৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ , ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

টাকার জন্য এবারও কী ভর্তি হতে পারবে না রমজান?


গো নিউজ২৪ | জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০১৭ শনিবার
টাকার জন্য এবারও কী ভর্তি হতে পারবে না রমজান?

শেরপুর: শেরপুরের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী রমজান এবার নোয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে মেধা তালিকায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। মেধাবী শিক্ষার্থী রমজান আলী জেলার শ্রীবর্দী উপজেলার কুরুয়া নিমতলী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

এদিকে মেধাবী হলেও রমজান আলী ২০১২ সালে ৮ম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে কেবলমাত্র পেটের তাগিদে পারি জমান গাজিপুরে। সেখানে তিনি একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন।  আর বাবা রফিকুল ইসলাম গাজিপুরে ফুটপাতের উপর সবজি বিক্রি করতেন।  মা এবং তার ছোট বোন ৭ম শ্রেণির পাঠ চুকিয়ে রমজানের মতো একটি গার্মেন্টসে এ চাকরি নেন। আরেক ছোট বোন মায়ের সাথেই থাকে। 

রমজানের দাদা বাড়ি শেরপুর পৌরসভার তাতালপুর গ্রামে হলেও সেখানে কোনো ভিটেমাটি না থাকায় ছোটবেলা থেকেই শ্রীবর্দী উপজেলার কুরুয়া গ্রামে নানা বাড়ির আশ্রয়ে ছিলেন তারা। 

এদিকে মেধাবী রমজান পড়াশোনা ছেড়ে গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছে এমন খবর পেয়ে স্থানীয় খোরশেদ নামে এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে ঝিনাইগাতি উপজেলার কালিবাড়ি এলাকার স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া ‘দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থী উন্নয়ন সংস্থা’ (dops) এর সহায়তায় তাকে পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনা হয়। পড়ে তাকে ওই সংগঠনের সহায়তায় স্থানীয় বটপুর এইচপি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়।

সেখানে তিনি এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পান। কিন্তু অর্থের অভাবে আবারও রমজান গাজিপুরে তার বাবার কাছে ফিরে যান। এবারও শাহিন মিয়ার সহায়তায় রমজানকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে ময়মনসিংহ শহরের ‘এডভান্স রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে’ ভর্তি করা হয়। 

সেখানে তাকে বিনা পয়সায় লেখাপড়া করার সুযোগ করে দেয়া হয়। এখান থেকে তিনি ২০১৬ সলে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পান। এরপর চলে বিভিন্ন ভার্সিটিতে ভর্তির প্রতিযোগিতার লড়াই। 

গত বছরের ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমীতে ফিসারিজ বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান রমজান। কিন্তু সেখানে ভর্তির জন্য মোট ৮৪ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু তিনি ওই টাকা জোগার করতে না পেরে সেখানে ভর্তি হতে পারেন নি। কিন্তু দমে যায়নি রমজান। এবছরও বিভিন্ন ভার্সিটি পরীক্ষায় অংশ নেন। অবশেষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন তিনি। কিন্তু এবারও সেই পূর্বের শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। আগামী ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ভর্তি হতে হবে সেখানে। ভর্তির জন্য প্রায় ২৫ হাজার টাকার প্রয়োজন। তাই এবারও রমজান তার স্বপ্ন ফিকে হওয়ার দুশ্চিন্তায় আছেন।

বর্তমানে তার বা পরিবারের পক্ষে সেখানে ভর্তি হওয়ার মতো অর্থ জোগার করা সম্ভব নয়। তাই রমজান সহৃদয়বান ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছে ভর্তির টাকা জোগার করতে। মেধাবী রমজান এবার ভার্সিটিতে ভর্তি না হতে পাড়লে হয়তো তাকে তার বাবা-মা ও বোনের পথেই হাটতে হবে।

রমজান বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছে পড়াশোনা করে ভালো চাকরি করে সংসারের অভাব দূর করব এবং আমার মতো অভাবী শিক্ষর্থীদের জন্য কাজ করব। কিন্তু বারবার শুধু অর্থাভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে পেটের তাগিদে শ্রমের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এবারও আমি স্বপ্নের চূড়ান্ত পর্বে এসে আটকে গেলাম। আমাকে যদি কোনো বিত্তবান ব্যক্তি নোয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দিত তাহলে হয়তো আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হত।’

রমজানের সাথে যোগাযোগের মোবাইল নাম্বার-০১৯২৮-৫২৮২৪৩
 
গোনিউজ২৪/এমবি