলাম গন্তব্য পদ্মা রিসোর্টের পথে। এরপর পথে সাময়িক যাত্রা বিরতি হলো আয়োজক বন্ধু শহিদুলের লৌহজংয়ের বাসায়।

 

 

দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ আমরা সবাই পৌঁছে গেলাম লৌহজং থানা মসজিদ ঘাটে। ঘাটে পদ্মা রিসোর্টের নিজস্ব নৌকা আগে থেকেই বাধা ছিল। ঘাট থেকে ৫ মিনিটের নৌকা জার্নি করে পদ্মার একটি ছোট অংশ পাড়ি দিয়ে পৌঁছে গেলাম পদ্মা রিসোর্টে। এখন ভরা বর্ষা, তাই রিসোর্টের আশেপাশে এবং কটেজগুলোর নীচে সব জায়গাতেই শুধু পানি আর পানি। রিসোর্টে পৌঁছে আর দেরি না করে কাপড় পাল্টে রেডি হয়ে গেলাম পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য। প্রথমে পদ্মা নদীতে নামলেও সেখানে অনেক স্রোত থাকায় সেখান থেকে ফিরে রিসোর্টের ভিতরে কোমড় সমান পানিতেই চলল বন্ধুদের দাপাদাপি। ঘন্টা খানেক দাপাদাপি করে ক্ষ্যান্ত হলাম সবাই।

 

 

পানিতে দাপাদাপি করে প্রচন্ড খিদে মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। তাই সাবাই ছুটলাম রেস্টুরেন্টের দিকে। রিসোর্টের ভিতরেই আছে রেস্টুরেন্ট। এবার দুপুরের খাবারের পালা। পদ্মা রিসোর্টে আমাদের আসার উদ্দ্যেশই ছিল পদ্মার টাটকা ইলিশের স্বাদ নেয়া। তাই মেন্যুতে ছিল ইলিশ আইটেমই বেশী। ভাতের সাথে ইলিশ ভাজা, সর্ষে ইলিশ, ইলিশ মাছের ভর্তা, সাথে ডাল, আলু ভর্তা ও সালাদ। অসাধারন ছিল সেই টাটকা ইলিশের স্বাদ। ভাত খাওয়ার পর আসলো লৌহজং এর বিখ্যাত স্পঞ্জের মিষ্টি ও দই। খাওয়া শেষ তাই এবার চলল বন্ধুদের সাথে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা সাথে একের পর এক সেলফি তোলা।

 

 

সন্ধ্যার আগে শুরু হল ফেরার পালা। তবে লৌহজং আসলাম আর মাওয়া ঘাটের মাছের বাজার না দেখলে কি চলে। তাই শেষ সময়ে কেউ কেউ চলে গেলেও আমরা কতিপয় বন্ধু গেলাম মাওয়া ঘাটে সন্ধ্যার মাছের বাজার দেখতে। থরে থরে সাজানো টাটকা মাছ দেখে অনেকেরই কেনার ইচ্ছা হল। তবে মাছের দাম শুনে সবাই কিছুটা হতাশ হলাম। এখানে মাছের দাম ঢাকার থেকেও অনেক বেশী।

 

 

তবে এরমধ্যেই বন্ধু সোহেল এক ডজন ইলিশ মাছ কিনে ফেলল সাড়ে তের হাজার টাকা দিয়ে। এরপর মাওয়া ঘাটকে বিদায় জানিয়ে ধরলাম ঢাকার পথ।

 

 

যারা পদ্মা রিসোর্ট যেতে চানঃ

পদ্মা রিসোর্ট ঢাকা থেকে ৫০ কি.মি. দূরে এবং মাওয়া থেকে ৭.২ কি.মি. পূর্বে। যেতে সময় লাগে পৌনে দুই থেকে দুই ঘন্টা। ঢাকার গুলিস্থান থেকে লৌহজং থানা মসজিদ ঘাট পর্যন্ত সরাসরি যে কেউ আসতে পারবেন গাংচিল পরিবহনে। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৪৫ টাকা। এছাড়াও মাওয়া ঘাটের মোড় পর্যন্ত বাসে এসে ১৫ মিনিটে অটো রিক্সায় করেও আসা যাবে পদ্মা রিসোর্টের এপারের ঘাটে।

 

 

মোট ১৬টি কটেজ নিয়ে তৈরী করা হয়েছে পদ্মা রিসোর্ট। এর মধ্যে ১২টি কটেজের নাম করা হয়েছে বাংলার ১২ মাসের নাম অনুযায়ী আর বাকি ৪টা নাম হয়েছে ঋতুর নামে। প্রতি কটেজ দোতলা করে, নীচ তলায় একটি ডাবল বেড ও দোতলায় দুইটি সিঙ্গেল বেড রয়েছে। প্রতি কটেজের সাথে রয়েছে একটি ব্যালকনি ও একটি বাথরুম।  

 

এখানে দুইভাবে রিসোর্ট ভাড়া নেয়া যায়। যারা সারাদিন থাকবেন তারা প্রতি কটেজ ২৩০০ টাকা (১৫% ভ্যাট সহ) দিয়ে ভাড়া নিতে পারবেন। এক কটেজে ১০ জন থাকা যাবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। আর যারা রাতে থাকতে চান তাদের জন্য কটেজ ভাড়া ৩৫০০ টাকা (১৫% ভ্যাট সহ), সকাল ১০টা থেকে পরের দিন সকাল ১০টা পর্যন্ত। এক্ষেত্রে এক কটেজে রাতে ৪ জন থাকতে পারবেন।

      

এখানে খাওয়ার জন্য রয়েছে রেস্টুরেন্ট যেখানে একসাথে ১২০ জনের খাবারের ব্যবস্থা আছে। প্রতি মিল ৩৫০-৪০০ টাকার মধ্যে পড়বে। এখানে খাবারের মেন্যুতে ইলিশ মাছসহ সব রকম খাবারেই ব্যবস্থা করা যাবে। যারা পদ্মা রিসোর্টে যেতে চান তারা যোগাযোগ করতে পারেন এই রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার নজরুল ইসলামের সাথে। যোগাযোগ – নজরুল ইসলাম (জেনারেল ম্যানেজার), মোবাইল– ০১৭১২১৭০৩৩০, ০১৭৫২৯৮৭৬৮৮, ফোন- ৮৬২৮৮৭৮, ঢাকা অফিস- ৬/এ-১, কনসেপ্ট টাওয়ার (৬ তলা), ৬৮-৬৯ গ্রীন রোড (পান্থপথ সিগন্যালের কাছে), ঢাকা-১২০৫। ই-মেইল - info@padmaresort.net, marketing@padmaresort.net, ওয়েবসাইট - www.padmaresort.net

 

সতর্কতাঃ

বর্ষাকালে পদ্মা রিসোর্টের আশেপাশে সব জায়গাতেই পানি থাকে এবং নদীতে অনেক ঢেউও থাকে। তাই এ সময় কেউ সাথে ছোট বাচ্চা নিয়ে গেলে খুবই সাবধানে থাকতে হবে। তবে সবচেয়ে ভাল হয় বাচ্চাদের নিয়ে শীতকালে সেখানে গেলে। তখন বিস্তীর্ণ চরে ঘুরাঘুরি করার সাথে পদ্মা নদীতে ট্রলারে করে ঘুরাও অনেক আনন্দদায়ক হবে।

 

গো-নিউজ২৪/বিএস/এএফ 

পর্যটন বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত