১ পৌষ ১৪২৪, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

জয়ের প্রত্যাশায় মোস্তফা-ঝন্টু, শংকিত বাবলা


গো নিউজ২৪ | ফরহাদুজ্জামান ফারুক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ বুধবার
জয়ের প্রত্যাশায় মোস্তফা-ঝন্টু, শংকিত বাবলা

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াইয়ে রয়েছেন সাতজন। কিন্তু ভোটারদের সর্বাধিক আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন দুই প্রার্থী। একজন জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা অপরজন আওয়ামী লীগের সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। মূলত এই দুই প্রার্থীর মধ্য থেকেই একজন মেয়র নির্বাচিত হবেন। একারণে নিশ্চিত জয়ের প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন মোস্তফা ও ঝন্টু।

অন্যদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শংকিত বিএনপির কাওছার জামান বাবলা। তারপরও ভোটযুদ্ধের প্রচারণায় বাবলা ও তার কর্মী-সমর্থকরা কোমর বেঁধে মাঠে রয়েছে। আর অন্য চার মেয়র প্রার্থীর মধ্যে নেই তেমন কোনো জোরালো প্রচারণার ছাপ।

আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় রংপুর সিটির নির্বাচনকে ঘিরে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লার ভোটারদের কাছে এখন আলোচনার একটাই বিষয়- ‘নতুন নাকি পুরাতন’। মেয়র পদে সাত প্রার্থীর মধ্যে সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নগরপিতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাকি ছয়জনের স্বপ্ন এখনো ধরাশয়ী। 

এরমধ্যে এবার সেই স্বপ্ন পূরণে ভোটারদের সর্বাধিক আলোচনায় উঠে আসছে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নাম। যদিও জাতীয় পার্টি থেকে মোস্তফার বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছে এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ।

এদিকে ৪ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর অনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মেয়র প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। সবাই জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করলেও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হবার আশা জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। 

তিনি বলেন, এরশাদ একজন ব্যতিক্রমী রাজনীতিক। রংপুর এরশাদের দুর্জয় ঘাটি। এই ঘাটিতে অন্য কারো স্থান নেই। বিগত সকল সিটি নির্বাচনের রেকর্ড ভঙ্গ করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমি লাঙ্গল প্রতীককে জয়ী করে সারাদেশ এবং বিশ্ববাসিকে দেখিয়ে দিতে চাই। 

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকের সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু বলেন, এই মুহুর্তে রংপুরের আওয়ামীলীগ, সহযোগি ও অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য কাজ করছে। বিগত দিনের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমি জয়ী হবো। এসময় তিনি ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনে শংকিত বিএনপির কাওছার জামান বাবলা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার আগেই দুটি প্রধান দলের প্রার্থী যেভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করেছে। তাতে এই নির্বাচন নিয়ে আমরা শংকিত। এভাবে চলতে থাকলে এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। 

ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত যত নির্বাচন হয়েছে, দেশের মানুষ তা দেখেছেন। বিগত সময়ের বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের এই শংকাটা বেশি। একারণেই এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দরকার রয়েছে। এসময় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ভোটাররা ভোট দিতে পারলে ধানের শীষের পক্ষে ব্যালট বিপ্লব হবে বলে দাবি করেন তিনি। 

এছাড়াও জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ  বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমাকে কেন এখনও দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে না বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। আমাকে যদি ওনারা বহিস্কার করেন, তাহলে আমার জন্য ভালো। তা না হলে আমাকেই পদত্যাগ করতে হবে।

সাবেক এই এমপি বলেন, আমি বিএনপি প্রার্থীর মতো সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছি না। তবে তাদের আশংকার সাথে আংশিকভাবে একমত পোষণ করি।

উল্লেখ্য, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন, ১১টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের জন্য ৬৫ জন এবং ৩৩টি সাধারণ কাউন্সিলর পদের ২১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রত্যাশিত এই ভোট। নগরীর মোট ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ১’শ ৭৭টি গোপন কক্ষে ভোট প্রদান করবেন ভোটাররা। এবার সিটিতে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪২১ ভোটার রয়েছেন। যা গত নির্বাচনের চেয়ে ৩৬ হাজার ভোটার বেশী। এরআগে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশনে প্রথমবারের মতো নির্দলীয় ভোট হয়েছিল।

গো নিউজ২৪/এবি